Saturday, June 15, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

‘ঢাকা অবরোধে এলে শাপলা চত্বরের চেয়ে করুণ পরিণতি হবে বিএনপির’

কাদের বলেন, ফখরুল ক্ষমতা দখল করতে নেতাকর্মীদের অতিরিক্ত কাপড় নিয়ে ঢাকা আসতে বলেছেন। তো আমরা কি দাঁড়িয়ে ললিপপ খাবো? অবরোধ করলে খেলা হবে। শেখ হাসিনা মাথা নত করবে না

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২৩, ০৮:৪৫ পিএম

ঢাকা অবরোধ করলে বিএনপির পরিণতি শাপলা চত্বরের থেকেও করুণ হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেছেন, “মির্জা ফখরুল ক্ষমতা দখল করার জন্য নেতাকর্মীদের অতিরিক্ত কাপড় নিয়ে ঢাকা আসতে বলেছেন। তো আমরা কি দাঁড়িয়ে ললিপপ খাবো? আমরাও প্রস্তুত আছি। অবরোধ করলে বিএনপি অবরোধ হয়ে যাবে। খেলা হবে। বিএনপির পরিণতি শাপলা চত্বরের থেকেও করুণ হবে। শেখ হাসিনা মাথা নত করবে না।”

সোমবার (১৬ অক্টোবর) বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী যুবলীগের এক সমাবেশে তিনি এসব কথা কলেন।

বিএনপি ১৮ অক্টোবর ঢাকা অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, “ঢাকা সিটির খবর রাখেন? ১৮ তারিখ ঢাকা শহরে লোক জমায়েত করবে, অবরোধ করবে। এই শহরের সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা অবরোধ করার কর্মসূচি তারা দিয়েছে। ১৮ অক্টোবরকে সামনে রেখে বিএনপি তাদের নেতাকর্মীদের ঢাকা আনতে শুরু করেছে। হোটেল খালি নেই। সব সিট তারা বুক করে ফেলেছে। নতুন বাড়ির খালি ফ্ল্যাট বুক করেছে। আবার ডিসেম্বর মাসের মতো সরকার পতনের স্বপ্ন দেখছে। মির্জা ফখরুল খোয়াব দেখছে।”

তিনি বলেন, “ফখরুল মাঝে মাঝে আজগুবি বার্তা ছড়াচ্ছে। তিনি হাওয়া থেকে পাওয়া খবর বলেন। এখন ভালোই আছেন। টাকা-পয়সার নতুন চালান আসছে। মালপানি ভালোই। ডিসেম্বরের চেয়ে এখন সরবরাহ একটু বেশি। টাকার বস্তার ওপর বসে আছে ফখরুল। টাকা দিয়ে ডিসেম্বরে আন্দোলন হয়নি। ওই টাকার আন্দোলন গোলাপবাগের গর্তের মধ্যে চলে গেছে। এখন আবার আন্দোলন।”

ক্ষমতাসীন দলের এই শীর্ষ নেতা বলেন, “পশ্চিমা বিশ্বের সমর্থন নাকি বিএনপির আন্দোলনে সাহস যোগাচ্ছে। মিথ্যা কথা আর কত বলবে। পশ্চিমা বিশ্বের যারা বাংলাদেশে এসেছে, যারা আমাদের সঙ্গে কথা বলেছে- বিদেশে বলেছে, দেশে বলেছে, তারা বলেছে, বাংলাদেশের নির্বাচনে তারা কোনো রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করে না। এ কথা আমেরিকা বলেছে। এ কথা ইউরোপও বলেছে। ফখরুল হাওয়া থেকে মিছা আজগুবি খবর…।”

“খেলা হবে। ছাড় দেবো না। ডিসেম্বরে এর চেয়ে কড়া খেলা হবে। এখন চলছে কোয়ার্টার ফাইনাল। আগামী মাসে হবে সেমি ফাইনাল। জানুয়ারিতে গিয়ে হবে ফাইনাল খেলা। খেলা হবে। ভোট চোরাদের বিরুদ্ধে, অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে, লুটপাটের বিরুদ্ধে, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে, খেলা হবে। ফাউল করলে লালকার্ড। ১৮ তারিখে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আমাদেরও জমায়েত হবে।”

সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, “ফখরুল সাহস পাচ্ছে বিদেশ থেকে। আমরা বাংলাদেশের জনগণের সমর্থন থেকে সাহস পাচ্ছি না। শেখ হাসিনার মতো সহসী নেতার নেতৃত্বের জন্য সাহস পাচ্ছি। আমরা কাউকে ভয় পাই না। যতক্ষণ জনগণ আমাদের সঙ্গে আছে, ততক্ষণ কোনো ভয় নেই। বাংলাদেশের মানুষ আমাদের সঙ্গে আছে। থাকবে। ১৮ অক্টোবর আরও বেশি করে আসতে হবে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা আন্দোলনের মিছিল বয়ে নিয়ে যাবো বিজয়ের বন্দরে।”

প্রসঙ্গত, দেশের রাজনীতিতে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামীর জমায়েত ও উচ্ছেদ অন্যতম অনুষঙ্গ হয়ে আছে। কথিত নাস্তিক ব্লগারদের শাস্তি ও ধর্ম অবমাননাকারীদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে আইন করাসহ ১৩ দফা দাবিতে ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে ঢাকা অবরোধ কর্মসূচি পালন করে হেফাজতে ইসলাম।

২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজত সারাদেশ থেকে সংগঠনের কর্মী ও মাদ্রাসাশিক্ষার্থীদের ঢাকায় জড়ো করে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে অবস্থান নিয়েছিল সংগঠনটি। দিনভর সরকারের বারবার আহ্বানেও তারা ওই স্থান না ছাড়ায় রাতে সমন্বিতভাবে অভিযান চালিয়ে তাদের সরিয়ে দেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কাঁদানে গ্যাস ও রবার বুলেটে টিকতে না পেরে বিভিন্ন গলিতে ঢুকে পড়েন মতিঝিলে অবস্থানকারীরা।

এই অভিযানে মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে সরকার ও হেফাজতের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য রয়েছে। হেফাজত দাবি করে, এই অভিযানে তাদের শত শত নেতাকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। তবে দাবির সপক্ষে কোনো প্রমাণ হাজির করতে পারেনি তারা। অন্যদিকে সরকারের পক্ষে জানানো হয়, ওইদিনের অভিযানে পুলিশসহ ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এই সমাবেশের পর নিষ্ক্রিয় হয় হেফাজত। পরে সরকারের সঙ্গে সম্পর্কন্নোয়ন করে সংগঠনটি। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে “কওমী জননী” উপাধী দেয় তারা। একইসঙ্গে হেফাজতের বন্দিদের মুক্তি দাবি করে।

তবে ২০২১ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফর ও বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণকে কেন্দ্র করে আবারও সম্পর্কের অবনতি হতে শুরু করে বলে আলোচনা রয়েছে।

About

Popular Links