Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

হঠাৎ আলোচনায় ‘টাইপ ৫ ডায়াবিটিস’, শিশুদের জন্য হতে পারে মারাত্মক

আইডিএফ জানিয়েছে, নতুন এই ডায়াবিটিসে শিশুরাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছে

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০২৫, ০৬:৪৬ পিএম

ডায়াবিটিস মানেই আতঙ্ক। এক সময় মনে করা হতো ডায়াবেটিস বয়স্কদের রোগ; কিন্তু বর্তমান সময়ে অনেক তরুণ-তরুণীও এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ডায়াবিটিস ফেডারেশন (আইডিএফ) কমবয়সীদের মধ্যে এক ধরনের নতুন ডায়াবিটিসের সন্ধান পেয়েছেন।  বিশেষ করে আফ্রিকা ও এশিয়ার নিম্নআয়ের দেশগুলোর দরিদ্র কম বয়সিরা এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।  নতুন ধরনের এ ডায়াবেটিসের নাম দেওয়া হয়েছে “টাইপ ৫ ডায়াবিটিস”। 

আইডিএফ জানিয়েছে, নতুন এই ডায়াবিটিসে শিশুরাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে এখন পর্যন্ত ৩ কোটি শিশুর মধ্যে এই ধরনের ডায়াবিটিস ধরা পড়েছে বলে জানিয়েছে আইডিএফ।

টাইপ ৫ ডায়াবিটিস কী?

ডায়াবিটিস বলতে বলতে এতদিন যে ধারণা ছিল, টাইপ ৫ তা থেকে একদমই আলাদা। সহজ করে বললে, টাইপ ১ ডায়াবিটিস হলো অটোইমিউন ডিজঅর্ডার। অগ্ন্যাশয়ে অবস্থিত ইনসুলিন উৎপাদনকারী কোষক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ফলে যখন মানুষের শরীরে ইনসুলিন উৎপাদন একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়, সে অবস্থাকে টাইপ ১ ডায়াবিটিস বলা হয়।

আর টাইপ ২ হয় খাদ্যাভ্যাস বা ওজন সংক্রান্ত কারণে। এক্ষেত্রে ইনসুলিন উৎপাদনকারী কোষগুলো ক্ষতিগ্রস্থ হয় না, কিন্তু শরীর ইনসুলিন গ্রহণে বাধা দেয়। অর্থাৎ ইনসুলিন হরমোনকে পুরোপুরি ব্রাত্য করে দেয় শরীর, তখন গ্লুকোজ জারিত হতে পারে না, ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়তে থাকে।

টাইপ ৩ ডায়াবিটিসে মস্তিষ্কের ক্ষতি হয়। অ্যালঝাইমার্সের রোগীদের এই ধরনের ডায়াবিটিস হতে দেখা যায়।

তবে টাইপ ৫ এর ক্ষেত্রে এ সব কিছুই হয় না। এটি মূলত হয় অপুষ্টির কারণে। অস্বাস্থ্যকর খাওয়াদাওয়া, সঠিক পুষ্টির অভাবে শরীরে ইনসুলিন তৈরিই হতে পারে না। তখন রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়তে থাকে।

আইডিএফ-এর গবেষকেরা জানাচ্ছেন, টাইপ ৫ ডায়াবিটিস হঠাৎ করে হয় না। অর্থাৎ অস্বাস্থ্যকর খাওয়াদাওয়া শুরু করলেন মানেই যে এই ডায়াবিটিস হবে, তা নয়। বছরের পর বছর ধরে অপুষ্টির শিকার হলে, তখন এই রোগ হবে। ভারত, আফ্রিকার মতো দেশে টাইপ ৫ ডায়াবিটিসে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বেশি বলেই জানিয়েছেন গবেষকেরা। সচেতনতার অভাবে এই রোগটি ধরাই পড়েনি এত দিন।

নতুন রোগ নয়

হঠাৎ করে টাইপ ৫ ডায়াবিটিস নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও এটি নতুন কোনো রোগ নয়।  ১৯৫৫ সালে জামাইকায় রোগটি প্রথম ধরা পড়ে।

আইডিএফ-এর প্রেসিডেন্ট পিটার শোয়ার্জ জানিয়েছেন, জামাইকায় যখন রোগটি ধরা পড়ে, তখন মনে করা হয়েছিল, এটি অপুষ্টিজনিত কোনো অসুখ। এটিও যে ডায়াবিটিসের একটি রূপ, তা তখন বুঝতে পারেননি চিকিৎসকেরা। ১৯৮৫ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) অপুষ্টিজনিত ডায়াবিটিসকে “বিরল রোগ” হিসেবে চিহ্নিত করে, কিন্তু তথ্যের অভাবে রোগটি তাদের তালিকা থেকে বাদ যায় ১৯৯০ সালে। এরপর ২০২২ সালে ভারতের ভেলোরের ক্রিশ্চিয়ান মেডিকল কলেজের চিকিৎসক নিহাল টমাস রোগটির ব্যাপারে তার গবেষণাপত্রে লিখেছিলেন।

তিনি জানান, অপুষ্টিজনিত কারণেও ডায়াবিটিস হয়। কিন্তু তথ্যের অভাবে সেটি নিয়ে আর চর্চা হয়নি।

বর্তমানে নিউ ইয়র্কের অ্যালবার্ট আইনস্টাইন কলেজ অব মেডিসিনের চিকিৎসক মেরেডিথ হকিংস রোগটি নিয়ে গবেষণা করছেন।

তিনি জানিয়েছেন, টাইপ ৫ ডায়াবিটিস নতুন রোগ নয়। অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুরা এই রোগে বেশি আক্রান্ত হয়। বর্তমান সময়ে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। কেবল রোগটিকে সঠিকভাবে শনাক্ত করা প্রয়োজন।

চিকিৎসা

ডায়াবিটিসের অন্যান্য টাইপগুলোর মতে টাইপ ৫ ডায়াবিটিসের উপসর্গও অনেকটা একই রকম। ওজন কমে যাবে বা বেড়ে যাওয়া, বারে বারে প্রস্রাব পাওয়া, অতিরিক্ত জল পিপাসা, রক্তে শর্করার মাত্রা ওঠানামা করা, হরমোনের ভারসাম্য বিগড়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেবে। পাশাপা, দৃষ্টিশক্তি কমবে, স্নায়বিক রোগও দেখা দিতে থাকবে।

তবে টাইপ ৫ ডায়াবিটিসের চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে এখনও জানা যায়নি। যেহেতু রোগটি সম্পর্কে তেমন কোনো তথ্য ছিল না, তাই এটির চিকিৎসা নিয়ে তেমন আলোচনা হয়নি। তবে গবেষকেরা বলছেন, টাইপ ৫ ডায়াবিটিস প্রাণঘাতী হতে পারে। তাই যত দ্রুত সম্ভব রোগটির শনাক্তকরণের পদ্ধতি ও প্রতিরোধ করার উপায় বের করার চেষ্টা চলছে।

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা অবলম্বনে

   

About

Popular Links

x