Tuesday, September 29, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

নিখোঁজ শিশুকে খুঁজতে ‘মুন অ্যালার্ট’, যেভাবে পাবেন এই সেবা

এর মাধ্যমে নিখোঁজ শিশুর তথ্য দ্রুত অনেক মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১৪ পিএম

বিকেলের হালকা আলো তখনো মিলিয়ে যায়নি। পার্কের এক কোণে রঙিন বেলুন আর আইসক্রিমওয়ালার হাঁকডাকের মাঝে হঠাৎ এক কান্নার আওয়াজ - না, শিশুর কান্না নয়, এক মায়ের হাহাকার। মুহূর্তেই যেন থমকে গেল চারপাশের গুঞ্জন। মাত্র কয়েক সেকেন্ডের অসাবধানতায় ভিড়ের মধ্যে উধাও শিশু। 

একটি শিশু হারিয়ে যাওয়ার খবর মানেই একটি পরিবারের কাছে পৃথিবীর শেষ আলোটুকু নিভে যাওয়ার মতো আতঙ্ক। প্রথম কয়েক ঘণ্টার প্রতিটি মিনিট যেন এক একটি শতাব্দীর চেয়ে দীর্ঘ। কী করবেন? কোথায় যাবেন? কার কাছে আকুতি জানাবেন?

কোনো শিশু নিখোঁজ হলে প্রথম কয়েক ঘণ্টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে ‘মুন অ্যালার্ট’ নামে একটি সেবা চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে নিখোঁজ শিশুর তথ্য দ্রুত অনেক মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। এতে শিশুটিকে খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

বাংলাদেশ পুলিশের ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি) ও অ্যাম্বার অ্যালার্ট ফর বাংলাদেশ যৌথভাবে ‘মুন অ্যালার্ট’ সেবা চালু করেছে। নিখোঁজ শিশুর তথ্য দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে এই ব্যবস্থায় টোল-ফ্রি হটলাইন ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা যায়।

যেভাবে নিখোঁজ শিশুর তথ্য জানাবেন

১৩২১৯ নম্বরে কল: মুন অ্যালার্টের টোল-ফ্রি হটলাইন ১৩২১৯। এই নম্বরে ফোন করে নিখোঁজ শিশুর তথ্য জানানো যাবে।

অনলাইনে আবেদন: munalert.org ওয়েবসাইটে গিয়ে নিখোঁজ শিশুর জন্য অ্যালার্ট দেওয়ার আবেদন করা যায়।

দ্রুত জানানো জরুরি

কোনো শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর প্রথম তিন ঘণ্টাকে গুরুত্বপূর্ণ সময় বা ‘গোল্ডেন টাইম’ হিসেবে ধরা হয়। তাই শিশু নিখোঁজ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিবারকে পুলিশকে জানানোর পাশাপাশি মুন অ্যালার্টেও তথ্য দেওয়ার উদ্যোগ নিতে হবে।

মুন অ্যালার্ট পুলিশের বিকল্প নয়। বরং পুলিশের অনুসন্ধান কার্যক্রমের তথ্য দ্রুত আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে এটি সহায়ক হিসেবে কাজ করে।

অ্যালার্ট চালু হলে ফেসবুক, টিকটক ও ইনস্টাগ্রামসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের কাছে নিখোঁজ শিশুর ছবি ও তথ্য পৌঁছাতে পারে। প্রয়োজনে মেট্রোরেল স্টেশন, এটিএম বুথ ও ব্যাংকের ডিজিটাল স্ক্রিনেও শিশুটির তথ্য দেখানো হতে পারে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, প্রয়োজন হলে মসজিদের মাইকেও নিখোঁজের ঘোষণা দেওয়া যেতে পারে।

মুন অ্যালার্টের সঙ্গে মেটার অংশীদারত্ব রয়েছে। এর মাধ্যমে ফেসবুক, মেসেঞ্জার ও ইনস্টাগ্রামে নির্দিষ্ট এলাকার মানুষের কাছে নিখোঁজ শিশুর বিষয়ে নোটিফিকেশন পাঠানো সম্ভব।

অ্যালার্ট পেলে যা করবেন

মুন অ্যালার্টের নোটিফিকেশন পেলে শিশুটির ছবি ও পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য ভালোভাবে দেখুন। শিশুটিকে কোথাও দেখে থাকলে নিজে গিয়ে পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা না করে পুলিশ বা অ্যালার্টে দেওয়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

মুন অ্যালার্টের উদ্দেশ্য হলো নিখোঁজ শিশুর তথ্য দ্রুত বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া, যাতে সাধারণ মানুষও শিশুটিকে খুঁজে বের করতে পুলিশকে সহায়তা করতে পারেন।

এই ব্যবস্থার কার্যকারিতা নির্ভর করবে নিখোঁজের খবর কত দ্রুত জানানো হচ্ছে, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কতটা কার্যকরভাবে কাজ করছে, অ্যালার্ট কত মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে এবং তথ্য পাওয়ার পর সাধারণ মানুষ কত দ্রুত তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাচ্ছেন - এসব বিষয়ের ওপর।

সচেতনতা

প্রযুক্তি যত উন্নতই হোক না কেন, অভিভাবকের সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। ভিড়ের মধ্যে শিশুর হাত শক্ত করে রাখা, শিশুর পকেটে বা জামার ভেতরের অংশে অভিভাবকের ফোন নম্বর লেখা ছোট কার্ড রাখা এবং শিশুকে শেখানো-হারিয়ে গেলে যেন কোনো ইউনিফর্ম পরা পুলিশ সদস্যের কাছে সাহায্য চায়।

   

About

Popular Links

x