সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ৪০০% বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে আহমেদ আল-শারা নেতৃত্বাধীন বর্তমান সিরিয়া সরকার। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
রবিবার (৫ জানুয়ারি) দেশটির অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থমন্ত্রী মোহাম্মদ আবাজেদ এ ঘোষণা দেন।
মোহাম্মদ আবাজেদ বলেন, “দক্ষতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে মন্ত্রণালয়গুলোর প্রশাসনিক পুনর্গঠন সম্পন্ন করার পর আগামী মাসে সরকারি খাতের অনেক কর্মচারীর বেতন ৪০০% বৃদ্ধি করবে সরকার।”
অর্থমন্ত্রী বলেন, “বিদ্যমান রাষ্ট্রীয় সম্পদ, আঞ্চলিক সহায়তা, নতুন বিনিয়োগ এবং বিদেশে রাখা সিরিয়ার সম্পদের সমন্বয়ে এই অর্থায়ন করা হবে। দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতার জরুরি সমাধানের পথে এটিই প্রথম পদক্ষেপ।”
এ জন্য আনুমানিক ১.৬৫ ট্রিলিয়ন সিরীয় পাউন্ড বা প্রায় ১২৭ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হবে বলেও জানিয়েছেন আবাজেদ। দীর্ঘ ১৩ বছরের সংঘাত ও নিষেধাজ্ঞার পর সিরিয়ার অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে নতুন সরকারের বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
আবাজেদ বলেন, “ক্ষমতাচ্যুত বাশার আল-আসাদের শাসনামলে সরকারি খাতের কর্মচারীদের মাসে গড়ে প্রায় ২৫ ডলার বেতন দেওয়া হতো। এটি কর্মচারীদের এবং দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীকে দারিদ্র্যসীমার নিচে নিয়ে গেছে।”
যদিও সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় কোষাগার যুদ্ধের কারণে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকে থাকা অর্থের বেশিরভাগই সিরিয়ার মুদ্রা। যার তেমন কোনো মূল্য নেই। তবে নতুন সরকারকে আঞ্চলিক ও আরব দেশগুলো থেকে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “অদূর ভবিষ্যতে দেশে বিনিয়োগ শুরু হলে রাষ্ট্রীয় কোষাগারও উপকৃত হবে এবং আমরা এই বেতন বৃদ্ধির অর্থায়ন করতে পারব।”
তিনি জানিয়েছেন, বিদেশে জব্দ করা সিরিয়ার সম্পদের মধ্যে ৪০০ মিলিয়ন ডলার পুনরুদ্ধারের আশা করা হচ্ছে। এই অর্থ প্রাথমিক সরকারি ব্যয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
সিরিয়ার তত্ত্বাবধায়ক সরকার করদাতাদের যতটা সম্ভব জরিমানা এবং সুদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা করছে। ন্যায়সম্মত করের জন্য আগামী তিন মাসের মধ্যে কর ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর বিষয়ে কাজ চলছে।



সিরিয়ার প্রধানমন্ত্রী: এখন সময় শান্তি ও স্থিতিশীলতার