চলছে দেশি ফলের ভরা মৌসুম। ইতোমধ্যেই বাজারে এসে গেছে নানা ধরনের দেশীয় ফল। আর যেসব ফল এই মুহূর্তে চাহিদার শীর্ষে রয়েছে তার মধ্যে আম অন্যতম।
আমকে বলা হয় ফলের রাজা। অনন্য স্বাদের পাশাপাশি পুষ্টিগুণেও আম বেশ সমৃদ্ধ ফল। তবে আমের রয়েছে আবার অসংখ্য জাত। আর জাতভেদে আমের স্বাদও ভিন্ন ভিন্ন হয়।
কিন্ত প্রশ্ন হলো, জাতভেদে কি আমের পুষ্টিগুণও ভিন্ন হয়? এক্ষেত্রে অবশ্য পুষ্টিবিদদের উত্তর অনেকটা “না” সূচক।
বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি বাংলা কথা বলেছে রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আব্দুল আলীম ও ল্যাবএইড হাসপাতালের পুষ্টিবিদ সামিয়া তাসনিমের সঙ্গে।
তারা দু’জনেই বিবিসিকে জানিয়েছেন, জাতভেদে আমের পুষ্টিগুণে খুব একটা পার্থক্য নেই।
ড. আলীম বলেন, “সব আমের পুষ্টিগুণই মোটামুটি একইরকম। শুধু মিষ্টতায় প্রধান পার্থক্য। আর কাঁচা আমে ভিটামিন সি বেশি থাকে।”
পুষ্টিবিদ সামিয়া তাসনিম বলেন, “পাকা আমে প্রচুর পরিমাণে ক্যালরি, শর্করা, আমিষ, ভিটামিন এ, বিটা ক্যারটিন, পটাশিয়াম ইত্যাদি থাকে। তাই, কাঁচা আমের তুলনায় আঁশযুক্ত পাকা আম শরীরের জন্য বেশি ভালো।”
তিনি আরও বলেন, “পাকা আমে পর্যাপ্ত পরিমাণ আঁশ জাতীয় উপাদান পেকটিন থাকে, যা পাকস্থলিতে থাকা খাদ্যকে ভালোভাবে পরিপাক হতে সাহায্য করে।”
এছাড়া, আমের বিশেষ কিছু এনজাইম খাদ্য উপাদানের প্রোটিনকে ভালোভাবে ভেঙে ফেলতে কাজ করে। যা সামগ্রিকভাবে পরিপাক ক্রিয়ায় অবদান রাখে বলে জানান তিনি।
এই পুষ্টিবিদ জানান, আমে থাকা ভিটামিন সি, ভিটামিন এ এবং অন্যান্য ২৫ ধরনের ক্যারোটেনয়েডস শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। বিশেষ করে, আমে থাকা ভিটামিন এ দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে ও চোখের চারপাশের শুষ্কভাবও দূর করে।
ক্যান্সার প্রতিরোধের ক্ষেত্রেও সহায়ক ভূমিকা পালন করে বলে জানান তিনি।



কোন জাতের আম স্বাদে সেরা?
আম্রপালি আমের নামকরণ যেভাবে হলো
যে গুণের কথা জানলে আপনি আম খেয়ে আঁটি ফেলে দেবেন না