Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

‘নির্বাচন করতে না পারলে ড. ইউনুসের পরিণতি হাসিনার চেয়ে ১০ গুণ বেশি খারাপ হবে’

মাকড়াই দিবস উপলক্ষে কাদেরিরা বাহিনীর মুক্তিযোদ্ধাদের সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে কাদের সিদ্দিকী এসব কথা বলেন

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২৫, ০৮:২৫ পিএম

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, ড. ইউনুসকে আবারও আমি অনুরোধ করছি, ঘোষণা অনুযায়ী নির্বাচন দিন। ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন না দিলে এবং নির্বাচন করতে না পারলে শেখ হাসিনার চাইতে আপনার পরিণতি ১০ গুণ খারাপ হবে।

ড. ইউনুসকে নিয়ে তিনি বলেন, “অধ্যাপক ইউনুসকে আমি সম্মান করতাম। আপনার এক বছরের শাসনে সেটি আর হৃদয় থেকে নিতে পারছি না। বঙ্গবন্ধুর বাড়ি ভেঙেছে আপনি দেখেছেন, আপনার গ্রামীণ ব্যাংকের বিরুদ্ধে সরকারসহ বাংলাদেশের অসংখ্য মানুষ রুখে দাড়িয়েছিল। আমি কাদের সিদ্দিকী না দাঁড়ালে আপনার অর্ধেক গ্রামীণ ব্যাংক মাটির নিচে চলে যেতো।”

শনিবার (১৬ আগস্ট) বিকেলে মহান মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক স্মৃতি বিজড়িত মাকড়াই দিবস উপলক্ষে কাদেরিরা বাহিনীর মুক্তিযোদ্ধাদের সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।

কাদের সিদ্দিকী বলেন,“বঙ্গবন্ধুর মাথায় প্রস্রাব করা শুধু তার মাথায় প্রস্রাব করা হয় নাই, বাংলাদেশ ও স্বাধীনতার মাথায় প্রস্রাব করা হয়েছে। এর বিচার চাই, বিচার চাই, বিচার চাই। বঙ্গবন্ধুর বাড়ি যারা ভেঙেছেন, মনে রাখবেন তাদেরও বাড়িঘর আছে। তাদেরও কবর রয়েছে, তাদেরও স্মৃতিচিহ্ন রয়েছে। তারা তাদের কবর হাতে নিয়ে ঘুরতে পারবেন না। বাড়িঘর হাতে করে নিয়ে যেতে পারবেন না। তাই সীমা অতিক্রম করবেন না।”

তিনি নাহিদ ইসলামকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “কে একজন বলেছেন (নাহিদ ইসলাম) বঙ্গবন্ধু জাতির পিতা নন। বঙ্গবন্ধু যদি জাতীর পিতা না হন, তাহলে আপনার পিতা কে। কোনো সন্তানের পিতা না থাকলে সে সন্তান সম্মানী সন্তান হয় না। সে সন্তান কুলাঙ্গার হয়। একটু ভেবেচিন্তে কথা বলবেন।”

তিনি বলেন, “যারা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন করেছেন, শেষ হাসিনার পতন ঘটিয়েছেন, আমি তাদের অন্তর থেকে সমর্থন করি। তবে শেখ হাসিনার পতন আল্লাহর তরফ থেকে হয়েছে। আপনাদের মুরোদে শেখ হাসিনার পতন হয় নাই। জনগণ রাস্তায় নেমেছিল বলে শেখ হাসিনার পতন হয়েছে। কিন্তু শেখ হাসিনার প্রতি আপনারা যদি অন্যায় করতে যান, আমি বেঁচে থাকলে তার বিরুদ্ধে লড়াই করবো। আইন অনুযায়ী তার বিচার করুন, তার শাস্তি দিন, মাথা পেতে নিবো। শেখ মুজিব ও শেখ হাসিনা এক নয়। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে ততদিন জয় বাংলা থাকবে।”

মুক্তযোদ্ধাদের নিয়ে তিনি বলেন, “মুক্তিযোদ্ধাদের গায়ে হাত দেওয়ার চেষ্টা করবেন না। তাদের সম্মানী এক লাখ টাকা করতে হবে। এ বছরই তাদের সম্মানী ৫০ হাজার করার দাবি জানাচ্ছি। আমরা ভিক্ষা চাই না, সম্মানী চাই। যুদ্ধ বড় কঠিন জিনিস। যখন মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম, জীবনের মায়াও ছিল না। আমি কোনো দারোগা পুলিশকে ভয় পাই না। আমি আল্লাহ ও রসুলকে ভয় করি। আমি মানুষকে ভয় করি। আমি মুক্তিযোদ্ধার সন্মান বৃদ্ধি করার চেষ্টা করেছি।”

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী। মুক্তিযুদ্ধের সাবেক জেলা কমান্ডার  ফজলুর হক বীরপ্রতীকের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, ঘাটাইল উপজেলার সাবেক কমান্ডার এমদাদুল হক খান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোফাজ্জল হোসেন, হুমায়ুন বাংগাল প্রমুখ।

এ সময় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও কৃষক জনতার লীগের নেতা কর্মীদের উপস্থিত ছিলেন।

   

About

Popular Links

x