Tuesday, August 25, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

৪৮ ঘণ্টায় কলকাতার ২২১ হোটেল বন্ধ, বিপাকে ৭ হাজার বাংলাদেশি পর্যটক

পর্যটকদের নিরাপত্তায় জিরো টলারেন্স অবস্থানের কথা আগেই জানিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ

আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১২:৪৭ এএম

কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর ন্যূনতম অগ্নিনির্বাপণ সুরক্ষা বিধি না মানায় একের পর এক হোটেল-রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দিচ্ছে কলকাতা প্রশাসন। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে মিনি বাংলাদেশ খ্যাত মারকুইজ স্ট্রিট, কলিন স্ট্রিট, সদর স্ট্রিট ও মির্জা গালিব স্ট্রিট এলাকায় বন্ধ হয়েছে দুইশর বেশি হোটেল, যার প্রভাবে বিপাকে পড়েছেন হাজার হাজার বাংলাদেশি পর্যটক।

পর্যটকদের নিরাপত্তায় জিরো টলারেন্স অবস্থানের কথা আগেই জানিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ প্রশাসন। মির্জা গালিব স্ট্রিটের অগ্নিকাণ্ডের পর সেদিন সন্ধ্যা থেকেই অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা যাচাইয়ে অভিযানে নামে নিউমার্কেট থানার পুলিশ, যাতে সরাসরি অংশ নেন পশ্চিমবঙ্গের উপমুখ্যমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। অভিযানে দেখা যায়, অনেক হোটেলে ফায়ার লাইসেন্স, ফায়ার অ্যালার্ম কিংবা জরুরি সিঁড়ি নেই, এমনকি ফায়ার অডিট ও প্রয়োজনীয় পুলিশ পারমিশনও নেই বহু প্রতিষ্ঠানের।

গত শনিবার থেকে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ২২১টি হোটেল ও ৯টি রেস্তোরাঁ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, পাশাপাশি সুরক্ষা বিধি লঙ্ঘনের কারণে একাধিক হোটেলের বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

একের পর এক হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছেন নিউমার্কেট এলাকায় অবস্থানরত বাংলাদেশি পর্যটকরা। বর্তমানে কলকাতায় অবস্থানরত প্রায় ১১ হাজার বাংলাদেশি পর্যটকের মধ্যে সাত হাজারই আছেন এই এলাকায়। অনেকে বাধ্য হয়ে কলকাতা ছাড়ছেন, আবার অনেকে নতুন হোটেল খুঁজছেন। এই সুযোগে কিছু হোটেল দেড় থেকে দ্বিগুণ পর্যন্ত ভাড়া বাড়িয়ে দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে।

কলকাতার পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরাও উদ্বিগ্ন, কারণ এই এলাকাকে ঘিরে গড়ে উঠেছে হোটেল, খাবারের দোকান, পরিবহন ও কেনাকাটার বড় অর্থনীতি, যা এমনিতেই সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চাপে ছিল। গ্রিন লাইন পরিবহনের শ্যামল ঘোষ জানান, সীমান্ত থেকে পূর্ণ যাত্রী নিয়ে বাস কলকাতায় পৌঁছালেও এখন তাদের থাকার মতো পর্যাপ্ত হোটেল নেই। তিনি প্রশাসনের জিরো টলারেন্স অবস্থানকে সমর্থন করলেও হোটেল মালিকদের কিছুটা সময় দেওয়ার আহ্বান জানান।

ব্যবসায়ীদের মতে, টুরিস্ট ভিসা চালুর পর পর্যটক আসা যখন কিছুটা বাড়ছিল, ঠিক তখনই এই হোটেল বন্ধের ঘটনা বড় ধাক্কা দিয়েছে খাতটিতে। তবে প্রশাসনের ভাষ্য, পর্যটকদের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না এবং অগ্নিনিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনকারী হোটেলগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার গভীর রাতে কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটে "শিখা ইন" আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে ৯ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশি ও দুজন ভারতীয় নাগরিক।

   

About

Popular Links

x