মুক্তিযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক বিশ্ব বাংলাদেশের পক্ষে ছিল বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্রে কয়জন মানুষ যায়? তারা নিষেধাজ্ঞা দিয়ে কি করবে? গুলশান-বনানীর কিছু মানুষের জন্য ভিসা নিষেধাজ্ঞা। তারাই যুক্তরাষ্ট্রে যান। তারা না গেলে বাংলাদেশের কোনো ক্ষতি হবে না। দুয়েকজন মন্ত্রী না গেলেও ক্ষতি হবে না।”
শনিবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে টাঙ্গাইলের মধুপুরে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, “আগামী ৩ মাস পর জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে; এটি পুরো বিশ্বের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাবে। কোনো দল এই নির্বাচনকে বানচাল করতে পারবে না।”
তিনি আরও বলেন, “দেশের একটি বড় দল এই জাতীয় নির্বাচনকে বানচাল করার চেষ্টা করছে; কিন্তু বর্তমানে পুলিশ-প্রশাসন খুবই তৎপর। তারা সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে। এ দেশের জনগণ আমাদের সাথে আছে। যদি আবারও শেখ হাসিনাকে মানুষ ভোট দেয় তাহলে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে।”
প্রসঙ্গত, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক শিবির বিভক্ত ও বিপরীত মেরুতে অবস্থান করছে। আওয়ামী লীগ সংবিধান অনুযায়ী, শেখা হাসিনা সরকারের অধীনে নির্বাচনে অনড়। অন্যদিকে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো বলছে, আওয়ামী লীগের কাটাছেঁড়া করা সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হতে পারে না। নির্বাচন হবে নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকারের অধীনে। যুক্তি হিসেবে তারা ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে আনছে। এই দুই নির্বাচন ছিল বিতর্কিত নির্বাচন।
এছাড়া বাংলাদেশের নির্বাচনে পরাশক্তিগুলোর দ্বান্দ্বিক অবস্থানও সামনে আসছে। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তারা নির্বাচনে বাধাদানকারীদের ভিসা নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার ঘোষণা দিয়েছে।
গত ২৪ মে বাংলাদেশের জন্য নতুন ভিসানীতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র। এরপর ২২ সেপ্টেম্বর এক বিবৃতিতে বাংলাদেশে বিধিনিষেধ আরোপের কথা জানায় দেশটি।
ভিসা নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে বেকায়দায় ফেলেছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। শুরুর দিকে আওয়ামী লীগের নেতারা বলছিলেন, তারা ভিসানীতি ও নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা করে না। তবে এখন বলছেন, তলে তলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আপোস করেছেন তারা।
মাঠের প্রধান বিরোধী দল বিএনপির আন্দোলনে বাড়তি উৎসাহ তৈরি করেছে মার্কিন ভিসানীতি। সরকারের “কোণঠাসা অবস্থা” বোঝাতে বিএনপির নেতারা তাদের সমাবেশে ভিসা নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি প্রায়ই তুলে ধরছেন। একইসঙ্গে তারা অভিযোগ করছেন, ভিসানীতি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশের জন্য লজ্জাজনক। এর জন্য দায়ী বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার।
নিষেধাজ্ঞার বিষয়টিই এখন সবচেয়ে জোরালো আলোচনা রাজনৈতিক ময়দানে। দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি জনমনেও এটি প্রভাব তৈরি করছে বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্তাব্যক্তিদের মধ্যেও প্রভাব ফেলছে বলে আলোচনা আছে।
নির্বাচনকেন্দ্রীক এই নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে বিশ্লেষকেরা বলছেন, বাংলাদেশ সরকারের উচিত ভিসানীতিকে গুরুত্ব দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করা। তা না-হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।



