Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

তরমুজের খোসা খাবেন যে কারণে

আসুন, জেনে নিই তরমুজের খোসার পুষ্টিগুণ ও খাওয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে

আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০২৩, ১১:৪৭ এএম

সুস্বাদু ও পুষ্টিকর ফল হিসেবে তরমুজ বেশ জনপ্রিয় ফল। আর গরমে প্রশান্তি দিতে তরমুজ তো অতুলনীয়। তরমুজের প্রায় ৯২% পানি, তাই, শরীরে পানির অভাব পূরণে তরমুজ একটি চমৎকার ফল। এতে আছে প্রচুর ভিটামিন এ, সি, বি৬, পটাশিয়াম ও ফাইবার।

আমরা সাধারণত তরমুজের লাল অংশটুকুই খেয়ে থাকি। আর এর খোসা বা ভেতরের সাদা অংশ ফেলে দিই। তবে এই অংশ পুষ্টিগুণে তরমুজের চেয়ে কোনো অংশেই কম নয়।

তরমুজের খোসাকে ইংরেজিতে বলে Watermelon rind। এতে রয়েছে প্রচুর পানি, অল্প পরিমাণ ভিটামিন সি, এবং বি৬। এছাড়া তরমুজে রয়েছে সিট্রালিন। যা এক ধরনের অ্যামাইনো অ্যাসিড, যেটি আমাদের শরীরে প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হয়। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে, হার্ট এবং রক্তনালীকে সুস্থ রাখতে সাপ্লিমেন্ট হিসেবেও এটি খাওয়া হয়। আমাদের কিডনি সিট্রালিনকে রাসায়নিকভাবে রূপান্তর করে আরজিনিন নামক আরেকটি অ্যামাইনো অ্যাসিড এবং নাইট্রিক অক্সাইড তৈরি করে। নাইট্রিক অক্সাইড আমাদের রক্তনালীসমূহকে প্রসারিত করে এবং রক্তের সঞ্চালন বাড়িয়ে দেয়। তাই এটি উচ্চ-রক্তচাপ কমাতে সহায়তা করে। বেশ কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে সিট্রালিন পুরুষদের যৌন সমস্যা ইরেকটাইল ডিসফাঙ্কশনেও বেশ কার্যকরী।



তরমুজের এই সাদা অংশে রয়েছে প্রচুর ফাইবার।এটি নিয়মতি খেলে তাই হজমের সমস্যা ও কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে দূরে থাকা যায়। 

এছাড়া, তরমুজেরে রক্তে কোলেস্টেরল এবং শর্করার মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। তরমুজের খোসায় ক্যালোরির পরিমাণ কম থাকে। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক এটি। তরমুজের খোসায় লাইকোপেন জাতীয় উপাদানের উপস্থিতি রয়েছে। উপাদানটি জ্বালাপোড়া কমিয়ে আর্থ্রাইটিসের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।

যেভাবে খাবেন

তরমুজের খোসা রান্না করেও যেমন খাওয়া যেতে পারে। তেমনি কাঁচা অবস্থায় সালাদ বা জুস হিসেবে খাওয়া যায়। তরমুজের খোসা দিয়ে আঁচার ও হালুয়াও তৈরি করা যায়।

তরমুজের খোসা লাউয়ের মতো ছোট ছোট টুকরো করে ডাল, টমেটো, শুটকি মাছ ইত্যাদির সঙ্গে রান্না করে খেতে পারেন। খেতে অনেকটা চাল কুমড়ার মতো লাগবে। তবে রান্নার চেয়ে কাঁচা খেতে পারলে বেশি উপকারী।

সালাদ হিসেবে খেতে হলে প্রথমেই উপরের সবুজ অংশটুকু ফেলতে হবে। তারপর ছোট ছোট টুকরো করে লবণ, গোলমরিচের গুঁড়ো, পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ এবং অলিভ বা সরিষার তেল মাখিয়ে নিতে হবে। 

জুস করতে হলে উপরের সবুজ অংশ না ছাড়ালেও চলবে। ভালো করে ধুয়ে, ছোট ছোট পিস করে ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করলেই হবে। সঙ্গে দিতে পারেন বরফকুচি ও পুদিনা পাতা।

তরমুজের খোসা দিয়ে ডিটক্স ওয়াটার বানিয়েও পান করতে পারেন পারেন। এজন্য বোতল ভর্তি পানিতে তরমুজের খোসার সাদা অংশ টুকরা করে দিয়ে দিন। সঙ্গে পুদিনা পাতা, লেবু বা শসাও দিতে পারেন। সারারাত এভাবে রেখে পরদিন পান করুন।

   

About

Popular Links

x