গাইবান্ধার সাঘাটায় বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে যুবদল নেতার ছুরিকাঘাতে আহত জামায়াতে ইসলামীর কর্মী সালাউদ্দিন দীর্ঘ ৪৯ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মারা গেছেন।
শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নিহতের বাবা এবং গাইবান্ধা জেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি রোকনুজ্জামান।
পুলিশ ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ জুন বিকেলে সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া চৌরাস্তা মোড়ে বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মোখলেছুর রহমান মুকুলের ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন সালাউদ্দিন। একই ঘটনায় সেদিনই মৃত্যু হয় বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্র শিবিরের সভাপতি সাইফুল ইসলামের।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সাঘাটা উপজেলার কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠন নিয়ে উপজেলা চত্বরে স্কুলের প্রধান শিক্ষক হাবিবুল্লার সঙ্গে মুকুলের বাগবিতণ্ডা হয়। পরে স্থানীয় নেতাদের মধ্যস্থতায় বিষয়টি মিটমাট হয়ে যায় এবং সবাই চত্বর ছেড়ে যান।
কিছু সময় পর বোনারপাড়া-সাঘাটা সড়কের উপজেলা-সংলগ্ন চৌমাথায় দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় সাইফুল ও সালাউদ্দিনের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালান মুকুল, তার ছোট ভাই পলাশ, বোনারপাড়া ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য রবিউল ইসলাম এবং যুবদল নেতা আশরাফ, মোনারুল ও জব্বারসহ আরও কয়েকজন। হামলাকারীরা সালাউদ্দিনের গলা ও হাত-পায়ের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন, যাতে তিনি গুরুতর আহত হন।
ঘটনার পর স্থানীয়রা আহত দুজনকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে সাইফুল্লাহকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত সালাউদ্দিনকে প্রথমে বগুড়া জিয়াউর রহমান হাসপাতালে পাঠানো হয়, পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে দীর্ঘ ৪৯ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর আজ শনিবার সকালে তার মৃত্যু হয়।
জেলা জামায়াত নেতা রোকনুজ্জামান বলেন, “নিহত সালাউদ্দিন জামায়াতে ইসলামীর একজন একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন এবং তার মৃত্যুতে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।“ তিনি আরও জানান, বোনারপাড়ায় জামায়াত-শিবিরের দুই নেতাকে হত্যার প্রতিবাদে আজ বিকেলে উপজেলা জামায়াতের ডাকে প্রতিবাদ বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে জামায়াত-শিবিরসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেবেন।



