Saturday, June 22, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

হারলেম থেকে ফিলিস্তিন: ইন্তিফাদার বিশ্বায়ন

গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে সাংবাদিক আর প্রত্যক্ষদর্শীদের আটকে রাখা হয় আশেপাশের ভবনে। যাতে আমাদের ওপর অত্যাচারের সাক্ষী না থাকে। ভবনের বাইরে যারা প্রতিবাদ করছিলেন তাদের গ্রেপ্তারে খড়গহস্ত হয় স্ট্র্যাটেজিক রেসপন্স গ্রুপ

আপডেট : ১৭ মে ২০২৪, ০২:৪২ পিএম

ফিলিস্তিনে গণহত্যার প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে ছড়িয়ে পড়ে আন্দোলন। সেই আন্দোলনে চলে পুলিশি দমন-পীড়ন। বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ভবনের নিয়ন্ত্রণ নেয় আন্দোলনকারীরা।

আন্দোলনকারীরা তাদের অবস্থান সম্পর্কে গত সপ্তাহে একটি বিবৃতি দেয়। বিবৃতিটি তুলে ধরা হলো-

২০২৪ সালের ৩০ এপ্রিল সকালবেলা। কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির হ্যামিল্টন হল থেকে শুরু হয় আমাদের প্রবল সংগ্রাম। পুলিশের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে এর দুই সপ্তাহ আগে শত শত মানুষের অংশগ্রহণে বাটলার লনে প্রতিষ্ঠিত হয় গাজা সলিডারিটি এনক্যাম্পমেন্ট। 

এই এনক্যাম্পমেন্ট বা সংহতি শিবিরই সাম্রাজ্যবাদী গণহত্যার প্রতিবাদে বিশ্বজুড়ে আন্দোলন জোরদারে মুখ্য ভূমিকা রাখে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ভবনে সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা গণহত্যার বিরুদ্ধে চাপ প্রয়োগের জন্য কর্তৃপক্ষকে বাধ্য করার একটি প্রয়াস।

আমাদের বক্তব্য হলো-

হ্যামিল্টন হলে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার কারণ হলো আমরা যুক্তরাষ্ট্রের মদদে ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর গণহত্যার বিরুদ্ধে।

হলের নাম এখন হিন্দের নামে

গত ২৯ জানুয়ারি গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয় ছয় বছর বয়সী হিন্দ রজব। জীবনের শেষ মুহূর্তগুলো সে কাটিয়েছে একটা বুলেটবিদ্ধ গাড়ির ভেতরে, চারপাশে ছিল স্বজনদের লাশ। ১২ দিন পর তার দেহাবশেষ ও স্বজনদের উদ্ধারের জন্য ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন দুই উদ্ধারকর্মী। ফেরার পথে জায়নবাদীদের মিসাইলের আঘাতে বিধ্বস্ত হয় তাদের অ্যাম্বুলেন্স।

কলম্বিয়ার উত্থান, জেগেছি আমরাও

কলম্বিয়া যুক্তরাষ্ট্রের একটি অভিজাত বিশ্ববিদ্যালয়। ব্ল্যাকরক, ক্যাটারপিলার, গুগল এবং এয়ারবিএনবির মতো প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে ১৩.৬ বিলিয়ন ডলার অনুদান পেয়েছে তারা। এসব প্রতিষ্ঠান ফিলিস্তিনে জমি দখলের পৃষ্ঠপোষক। ক্যাম্পাসে ফিলিস্তিনপন্থি শিক্ষার্থীরা অবিরাম গণহত্যায় লগ্নি থেকে বিরত থাকার দাবি জানিয়ে আসছে।

গত মাসে গাজার অবস্থা আরও খারাপ হয়। মৃত্যুর সংখ্যা পৌঁছায় ৪২ হাজারে। আহত হন লাখ লাখ মানুষ। রাফায় আক্রমণ চলছে। এরই মধ্যে গণহত্যার বিরোধিতা করা শিক্ষার্থীদের ওপর কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষের এমন আচরণ দমনমূলক। ১৯৬৮ সালের পর গত ১৮ এপ্রিল ক্যাম্পাসে সবচেয়ে বড় গণগ্রেপ্তার চালানো হয়।

তাই চুপ করে বসে না থেকে আমরাও হিন্দ হলের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছি।

আমরা সবাই বহিরাগত আন্দোলনকারী

আমরা কারা? আমাদের মধ্যে অনেকে বহিষ্কারের শঙ্কায় থাকা শিক্ষার্থী। বাকিরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মী, শিক্ষক, সাবেক শিক্ষার্থী এবং কমিউনিটি সদস্য।
কিন্তু হিন্দ হলের ভেতরে এসব পরিচয় কোনো পার্থক্য নিয়ে আসে না।

নিউইয়র্ক পুলিশ, কেকেকে, আইওএফ তোমরা সবাই এক!

৩০ এপ্রিল সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমাদের সবাইকে জিম্মি করে ফেলে। নিউইয়র্ক পুলিশ তল্লাশি চালাতে পুরো ক্যাম্পাস লকডাউন করে দেয়। ক্যাম্পাসে তখন সার্ভিলেন্স ড্রোন, ইনফ্রারেড ক্যামেরার নজরদারি। আকাশে উড়ছে হেলিকপ্টার। কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি তখন ফুটন্ত কড়াই, ঢোকা কিংবা বের হওয়ার সমস্ত পথ বন্ধ।

গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে সাংবাদিক আর প্রত্যক্ষদর্শীদের আটকে রাখা হয় আশেপাশের ভবনে। যাতে আমাদের ওপর অত্যাচারের সাক্ষী না থাকে। ভবনের বাইরে যারা প্রতিবাদ করছিলেন তাদের গ্রেপ্তারে খড়গহস্ত হয় স্ট্র্যাটেজিক রেসপন্স গ্রুপ।

বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা শহর: কোথাওই পুলিশের আধিপত্য চাই না!

এই সামরিক অভিযান কলম্বিয়ার স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড পাবলিক অ্যাফেয়ার্সের ফ্যাকাল্টি এবং তেল আবিবে একটি অফিসের পরিচালক রেবেকা ওয়েইনারের মস্তিষ্কপ্রসূত।

ফিলিস্তিনের যেমন আইওএফ-এর মাধ্যমে যুদ্ধ এবং দখলদারিত্বের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, বিশ্ববিদ্যালয়েও তেমন পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়েছিল। যেন বিশ্ববিদ্যালয় একটা "ছোটখাটো গাজা"। পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় পারস্পরিকভাবে ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রযন্ত্রকে সহায়তা করছে।

আমরা এক

সেদিন রাতে সিটি কলেজে আমাদের কমরেডদের ওপর নেমে আসে পুলিশি অত্যাচার। গ্রেপ্তার করে একই সেলে রাখা হয়েছিল আমাদের। কিন্তু সিটি কলেজের শিক্ষার্থীদের চড় মারা হয়েছিল এবং তাদের তিন দিন বন্দি করে রেখেছিল পুলিশ। তবে আমাদের ৪৮ ঘণ্টার আগেই ছেড়ে দেওয়া হয়।

আমরা তাদের মুক্তির দাবিতে অনড় ছিলাম। বলেছিলাম,সিটি আর কলম্বিয়া এখন একই ক্যাম্পাস। আমরা নিঃশর্তে তাদের প্রতি সংহতি জানাই।

বিজয় না আসা পর্যন্ত আমাদের সংগ্রাম চলবেই!

About

Popular Links