Sunday, May 26, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

সূর্যের আলো না পেলে ঠিকমতো চলে না শরীরের ঘড়ি

আমাদের জীবনে সূর্যের আলোর ভূমিকা যে কতটা হতে পারে, সে বিষয়ে অনেকেই সচেতন নন। কৃত্রিম আলোর থেরাপি বিকল্প হলেও সেক্ষেত্রে সঙ্গে চাই তাজা বাতাস

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০২২, ০৫:৪২ পিএম

আমাদের জীবনে সূর্যের আলোর ভূমিকা যে কতটা হতে পারে, সে বিষয়ে অনেকেই সচেতন নন। কৃত্রিম আলোর থেরাপি বিকল্প হলেও সেক্ষেত্রে সঙ্গে চাই তাজা বাতাস।

আলো মানুষের মনে আনন্দ জাগায়। বিশেষ করে স্বাভাবিক সূর্যের আলো আমাদের মন-মেজাজ সত্যি ভালো রাখে। কিন্তু বছরের শীতল ও অন্ধকার সময়ে অনেক মানুষ এক সমস্যার মুখে পড়েন। তারা সূর্যের আলোর মুখ খুব কম দেখেন। তখন আমাদের হরমোন নিঃসরণ প্রক্রিয়া এলোমেলো হয়ে যায়, যার পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে।

মনোরোগ বিশেষজ্ঞ প্রফেসর মাজদা আদলি বলেন, “শীতের মাসগুলো অপেক্ষাকৃত অন্ধকার হয়। ফলে বেশি মেলাটোনিন নিঃসৃত হয়। মেলাটোনিন আমাদের ক্লান্ত করে তোলে, কারণ সেটি ঘুমের হরমোন। ফলে শীতের ঋতুতে অনেক মানুষ বেশি ক্লান্তি বোধ করেন, শরীরে জোর পান না। অনেকে তথাকথিত ‘উইন্টার ব্লুজ’-এ ভোগেন।”

কিন্তু “উইন্টার ব্লুজ”-এর অর্থ কী? হাসপাতালে আলোর থেরাপির সময়ে প্রতিদিন আধ ঘণ্টা করে দিনের আলোর মতো দেখতে কৃত্রিম বাতির সামনে বসে থাকতে হয়। সেটি সূর্যের আলোর স্পেকট্রাম নকল করে, যা আমাদের ঘুমানো ও জেগে থাকার চক্রের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

প্রফেসর আদলি মনে করেন, “আলোর থেরাপি ঠিকমতো প্রয়োগ করা জরুরি। তার জন্য বিশেষ লাইট থেরাপি যন্ত্র রয়েছে। বেশিরভাগ যন্ত্র ১০,০০০ লাক্স আলো বিকিরণ করে। এমন বাতির সামনে সাধারণত সকালে আধ ঘণ্টা সময় কাটাতে হয়। সে সময়ে কিছু পড়া যায়, সামান্য কাজ করা যায় অথবা প্রাতরাশ করা যায়। সব কোণ থেকে রেটিনায় আলো পড়া জরুরি।”

বাতির প্রকার অনুযায়ী আলোর তেজ ও পদ্ধতি বদলে যায়। কিন্তু থেরাপি কখনো ৩০ মিনিটের বেশি হতে পারে না। এই সময়ই যথেষ্ট। কয়েকটি সেশনের পরেই প্রায় সব রোগীই ইতিবাচক পরিবর্তন টের পান।

আলো আমাদের শরীরের নিজস্ব বায়োলজিক্যাল ক্লকের উপর প্রভাব ফেলে। ২৪ ঘণ্টার চক্র অনুযায়ী সেটি কাজ করে এবং শরীরের সব জৈবিক প্রক্রিয়া নির্ধারণ করে। সেই ঘড়ি যাতে ঠিকমতো চলে, তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত সমন্বয় করা জরুরি।

সেই সিনক্রোনাইজেশন প্রক্রিয়ার খাতিরে শরীরের ঘড়ির দিনের আলোর প্রয়োজন হয়। ক্রোনোবায়োলজিস্ট হিসেবে প্রফেসর আখিম ক্রামার বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করেছেন।

তিনি বলেন, “জন্মসূত্রেই আমাদের অন্তরে এক শান্ত ভাব থাকে। তবে সেটা মোটেই ২৪ ঘণ্টা দীর্ঘ হয় না। প্রতিদিন সূর্যের আলোর মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টার জন্য সিনক্রোনাইজ করতে হয়। সেটা ছাড়া আমরা ২৪ ঘণ্টার ছন্দে বাঁচতে পারতাম না। সে কারণে আমাদের বিশেষ করে সকালের স্বাভাবিক আলোর প্রয়োজন হয়।”

রেটিনার ব্লু লাইট রিসেপ্টরে আলো ধরা পড়ে। সেই সংকেত মিডব্রেনে পৌঁছে শরীরের নিজস্ব ঘড়ি সিনক্রোনাইজ করে।

প্রফেসর ক্রামার বলেন, “আসলে শরীরের সব প্রক্রিয়া সেই ‘ইনার ক্লক’ দ্বারা পরিচালিত হয়। ঘুমানো ও ঘুম থেকে ওঠার ছন্দ থেকে শুরু করে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, কিডনির ক্রিয়া, মেটাবোলিজম বা বিপাক, রোগ প্রতিরোধ ইত্যাদি অনেক কিছুই শরীরে ঘড়ির মাধ্যমে ঘটে। আমরা সতর্ক না হলে এবং যথেষ্ট আলোর মাধ্যমে ভালোভাবে সিনক্রোনাইজ না হলে নানা প্রচলিত রোগের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।”

লাইট থেরাপি শীতকালেও দৈনন্দিন জীবনের ছন্দ স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে এবং মনও তরতাজা রাখে। কিন্তু মনে রাখতে হবে যে, প্রকৃত অবসাদের ক্ষেত্রে এই থেরাপি কাজ করে না। শীতকালে হালকা অবসাদ দেখা দিলে অবশ্য দুই সপ্তাহের মধ্যেই কিছুটা উন্নতি লক্ষ্য করা যায়।

তাছাড়া দিনের বেলা যতবার সম্ভব বাসা থেকে বের হওয়া জরুরি। কারণ, তাজা বাতাস নিতে নিতে শরীরের মুভমেন্ট আমাদের মনমেজাজের উপর ইতিবাচক প্রভাব রাখে।

About

Popular Links