Wednesday, May 22, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বিএনপি: সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় ১০ বছরে খেলাপি ঋণ বেড়েছে তিন গুণ

অর্থনীতিবিদদের বরাতে বিএনপি বলছে, দেশে প্রকৃত খেলাপি ঋণ ৪ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে

আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২৩, ০১:৪৪ পিএম

২০০৯ সালে দেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২২ হাজার কোটি টাকা; ২০২৩ সালের মার্চে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩১ হাজার ৬২০ কোটি টাকায়। বিএনপি দাবি করেছে, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় খেলাপি ঋণ বেড়ে চলেছে। গত ১০ বছরে এটি বেড়েছে তিন গুণেরও বেশি।

একইসঙ্গে অর্থনীতিবিদদের বরাতে বিএনপি বলছে, দেশে প্রকৃত খেলাপি ঋণ ৪ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।

শুক্রবার (১৩ অক্টোবর) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারর্পাসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন দলটিরর মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

খেলাপি ঋণ প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, “আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, খেলাপি ঋণের হার সর্বোচ্চ ৩% সহনীয় ধরা হয়। এর বেশি হলেই তা ঝুঁকি। বাংলাদেশের খেলাপি ঋণ ঝুঁকির চেয়ে প্রায় তিনগুণ বেশি। প্রলেপ দিয়ে নিয়মিত রাখা হয়েছে। এদিকে পুনঃতফসিল ঋণ, অবলোপন ঋণ, অর্থঋণ আদালতে আটকে থাকা বিপুল অঙ্কের ঋণ, বিশেষ বিবেচনায় নবায়ন করাসহ আরও অনেক ঋণ রয়েছে যেগুলো খেলাপির যোগ্য কিন্তু খেলাপি করা হচ্ছে না।”

তিনি বলেন, “প্রকৃত খেলাপি ঋণ ৪ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা। বর্তমানে খেলাপি ঋণ যা বলা হচ্ছে, তা সঠিক নয়। কারণ খেলাপি ঋণ কার্পেটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়েছে।”

বিএনপি মহাসচিব উল্লেখ করেন, “অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, বাংলাদেশে খেলাপি ঋণ বাড়ার প্রধান কারণ রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা। কেন্দ্রীয় ব্যাংক মাত্র ২% অর্থ জমা দিয়ে খেলাপি ঋণ থেকে বের হয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। খেলাপি ঋণের সংজ্ঞা বদলানো হয়েছে বারবার। এমনকি আইন সংশোধন করে সরকারঘনিষ্ঠ অলিগার্কদের একাধিকবার ঋণ পুনঃতফসিলের সুবিধা দেওয়া হয়েছে।”

মির্জা ফখরুল বলেন, “বর্তমানে দেশের অর্থনীতির প্রতিটি প্রধান সূচকের (মূল্যস্ফীতি, নিন্মমুখী বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, নিম্নমুখী রেমিটেন্স প্রবাহ, চলতি হিসাবের ঘাটতি, রাজস্ব ঘাটতি এবং বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে টাকার দরপতন) অবস্থান এতটাই শোচনীয়, যা দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিকে মহাবিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক সংকট আগের তুলনায় কমেছে। অনেক দেশ মূল্যস্ফীতি কমাতে সফল হচ্ছে। ভয়ঙ্কর ও বিপর্যয়কর অর্থনৈতিক অবস্থা থেকে শ্রীলঙ্কা দ্রুত ওভারকাম করতে শুরু করেছে। তারা বাংলাদেশের কাছ থেকে ধার নেওয়া কিছু ঋণ ইতোমধ্যে শোধও করেছে।”

বিএনপির এই শীর্ষ নেতা অভিযোগ করেন, “ব্যাংকিং খাতে নজিরবিহীন দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণেই আমাদের অর্থনীতি মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াতে পারছে না। মূলত সরকারের রাজনৈতিক দুর্বলতা ও সর্বগ্রাসী লুটপাট অর্থনীতির জীবনী শক্তিকে ক্রমে ধ্বংস করে দিচ্ছে। যার সর্বশেষ সংযোজন- কেবল দুর্নীতি ও রাজনৈতিক স্বার্থে বিভিন্ন নামে একটি বিশেষ গ্রুপ তথা ইচ্ছাকৃত লোন ডিফল্টারদের হাতে নিয়ম বহির্ভূতভাবে জনতা ব্যাংক ২২ হাজার কোটি টাকা তুলে দিয়েছে।”

“দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ঋণ কেলেঙ্কারি ঘটেছে ইসলামী ব্যাংকে। একটি শিল্প গ্রুপ অস্তিত্বহীন ভুয়া কোম্পানির নামে ইসলামী ব্যাংক থেকে ৩০,০০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। অথচ গ্রুপটি সর্বোচ্চ ২১৫ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার যোগ্য। এই গ্রুপটি ন্যূনতম এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশে পাচার করেছে বলে গণমাধ্যমে খবর এসেছে।”

২০২২ সালে ইসলামী ব্যাংকে ভয়ঙ্কর নভেম্বর, বেসিক ব্যাংকের চাঞ্চল্যকর আর্থিক কেলেঙ্কারি, জনতা ব্যাংক কেলেঙ্কারি, ফারমার্স ব্যাংক কেলেঙ্কারি, হলমার্ক কেলেঙ্কারি, পি কে হালদার জালিয়াতি, ইউনিয়ন ব্যাংকের ১৮,৩৪৬ কোটি, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের ১,৬২০ কোটি, বিসমিল্লাহ গ্রুপের ১,২০০ কোটি, এনন টেক্সটাইল ৫,৫০৪ কোটি, ক্রিসেন্ট গ্রুপে ২,৭৬০ কোটি, ন্যাশনাল ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, এবি ব্যাংক কেলেঙ্কারি, ইউনিপেটু কেলেঙ্কারি, ডেসটিনি কেলেঙ্কারি, এমটিএফই কেলেঙ্কারি, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (পিএলএফএসএল) কেলেঙ্কারি, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ৮১০ কোটি টাকা চুরি, বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে ভুতুড়ে কাণ্ড- প্রভৃতি তথ্য তুলে ধরে দলটি।

About

Popular Links