ধরুন, খোলামাঠে ১০-১২জন মিলে জম্পেশ একটা আড্ডায় বসেছেন, এরমধ্যে একজনকেই সমানে মশা কামড়ে যাচ্ছে, এরকম কিন্তু অহরহই হচ্ছে। বেশিরভাগ সময় একে কাকতালীয় বলে উড়িয়ে দিলেও কোনো কোনো মানুষকে অতিরিক্ত মশা কামড়ানোর পেছনে কিন্তু রয়েছে বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা।
আনন্দবাজার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বেশকিছু লক্ষণের কারণেই বেশি আকৃষ্ট হয় মশা। চলুন জেনে নেওয়া যাক এসব লক্ষণগুলো!
শরীর থেকে নির্গত কার্বন ডাই অক্সাইড আকৃষ্ট করে এডিস মশাকে!
মশার শুঁড়ে থাকা এক ধরনের সেন্সর যাতে প্রায় ১০০ ফুট দূর থেকেও নিঃশ্বাসের সঙ্গে নির্গত কার্বন ডাই অক্সাইয়ের উপস্থিতি টের পায়। যিনি ব্যায়াম করেন বা দ্রুত হাঁটেন তাদের ঘন ঘন নিঃশ্বাস নেওয়ার কারণে কার্বন ডাই অক্সাইড কার্বন ডাই অক্সাইড বেশি বার হয়। এটি আকৃষ্ট করে এডিস ও ম্যালেরিয়ার মশাকে।
রক্তের গ্রুপ
একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, ‘ও’ পজিটিভ এবং ‘ও’ নেগেটিভ রক্তের গ্রুপের মানুষদের মশাদের বেশি কামড়ায়। এরপরই রয়েছে ‘বি’ গ্রুপের মানুষজনেরা। যদিও মশারা এই রক্তের গ্রুপের পার্থক্য করে কীভাবে করে তা নিয়ে গবেষণা চলমান।
নির্দিষ্ট রক্তের গ্রুপের মানুষজনের ত্বক থেকে বিশেষ রকম রাসায়নিক সঙ্কেত পাওয়া যায় যা মশারা সহজেই চিনে ফেলতে পারে।
ঘামে থাকা প্রোটিনের গন্ধ
মানুষের শরীর থেকে যে ঘাম নির্গত হয়, তাতে ল্যাকটিক অ্যাসিড, ইউরিক অ্যাসিড এবং অ্যামোনিয়া থাকে। যারা বেশি ঘামেন, তাদের শরীর থেকে এই যৌগগুলিও বেশি নিঃসৃত হয়। ফলেও মশারাও তাদের দিকে বেশি আকৃষ্ট হয়।
দেহের উচ্চ তাপমাত্রাও দায়ী
মশাদের ত্বকে থাকা থার্মোরিসেপ্টর খুব সূক্ষ্ম ভাবে শারীরিক উত্তাপ বা তাপমাত্রার পার্থক্য ধরে ফেলতে পারে। বিশেষ করে ব্যায়াম বেশি করেন বা জ্বরে আক্রান্ত মানুষের শরীরের তাপমাত্রা সাধারণের চেয়ে বেশি থাকে। আর এগুলোই মশাদের আকর্ষণ করে।
অতিরিক্ত মদ্যপান
মদ বেশি খেলে মশাও বেশি কামড়াবে, এমনটা গবেষকেরা জানাচ্ছেন। শরীরে অ্যালকোহল ঢুকলে রক্তনালি প্রসারিত হয় এবং ত্বকে রক্তপ্রবাহ বাড়ে। এর ফলে ঘামের সঙ্গে ইথানল বার হয়, যা শুঁকতে পারে মশারা। বেশি মদ্যপানে শরীরের তাপমাত্রাও বাড়ে যা মশারা সহজেই ধরে ফেলে।
ব্যাক্টেরিয়ার উপস্থিতি
মানুষের ত্বকে অণুজীব বা ব্যাক্টেরিয়া কম-বেশি থাকে। ত্বকে কিছু বিশেষ প্রজাতির ব্যাক্টেরিয়া থাকলে সেগুলির দিকে বেশি আকৃষ্ট হয় ম্যালেরিয়া এডিসর মশারা। ফলে সেই সব মানুষকেই মশা বেশি কামড়ায়।



