আজ রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ম দিবসের দ্বিতীয় ও শেষ দিনের কর্মসূচি উৎসবমুখর পরিবেশে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। দিনব্যাপী আয়োজনে অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, আমন্ত্রিত অতিথি, সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
রবিবার (২৬ জুলাই) সকাল ৯:০০টায় বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের শোভাযাত্রার মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। শোভাযাত্রাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী একাডেমিক ভবন-২ থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে অস্থায়ী একাডেমিক ভবন-৩-এ গিয়ে শেষ হয়। পরে বেলুন উড্ডয়ন এবং জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে পরবর্তী অনুষ্ঠান শুরু হয়।
সকাল ১০:০০টায় অনুষ্ঠিত হয় নবীনবরণ ও রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় বৃত্তি-২০২৬ প্রদান অনুষ্ঠান। উক্ত অনুষ্ঠানে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক তাহ্মিনা আখতার-এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা আসন-৩০ এর মাননীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা।
স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন মাননীয় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. সুমন কান্তি বড়ুয়া এবং অনুষ্ঠানের শেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. ফিরোজ আহমদ।
সভাপতির বক্তব্যে মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক তাহ্মিনা আখতার সকল নবীন শিক্ষার্থীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রমের প্রশংসাসহ ভবিষ্যৎ করনীয় বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি সৃজনশীলতার চর্চা ও মানবিক গুনাবলী অর্জনের প্রতিও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। উপাচার্য মহোদয় শিক্ষার্থীদের সকল নেতিবাচকতা পরিহার করে আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং নিজেকে যোগ্য করে গড়ে তোলার পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
তিনি উল্লেখ করেন যে, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে মেধার অনুশীলন ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজ অবস্থান তৈরী করে সমাজ ও দেশ গঠনে শিক্ষার্থীদের ভুমিকা রাখতে হবে।
মাননীয় উপাচার্য মহোদয় উল্লেখ করেন যে, সফল মানুষদের জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজের জীবনের সঠিক লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে এবং সেই স্বপ্ন পূরণে যথাযথভাবে নিজেকে গড়ে তোলার পরামর্শ দেন।
এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে মাননীয় উপাচার্য মহোদয় বিশ্ববিদ্যালয় দিবস আয়োজনে উপস্থিত হওয়ার জন্য সকল সম্মানিত অতিথিদের বিশেষ কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। এছাড়াও আয়োজন সংশ্লিষ্ট সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আন্তরিক ধন্যবাদ দিয়ে তিনি বক্তব্য শেষ করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস ও নবীনবরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবনে উচ্ছ্বাস-উদ্দীপনার পাশাপাশি গভীর পড়াশোনা ও কঠোর সংগ্রামের মানসিকতা রাখার জন্য নবীন শিক্ষার্থীদের প্রতি আহবান জানান।
এরপর তিনি ব্যক্তিগত জীবনে ফ্যাসিবাদের কঠোর আক্রোশের মধ্যেও নিজের পড়াশোনা ও নিজেকে যোগ্য করে গড়ে তোলার জন্য নিজের ত্যাগ ও কঠোর একাগ্রতার গল্প বলে শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা দেন এবং সেখান থেকে শিক্ষা গ্রহণের পরামর্শ দেন। তিনি রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি আধুনিক ও মানসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণসহ সার্বিক সহায়তার আশ্বাস প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়া নবীন শিক্ষার্থীদের মাঝে শুভেচ্ছা উপহার বিতরণ করা হয়। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতি ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের হাতে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় বৃত্তি-২০২৬ তুলে দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, শনিবার (২৫ জুলাই) রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের প্রথম দিনের অনুষ্ঠান নানান আয়োজনের মধ্যদিয়ে উদযাপন করা হয়। উক্ত আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, এমপি এবং জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজসহ অন্যান্যরা।



