ভাষার নদী বিস্তৃর্ণ। এ স্রোতে বাঁধও পড়ে। তবু ভাষা থামে না। কূলে কূলে বয়ে যাওয়ার সাক্ষ্য রাখে। জনপদ বদলায়। বদলায় ভাষাও। মানুষের ইতিহাস ভাষা বদলের ইতিহাস বললে কি বেশি বলা হয়ে যায়?
এই স্বপ্রবাহমান সত্ত্বা ভাষা নিয়ে ভাবেন ক'জন? যাদের ভাববার ও করার কাজ তারা নিভৃতেই তা করে যাচ্ছেন। “বরিশালের আঞ্চলিক ভাষার কোষ” গ্রন্থটি আমাদের সে নিশ্চয়তা যোগায়। বইটির পূর্ণাঙ্গ রূপ দক্ষিণ বাংলা জনপদের ঐতিহ্যবাহী বরিশালের প্রতি এক অন্য দৃষ্টিপাত ঘটাতে পারে।
আলোচ্য বইটিতে বরিশালের ভাষা নিয়ে বৈচিত্র্যময় কাজ করেছেন মো. কাইমুল ইসলাম ও বইয়ের সহযোগী সংগ্রাহক মোহাম্মদ রুহুল আমিন। বইয়ের শুরু অংশ “ভণিতা” এ কাইমুল ইসলাম লিখেছেন,
“শব্দ সংগ্রহকালে বরিশালের কথ্য ভাষার ৪টি বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণ করি। তা হলো-
১. কাব্যধর্মিতা।
২. কৌতুক প্রিয়তা।
৩. ত্যাজোদ্দিপ্ততা।
৪. প্রতীক ও রূপকের ব্যবহার।”
মানুষের কথ্য ভাষাকে গবেষকের দৃষ্টিতে এভাবেই শনাক্ত করেছেন শ্রমনিষ্ঠ ও ভাষানিষ্ঠ মো. কাইমুল ইসলাম। ১১৯ পৃষ্ঠার এ বইয়ে শব্দ সংকলিত হয়েছে প্রায় ২,৩০০। লেখক নিজেই একে পূর্ণাঙ্গ কাজ মনে করেন না। হারিয়ে যাওয়া ভাষা রক্ষার টানে অন্য পেশাজীবী হয়েও এতে ব্রত হয়েছেন তিনি। বইয়ে সংকলিত হয়েছে বরিশালের বিভিন্ন জনপ্রিয় প্রবাদ। বইয়ের শেষ অংশে গ্রন্থিত হয়েছে বরিশালের অঞ্চলে প্রচলিত হিসাব নিকাশের এককের বিশ্লেষণে।
গোলাকায়নের বাস্তবতায় ভিন্ন ভাষার চর্চা এখন স্বাভাবিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। একে দোষ হিসেবেও দেখা চলে না। তখন স্বভূমে স্বীয় শিকড়ের দিকে তাকানো ব্যতিক্রম বলা যায়। “এবং মানুষ” প্রকাশনী কর্তৃক প্রকাশিত ২৫০ টাকা মূল্যের “বরিশালের আঞ্চলিক ভাষার কোষ” বইটির ভিন্ন মাত্রা এমন বহু কারণেই।



