ওজন বেড়ে যাওয়া বা ওবেসিটি আজকাল এক ধরনের ব্যাধির আকার ধারণ করেছে। ঘরে ঘরে মুটিয়ে যাওয়ার সমস্যা। একদম নিয়ম মেনে স্বাস্থ্যকর খাবার খাচ্ছেন, তেল-চর্বিযুক্ত খাবার তো পাতেই উঠছে না, ব্যায়ামও করছেন ঘড়ি ধরে অথচ তাও ওজন কমছে না!
কেন এমন হয় জানেন?
খাবার স্বাস্থ্যকর হলেই পরিমাণটা ঠিক রাখতেই হবে
অনেক পুষ্টিকর খাবারেই ক্যালোরি বেশি থাকে। বাদাম, অ্যাভোকাডো, বীজ, পনির কিংবা পিনাট বাটার তার উদাহরণ। এসব খাবার নিয়মিত খাওয়া ভালো হলেও প্রয়োজনের অতিরিক্ত খেলে শরীরে বাড়তি ক্যালোরি জমতে পারে। সালাদ বা অন্য খাবারের সঙ্গে অতিরিক্ত ড্রেসিং, বাদাম কিংবা তেল যোগ করলেও একই ঘটনা ঘটতে পারে। তাই খাবারের গুণের পাশাপাশি পরিমাণের দিকেও নজর রাখা জরুরি।
ব্যায়ামের বাইরে দিনের বাকি সময়টাও গুরুত্বপূর্ণ
কেউ নিয়মিত ব্যায়াম করলেও দিনের বড় একটি অংশ যদি বসে কাটান, তাহলে মোট শারীরিক কার্যকলাপ কমে যেতে পারে। অফিসে দীর্ঘ সময় বসে থাকা, বাড়িতে কাজের সময় নড়াচড়া কম করা বা যাতায়াতে সবসময় গাড়ির ওপর নির্ভর করার ফলে দৈনিক ক্যালোরি খরচ কমে যায়। সুযোগ পেলেই হাঁটা, সিঁড়ি ব্যবহার বা কাজের মাঝে উঠে দাঁড়ানোর মতো অভ্যাস এতে সহায়ক হতে পারে।
রাতের ঘুম কম হলে খাবারের ওপরও প্রভাব পড়ে
ঘুমের ব্যাঘাত হচ্ছে না তো?
ঘুমের ঘাটতি শুধু ক্লান্তিই বাড়ায় না, ক্ষুধা ও পেট ভরা থাকার অনুভূতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে দিনের বেলায় বেশি খাওয়ার ইচ্ছা তৈরি হতে পারে। ক্লান্তির কারণে শারীরিক কাজের পরিমাণও কমে যেতে পারে। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনায় নিয়মিত ঘুমকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
‘হালকা খাবার’ খেতে খেতেও বাড়তে পারে ক্যালোরি
একবারে বেশি না খেয়ে সারাদিন টুকটাক কিছু খাওয়ার অভ্যাস থাকলেও ওজন বাড়তে পারে। দই, শুকনো ফল, স্মুদি, গ্রানোলা বা প্রোটিন বারের মতো খাবার উপকারী হলেও এগুলো থেকে পাওয়া ক্যালোরি হিসাবের বাইরে চলে যেতে পারে। তাই প্রতিবার কিছু খাওয়ার আগে ক্ষুধা অনুভূত হচ্ছে কি না, সেটি বোঝার চেষ্টা করা দরকার।
কিছু রোগ ও ওষুধও ওজন বাড়াতে পারে
খাদ্যাভ্যাস ঠিক থাকার পরও ওজন বাড়তে থাকলে শারীরিক কারণ বিবেচনা করা দরকার। থাইরয়েড কম সক্রিয় হলে ওজন বৃদ্ধির পাশাপাশি ক্লান্তি, কোষ্ঠকাঠিন্য বা বেশি ঠান্ডা লাগার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। PCOS-এর সঙ্গেও ওজন বৃদ্ধি ও ওজন কমাতে অসুবিধার সম্পর্ক রয়েছে। আবার কিছু অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট, স্টেরয়েড ও ডায়াবেটিসের ওষুধ ওজনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ না বুঝে ওজন বাড়তে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।



