তখনও এখনের মতো। বিকেল স্বল্পায়ু। আসরের পর যেন মুহূর্তে ছায়ারা পশ্চিমে এলায়। এর মধ্যে ঘটে যায় অনেক কিছু। রমিজ আলীর বাড়ির পাশের কথা ধরা যাক। দেয়াল ঘেঁষে রিকশার গ্যারাজ, বস্তি। সেখানের এক কোণে পাটি পাতা। সারাদিনের ট্রিপের বৃত্তান্ত নিয়ে কথা বলেন চালকেরা। এর মধ্যে ওঠে গ্রামের কথা। কার পাট ভালো কিন্তু চাইলে ধরা, বাস টিকিটের দাম বাড়িছে ৪০ টাকা, কার ছেলেডার অসুখ . . . ইত্যকার।
সেদিনও এদিনের মতো। ছিল শ্রাবণের রবিবার। গ্যারাজে ফোনে লুডু খেলা হচ্ছিল। বস্তিতে হৈচৈ তুঙ্গে। মহল্লার মাতবরের পোলায় আকাম করছে শেষ ঝুপড়ির জরিনার লগে। জটলা জরিনাকে ঘিরে। অনেকে অনেক কথা বলেন। ‘‘হ্যার বাপে পার্টির সেক্রেটারি। থানায় গিয়া লাভ নাই''- বললেন এক প্রবীণজনে। ১২ বছরের জরিনার বাবা নেই। মা কাছের গার্মেন্টের অপারেটর। তিনি মেয়েকে মারতে মারতে চললেন জটলা ভেঙে নিজের ঝুপড়ির দিকে। কাঁদতে কাঁদতে বলছিলেন,
: কতবার কইছি তোরে সাইজ্জ্যা বেলায় বাইরে যাবি না।
সে রাতও এ রাতের মতো। ছিল এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং। অন্ধকারে বস্তির আসমার মা প্রথম চিৎকার করেন।
: আগুন, আগুন . . .
তুমুল সাড়া পড়ে রিকশার গ্যারাজ আর বস্তিময়। আগুন ততক্ষণে দোতলার উচ্চতায়। ঘরে ঘরে জমানো টাকার খোঁজ পড়ে। যে যেভাবে পারে। ট্যাকেটুকে, কেউ পলিথিনে। এরপর চলে আগুন নেভানোর চেষ্টা। কারেন্ট না থাকায় পানির মেশিন চালু করা যায় না। দাউদাউয়ে দ্রুতই সব শেষ। ফায়ার সার্ভিস এসে পানি ঢালে ছাইয়ে।
সে মধ্যরাতও এ রাতের মতো। শুধু রমিজ আলীর ঘুম আসে না। স্ত্রী জয়নবও নীরব। উত্তর না পেলেও রমিজ বলে যান।
: বউ, পাশের প্লটের ডেভেলপার কোম্পানি আরও জায়গা চায়। কিন্তু দাম কয় কম। কত পুরান বাসা আমাগো। থাকতে পারমু আমরা ফেলাডে। নাকি মহল্লাই ছাইড়্যা যামু গা?



