Tuesday, May 28, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

তফসিলকে স্বাগত তৃণমূল বিএনপির, ৩০০ আসনে দেবে প্রার্থী

আগামী ১৮ নভেম্বর থেকে দলীয় মনোনয়ন ফরম বিতরণ শুরু করবে তৃণমূল বিএনপি। মনোনয়ন ফি পাঁচ হাজার টাকা

আপডেট : ১৬ নভেম্বর ২০২৩, ১২:৫৭ পিএম

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিলকে স্বাগত জানিয়েছে তৃণমূল বিএনপি। আগামী ১৮ নভেম্বর থেকে দলীয় মনোনয়নপত্র বিতরণ করবে দলটি।

বৃস্পতিবার (১৬ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গুলশানের হোটেল সাইন পুকুর সুইটসে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন দলটির চেয়ারপার্সন শমসের মবিন চৌধুরী।

শমসের মবিন চৌধুরী বলেন, “গতকাল (বুধবার) প্রধান নির্বাচন কমিশনার দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী এই তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। তৃণমূল বিএনপির পক্ষ থেকে এই তফসিলকে স্বাগত জানাই। একই সঙ্গে আমরা বলতে চাই, তৃণমূল বিএনপি একটি নির্বাচনমুখী দল। আমরা দ্বাদশ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করছি।”

তিনি আরও বলেন, “তৃণমূল বিএনপি আশা করে, দ্বাদশ সংসদীয় নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হবে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। এই নির্বাচনের জন্য সকল প্রার্থী, ভোটার ও ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত করতে হবে।”

“আমাদের এটাও দাবি সকল পর্যায়ের প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবে না। নির্বাচন কমিশন যেন তাদের ওপর সাংবিধানিকভাবে প্রদত্ত আইনি ক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে এবং অক্ষরে অক্ষরে নিরপেক্ষভাবে পালন করে।”

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সংসদীয় ৩০০ আসনে প্রার্থী দেবে তৃণমূল বিএনপি। আগামী ১৮ নভেম্বর থেকে দলীয় মনোনয়ন ফরম বিতরণ শুরু করবে দলটি। মনোনয়ন ফি পাঁচ হাজার টাকা। আগামী ২১, ২২ ও ২৩ নভেম্বর মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেবে দলটি; এরপর প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- তৃণমূল বিএনপির মহাসচিব অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার, নির্বাহী চেয়ারপার্সন অ্যাডভোকেট অন্তরা সেলিমা হুদা, কো-চেয়ারপারসন কে এম জাহাঙ্গীর মজমাদার ও মেজর হাবিবুর রহমান, মোখলেছুর রহমান ফরহাদী।

তফসিলকে স্বাগত, তফসিলকে প্রত্যাখ্যান

বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল।

এই তফসিলকে প্রত্যাখ্যান করেছে বিএনপি, বাম গণতান্ত্রিক জোট, গণতন্ত্র মঞ্চ, গণঅধিকার পরিষদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও জামায়াতে ইসলামী।

বিরোধী নেতারা বলছেন, বিবাদমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই তফসিল জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে পারবে না। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের মতো “ভোটাধিকার হরণে” এই তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশের জনগণ এটি ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে।

অন্যদিকে তফসিলকে স্বাগত জানিয়েছে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতারা। আওয়ামী লীগের বাইরে সংসদের বিরোধী দলের নেতা রওশন এরশাদ তফসিলকে স্বাগত জানিয়েছেন। এছাড়া তৃণমূল বিএনপি তফসিলকে স্বাগত জানিয়েছে।

আওয়ামী লীগ বলছে, জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে গতিশীল রাখতে এই তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। কেউ যদি নির্বাচনী ট্রেন ধরতে না পারেন, তাতে তাদের করার কিছু নেই।

দুই দল তাদের সমমনাদের নিয়ে দুই মেরুতে। এ অবস্থায় তফসিল ঘোষণার আগে রাজনৈতিক সমঝোতার আশা করেছিলেন মানবাধিকার কর্মী ও উন্নয়ন সহযোগী দেশগুলো। প্রধান তিন দলকে সংলাপের আহ্বানও জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে ইসি বলছে, সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থাকায় তফসিল হয়েছে। সংবিধান মেনে ভোটের আয়োজন করা ইসির দায়িত্ব। রাজনৈতিক ঐক্য তৈরির দায়িত্ব ইসির নয়।

ইসির তফসিল

ইসির ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী বছরের ৭ জানুয়ারি। ওই দিন সকাল ৮টা থেকে টানা ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৩০ নভেম্বর। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ১ থেকে ৪ ডিসেম্বর। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১৭ ডিসেম্বর। প্রতীক বরাদ্দ ১৮ ডিসেম্বর। সেদিন থেকেই প্রচারণা শুরু করতে পারবেন প্রার্থীরা। প্রচারণার জন্য ২২ দিন সময় পাবেন প্রার্থীরা। নির্বাচনে ৬৬ জন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ৫৯২ জন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

গত ২ নভেম্বর সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত ভোটারসংখ্যা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন ১১ কোটি ৯৬ লাখ ৯১ হাজার ৬৩৩ জন ভোটার। তাদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৭ লাখ ৭১ হাজার ৫৭৯ জন এবং নারী ভোটার ৫ কোটি ৮৯ লাখ ১৯ হাজার ২০২ জন। আর হিজড়া ভোটার রয়েছেন ৮৫২ জন। সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্র ৪২ হাজার ১০৩টি এবং ভোটকক্ষ ২ লাখ ৬১ হাজার ৯১২।

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সংবিধান অনুযায়ী, সংসদের মেয়াদ পূর্তির আগের ৯০ দিনের মধ্যে পরবর্তী সংসদ নির্বাচন করতে হয়। বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হবে ২০২৪ সালের ২৯ জানুয়ারি। সেই হিসেবে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের ক্ষণ গণনা শুরু হয়েছে গত ১ নভেম্বর থেকে।

About

Popular Links