Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ঋতুপর্ণা-সাগরিকার গোলে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে বাংলাদেশ

বুধবার গোয়ার জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে নেপালকে ২-১ গোলে হারিয়ে বাংলাদেশ জয় লাভ করেছে 

আপডেট : ০৩ জুন ২০২৬, ০৮:৪৯ পিএম

নেপালকে হারিয়ে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠলো বাংলাদেশ। 

বুধবার (৩ জুন) গোয়ার জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম সেমিফাইনালে ২-১ গোলে বাংলাদেশ জয় লাভ করেছে। 

গত দুই ফাইনালে নেপালকে তাদের মাঠে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। ২০২৪ সালের ফাইনালের স্কোরলাইনের পুনরাবৃত্তি হয়ে গোয়ার সেমিফাইনালে।

তিন পরিবর্তন এনে দলটি নতুন করে সাজান বাংলাদেশ কোচ পিটার জেমস বাটলার। ভারত ম্যাচে খেলা মনিকা চাকমা, শামসুন্নাহার জুনিয়র ও সুরমা জান্নাতের বদলে খেলান আফঈদা খন্দকার, উমহেলা মারমা ও সুরভি আকন্দ প্রীতি। আগের দিন মা হারানো অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার শিউলি আজমিকেও রাখেন বেঞ্চে।

শুরু থেকেই অগোছালো ফুটবল খেলতে থাকে বাংলাদেশ। গতবারের রানার্সআপ নেপাল তাই আধিপত্য করতে থাকে। ২২তম মিনিটে এগিয়েও যায় তারা।কর্নারের পর মিলি আক্তার দুর্বল ফিস্টে ক্লিয়ার করতে পারেননি পুরোপুরি। বক্সে জটলার ভেতরে বল পেয়ে গীতা রানী চিপ শটে লক্ষ্যভেদ করেন। পরের মিনিটেই পাল্টা আক্রমণ শুরু করে বাংলাদেশ।

৩৪তম মিনিটে রাসি কুমারি ঘিসিংয়ের হেড আটকে ব্যবধান দ্বিগুণ হতে দেননি মিলি আক্তার। একটু পর প্রীতি রায়ের শটে লাফিয়ে কোনোমতে বলে হাত ছোঁয়ান মিলি, তার গ্লাভস ছুঁয়ে বল ক্রসবারে লাগে।

খেলায় গতি ফেরাতে বাটলার দুটি পরিবর্তন আনেন ৩৮তম মিনিটে। তরুণ উমহেলা ও প্রীতিকে তুলে দুটি উইমেন’স সাফ জয়ী শামসুন্নাহার জুনিয়র ও তহুরা খাতুনকে নামান কোচ। এরপর বাংলাদেশের খেলায় গতি ফিরে।

৪৫তম মিনিটে ওই দৃষ্টিনন্দন গোলে দলে স্বস্তি ফেরান সবশেষ ফাইনালে জয়সূচক গোল করা ঋতুপর্ণা। ডান দিক থেকে এই ফরোয়ার্ডের কর্নারে বল বাতাসে ভেসে লাফিয়ে ওঠা গোলকিপার আঞ্জিলা সুব্বাকে ফাঁকি দিয়ে সরাসরি দূরের পোস্ট লেগে জালে জড়ায়।

মোমিতা খাতুনের জায়গায় মনিকাকে নামিয়ে দ্বিতীয়ার্ধ শুরু করে বাংলাদেশ। শুরুতেই পোস্টের বাধায় বেঁচে যায় দল। রেখা পাডৌলের শট পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে আসা মিলিকে ফাঁকি দিলেও পোস্টে লেগে ফিরে। একটু পর রাশমি কুমারির শট যায় ক্রসবারের উপর দিয়ে।

৫৪তম মিনিটে ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে তিনি যখন বাইরে শট নেন, তখন দূরের পোস্টে ফাঁকায় দাঁড়িয়ে গত সাফে দলের হয়ে সর্বোচ্চ পাঁচ গোল করা তহুরা। একটু পর ছোট বক্সের একটু ওপর থেকে মনিকার হেড যায় ক্রসবারের অনেক উপর দিয়ে।

৬৮তম মিনিটে সারু লিম্বুর শট লাফিয়ে ওঠা মিলিকে পেরিয়ে উপরের জাল কাঁপায়। একটু পর আনিকা রানিয়া সিদ্দিকীকে তুলে সাগরিকাকে নামান বাংলাদেশ কোচ।

নির্ধারিত সময়ের দুই মিনিট বাকি থাকতে আফিদা ইশারায় পানি চাইলেন। তাতে খেলা বন্ধ করতে বাধ্য হলেন রেফাারি। এই সুযোগে পানি পান করে নিলেন দুই দলের আরও অনেকে। এরপরই আক্রমণে ওঠা নেপালের আক্রমণ কর্নারের বিনিময়ে ক্লিয়ার করেন কোহাতি।

ছয় মিনিটের যোগ করা সময়ের শুরুতে বাম দিক থেকে সতীর্থের বাড়ানো বল ধরে শামসুন্নাহার জুনিয়র বক্সে ঢুকে পড়েন দারুণ ক্ষিপ্রতায়। ঠাণ্ডা মাথায় তিনি বল বাড়ান গোলমুখে। জটলার মধ্যে কোনোমতে জালে বল জড়ান সাগরিকা। প্রথমবারের মতো এগিয়ে যাওয়ার উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে বাংলাদেশ।

একটু পরই স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়েন ডিফেন্ডার কোহাতি। খেলা শুরু হলে নেপালের নিশা থোকারের শট গ্লাভসে জমান মিলি। এরপর শেষের বাঁশি বাজলে ফাইনালে ওঠার আনন্দে মেতে ওঠে মেয়েরা। চতুর্থবারের মতো ফাইনালে উঠল বাংলাদেশ।

উল্লেখ্য, দুই দলের মুখোমুখিতে নেপালের সমান ছয়টি জয় পেল বাংলাদেশ। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১৪ ম্যাচে দুই দলের বাকি দুটি ম্যাচ ড্র।

   

About

Popular Links

x