Sunday, August 30, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

‘তরুণরা চান কর্মসংস্থান, ব্যবসায়ীরা চান সরকারি সহযোগিতা’

শনিবার রাজশাহীতে পিপিআরসি আয়োজিত আঞ্চলিক যুব পরামর্শ সভায় এসব দাবি তুলে ধরা হয় 

আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০২:৫৩ পিএম

রাজশাহীতে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) আয়োজিত আঞ্চলিক যুব পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে একদিকে যেমন তরুণ ও যুবকেরা চাচ্ছেন কর্মসংস্থান, অপরদিকে ব্যবসায়ীরা তাদের বিজনেস ডেভেলপমেন্ট করে অধিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য চাইছেন গ্যাস, বিদ্যুৎ, পরিবহন সহ সরকারি অন্যান্য সহযোগিতা।  

শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে রাজশাহীতে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) আয়োজিত আঞ্চলিক যুব পরামর্শ সভায় এসব বিষয় উঠে আসে।

সভায় বিশ্ববিদ্যালয় ও পলিটেকনিক শিক্ষার্থী, ফ্রিল্যান্সার, তরুণ উদ্যোক্তা, পেশাজীবী, স্বেচ্ছাসেবক, যুব সংগঠক ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

শিক্ষা, ব্যবহারিক দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের মধ্যে আরও শক্তিশালী সংযোগ তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন রাজশাহীর তরুণরা। একইসঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে সীমিত কর্মসংস্থান, কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগের অভাব, নতুন উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন সংকট এবং নিয়োগে ন্যায্যতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা। অংশগ্রহণকারীরা বলেন, অনেক তরুণ ডিগ্রি বা প্রশিক্ষণ শেষ করলেও পর্যাপ্ত ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা ও ইন্টার্নশিপের সুযোগ পান না। বিশেষ করে কারিগরি শিক্ষায় দক্ষতা অর্জনের পরও রাজশাহীতে সেই দক্ষতা কাজে লাগানোর মতো কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত। ফলে অনেককে ঢাকাসহ অন্যান্য শিল্পাঞ্চলে যেতে হচ্ছে।

রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ডিপ্লোমা শিক্ষার্থী ও যুবনেতা মোহাম্মদ শাকিল মন্ডল বলেন, “পর্যাপ্ত স্কিল নিয়ে বের হওয়ার পরও আমরা সুযোগের অভাবে এগুলো স্থানীয়ভাবে কাজে লাগাতে পারছি না। আমাদের ঢাকায় গিয়ে চাকরি করার পরামর্শ দেওয়া হয়।”

সভায় দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির ফলাফল নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। অংশগ্রহণকারীরা বলেন, “কতজন প্রশিক্ষণ নিয়েছেন বা কতটি সনদ দেওয়া হয়েছে, তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রশিক্ষণ কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধিতে কতটা ভূমিকা রাখছে।”

পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, “আমরা হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নিতে পারি, অসংখ্য দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি চালাতে পারি; কিন্তু মূল প্রশ্ন হলো এগুলোর ফল কী হচ্ছে। সেই অভিজ্ঞতা কি তাকে উৎপাদনশীল কর্মসংস্থানে নিয়ে গেল?”

তিনি আরও বলেন, “রাজশাহীর উন্নয়নকে শুধু বৃহৎ শিল্পায়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে কৃষি, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, রেশম, হস্তশিল্প, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পর্যটন ও সৃজনশীল শিল্পের মতো স্থানীয় সম্ভাবনাময় খাতকে গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, ‘রাজশাহীকে সিঙ্গাপুর, লন্ডন বা অন্য কোথাও হতে হবে না। রাজশাহীকে আরও উন্নত রাজশাহী হতে হবে।”

সভায় তরুণ উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন সংকট, নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাব ও তদবির, নারীদের নিরাপত্তা ও চলাচলের সীমাবদ্ধতা এবং প্রতিবন্ধী ও আদিবাসী তরুণদের সুযোগের অভাব নিয়েও আলোচনা হয়। আলোচনার সারসংক্ষেপে ড. রহমান তরুণদের অগ্রগতির জন্য ব্যক্তিগত প্রচেষ্টা, সামাজিক মানসিকতা, প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যবস্থাগত বাধা এবং মানুষ, প্রতিষ্ঠান, তথ্য ও বাজারের সঙ্গে সংযোগকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

একই দিনে বিকেলে ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে রাজশাহীর শিল্পপতি, ব্যবসায়ী ও সফল উদ্যোক্তাদের নিয়ে আরেকটি রাউন্ড টেবিল ডিসকাশন করেন অর্থনীতিবিদ হোসেন জিল্লুর রহমান। ওই অনুষ্ঠানে রাজশাহী চেম্বার অব কর্মাসের প্রতিনিধিত্বকারী অংশগ্রহণকারী সহ রাজশাহী অঞ্চলের শিল্প, পরিবহন, এগ্রো ভিত্তিক চাষী ও ব্যবসায়ী, আইটি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য সহ বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ীরা অংশগ্রহণ করেন।

পিপিআরসি-তে অংশগ্রহণকারী ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা রাজশাহী অঞ্চলে ব্যবসার সুবিধা, অসুবিধা, সম্ভাবনা ও তা বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। রাজশাহীতে অধিক কর্মসংস্থান কিভাবে বাড়ানো যায় এবং একটি সমৃদ্ধ নগরীর কিভাবে গড়ে তোলা যায় তা নিয়েও বিশদ আলোচনা হয়। সভায় ব্যবসায়ীরা বিনিয়গের জন্য ব্যাংক থেকে সহজলভ্য ঋণ, বিডার কার্যকর পদক্ষেপ, অতিরিক্ত ভ্যাট ও ট্যাক্স আরোপ ও নানান জটিলতা সহ সরকার কর্তৃক বিভিন্ন পরিকল্পনা এবং পদক্ষেপ গ্রহণের কথা তুলে ধরেন।

দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশনের সহায়তায় পরিচালিত ‘Youth Economic Engagement in Post-Uprising Bangladesh: Opportunities, Entry Points and Institutional Barriers’ শীর্ষক গবেষণার অংশ হিসেবে এ পরামর্শ সভার আয়োজন করা হয়।

   

About

Popular Links

x