বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাড়তে শুরু করেছে করোনাভাইরাসের প্রকোপ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলছে, বিশ্বজুড়ে ফের শুরু হয়েছে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রকোপ। বিশ্বে গত এক মাসে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের হার বেড়েছে ৫২% । সেই সঙ্গে বাড়ছে মৃত্যুর হারও।
বাংলাদেশেও বাড়তে শুরু করেছে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ হার। দীর্ঘদিন ধরে বাংরাদেশে করোনাভাইরাসের শনাক্তের হার ১% আশপাশে ছিল। তবে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার বেড়েছে ২% এর বেশি।
বিশ্বে করোনাভাইরাস মহামারি ফিরে আসছে কি-না, তা নিয়েও রয়েছে শঙ্কা। তাই হালকা সর্দিজ্বরের মতো সাধারণ উপসর্গ দেখা দিলেও সতর্ক হতে বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
উপসর্গ মৃদু হলেও সতর্কতা জরুরি। কারণ, করোনাভাইরাসের নতুন উপধরনও বেশ সংক্রামক। আপনি মৃদু উপসর্গে ভুগে হয়ত কিছুদিন পর সেরে উঠবেন। কিন্তু সংক্রমণের সময়সীমার মধ্যে আপনি যদি এমন কারও সংস্পর্শে আসেন, যিনি উচ্চ ঝুঁকিতে আছেন, তার জন্য কিন্তু তা মারাত্মক সংক্রমণের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
পঞ্চাশোর্ধ্ব ব্যক্তি, দীর্ঘমেয়াদি রোগ, যেমন ডায়াবেটিস বা কিডনির রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি, আগে থেকেই হৃৎপিণ্ড বা ফুসফুসের সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তি এবং অন্তঃসত্ত্বা নারীরা উচ্চ ঝুঁকিতে আছেন তাদের দিকে বাড়তি খেয়াল রাখতে হবে।
করোনাভাইরাসের নতুন উপধরনের উপসর্গ
জ্বর
সর্দি
নাক বন্ধ
কাশি
গলাব্যথা
শ্বাসপ্রশ্বাসে অসুবিধা
শরীরব্যথা
মাথাব্যথা
বমিভাব বা বমি
পাতলা পায়খানা
পেটব্যথা
ঘ্রাণ বা স্বাদের অনুভূতির পরিবর্তন
করণীয়
এসব উপসর্গের কোনোটি দেখা দিলে অবশ্যই সচেতন হোন, যাতে আপনার কাছ থেকে অন্য কেউ সংক্রমিত হতে না পারে। যতটা সম্ভব, ঘরেই থাকুন। ঘরে এবং বাইরে মানসম্মত মাস্ক পরুন। ব্যক্তিগত ব্যবহার্য সামগ্রী কারও সঙ্গে ভাগাভাগি করবেন না। চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
প্রতিরোধের প্রস্তুতি
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্যও সচেতন থাকুন। ঘরের বাইরে গেলেই মাস্ক পরার অভ্যাস ফিরিয়ে আনুন। হাত জীবাণুমুক্ত রাখুন। কফ, থুতু ফেলুন নির্দিষ্ট স্থানে। ব্যবহৃত টিস্যু বা রুমাল যেখানে সেখানে রাখবেন না। বাড়িতে বাতাস প্রবাহের সুযোগ বাড়িয়ে দিন। সম্ভব হলে অতিরিক্ত ভিড়ের স্থান এড়িয়ে চলুন। করোনাভাইরাসের টিকা নেওয়া না থাকলে তা নেওয়ার ব্যবস্থা করুন।



