ইরানের ইসলামি বিপ্লবের ৪৫তম বিজয় বার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদ ভবনের মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের উদ্যোগে “ইরানের ইসলামি বিপ্লব ও এর নয়া বার্তা” শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হক।
ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কালচারাল কাউন্সিলর সাইয়েদ রেজা মির মোহাম্মদির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইরানের আল-মুস্তাফা আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. আলি আব্বাসি, বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মানসুর চাভুশি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. জিয়া রহমান।
সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্সি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. কে এম সাইফুল ইসলাম খান এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের গভর্নর মাওলানা ড. মোহাম্মদ কফিলউদ্দিন সরকার সালেহী।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হক বলেন, “ইরানের ইসলামি বিপ্লব দুনিয়ার মুসলমানের কাছে, মুসলিম-অমুসলিম নির্বিশেষে সমগ্র মানবতার কাছে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। ঐতিহাসিক এই বিপ্লবের চার দশকের সাফল্য আজ চোখে পড়ার মতো। দশকের পর দশক ধরে চলমান নানা ষড়যন্ত্র ও কঠিন অবরোধের মধ্যেও বিশ্বের অনেক দেশের চেয়ে দ্রুতগতিতে সামনের দিকে এগিয়ে চলেছে দেশটি। আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইরান বিস্ময়কর অগ্রগতি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিভিন্ন উন্নয়ন সূচকে শক্তিশালী অবস্থান বলে দিচ্ছে দেশটি অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলেছে। শিক্ষা, বিজ্ঞান, উদ্ভাবন, প্রযুক্তিগত উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এখন নেতৃস্থানীয় দেশের তালিকায় রয়েছে ইরান।”
মন্ত্রী আরও বলেন, “ইমাম খোমেইনির (র.) নেতৃত্বে ইরানের ইসলামি বিপ্লব রেজাশাহ পাহলাভির দুঃশাসন থেকে দেশটির জনগণকে মুক্ত করেছিল। কিন্তু এই বিপ্লবের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই ষড়যন্ত্র ও মিথ্যাচার হয়েছে। যা এখনও চলছে। শত্রুদের এসব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে অবস্থিত ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের রাষ্ট্রদূত মানসুর চাভুশি বলেন, “ইরানের ইসলামি বিপ্লব দেশটিকে বিশ্বের মাঝে নতুন আঙ্গিকে তুলে ধরেছে। আলো এলে যেমন অন্ধকার দূরীভূত হয়, তেমনি সত্য প্রতিষ্ঠিত হলে অন্যায়-অসত্য দূরীভূত হয়। ইরানের ইসলামি বিপ্লব অন্যায়ের বিরুদ্ধে সত্যকেই প্রতিষ্ঠিত করেছে।”
অনুষ্ঠানে আল-মুস্তাফা আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. আলি আব্বাসি বলেন, “বস্তুবাদী চিন্তাধারার ঊর্ধ্বে উঠে মহান আল্লাহর দেখানো পথের ওপর ভিত্তি করে ইরানে ইসলামি বিপ্লব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলেই দেশটি আজ বিভিন্ন ক্ষেত্রে চোখ ধাঁধানো সাফল্য অর্জন করেছে। সম্প্রতি মহাকাশে একসঙ্গে তিনটি কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠিয়েছে ইরান। দেশটির প্রয়োজনীয় ওষুধের ৯৮% আজ নিজেরাই তৈরি করছে। ইসলামি বিপ্লবের আগে ইরানের মানুষের গড় আয়ু ছিল ৫৪%। বিপ্লবের পরে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নতির ফলে দেশটির জনগণের গড় আয়ু এখন ৮৬.৫%।”
ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কালচারাল কাউন্সিলর সাইয়েদ রেজা মির মোহাম্মদি বলেন, “ইরানে যখন ইসলামি বিপ্লব হয়, তখন সারা বিশ্বে ব্যাপক হৈচৈ পড়ে যায়। বিশ্বের সংবাদমাধ্যমগুলোর শীর্ষ খবরে স্থান পায় ইরানের ইসলামি বিপ্লব। কারণ এই বিপ্লবে নতুন বার্তা ছিল যা বিশ্বকে আকৃষ্ট করেছে। তা-না হলে এই বিপ্লব সারা বিশ্বে এমন সাড়া জাগাতে পারে না।”
তিনি বলেন, “দিন বিবর্জিত কোনো মতধারা মানুষকে মুক্তি দিতে পারে না। একমাত্র সত্য ও ন্যয়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত মতবাদই মানুষকে মুক্তি দিতে পারে, যার উৎকৃষ্ট উদাহরণ ইরানের ইসলামি বিপ্লব।”



