Sunday, July 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

শান্ত ও নম্র লিওনেল মেসি যেভাবে হলেন ‘মাফিয়া মেসি’

মেসিকে দেখা যেত দুঃখে দুই হাতে মুখ ঢেকে মাঠ ছাড়ছেন, কখনো বা কান্নায় ভেঙে পড়ছেন

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩৫ পিএম

ফুটবল বিশ্বে ‘মাফিয়া মেসি’ মূলত লিওনেল মেসিকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া একটি অত্যন্ত আলোচিত ইন্টারনেট মিম, ড্রেসিংরুমের ডাকনাম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের জনপ্রিয় ট্রোল। তবে এই নামের সাথে কোনো বাস্তব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের দূরতম সংযোগও নেই; বরং ফুটবল মাঠে তার একচ্ছত্র আধিপত্য, সতীর্থদের আগলে রাখার মানসিকতা এবং প্রতিপক্ষকে মনস্তাত্ত্বিকভাবে চূর্ণ করার আক্রমণাত্মক রূপকে নির্দেশ করতেই এই শব্দের উৎপত্তি।

দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বফুটবল লিওনেল মেসিকে চিনে এসেছে এক শান্ত, নম্র ও লাজুক মানুষ হিসেবে। অতীতে আর্জেন্টিনা যখনই বড় কোনো টুর্নামেন্টে পরাজিত হতো, মেসিকে দেখা যেত দুঃখে দুই হাতে মুখ ঢেকে মাঠ ছাড়ছেন, কখনো বা কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। এমনকি কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনাও একসময় আক্ষেপ করে বলেছিলেন যে মেসি দুর্ধর্ষ ফুটবলার হলেও নেতৃত্ব দেওয়ার মতো কড়া ব্যক্তিত্ব তার নেই। বারবার তার এই নরম স্বভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে ফুটবল মহলে। তিনি ছিলেন ফুটবলের চিরন্তন ‘গুড বয়’।

কিন্তু কাতার বিশ্বকাপ বিশ্ববাসীকে এক সম্পূর্ণ নতুন মেসির সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। সেই বিশ্বকাপে মেসি যেন রূপ নিয়েছিলেন এক ‘মাঠের মাস্তানে’। বিপক্ষের চোখে চোখ রেখে কথা বলা, কিংবা ম্যাচ শেষে লাইভ ইন্টারভিউ চলাকালীন টানেলে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে উদ্দেশ্য করে কড়া ভাষায় ধমক দেওয়া, সব মিলিয়ে এক অচেনা, আগ্রাসী মেসির দেখা মেলে। আসলে মেসির এই বদলে যাওয়া রূপই পুরো আর্জেন্টিনা দলকে এক লড়াকু বাহিনীতে রূপান্তর করেছিল, যা তাদের এনে দেয় পরম আরাধ্য বিশ্বকাপ ট্রফি।

কাতার বিশ্বকাপের সেই ধারাবাহিকতা কেবল সাময়িক কোনো ঘটনা ছিল না, বরং ২০২৬ বিশ্বকাপেও নিজের সেই ‘মাফিয়া’ ইমেজকে আরও শক্ত এবং স্থায়ী করেছেন লিওনেল মেসি।

এই টুর্নামেন্টে মেসিকে দেখা গেছে দলের এমন এক অভিভাবক হিসেবে, যিনি সতীর্থদের জন্য যেকোনো লড়াইয়ে বুক চিতিয়ে দাঁড়াতে পারেন। মাঠের বাইরে এবং ড্রেসিংরুমে তার সিদ্ধান্তই এখন চূড়ান্ত। সতীর্থরা তাকে ভালোবেসে এবং সমীহ করে একচ্ছত্র নেতা হিসেবে মেনে নিয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে ‘মাফিয়া মেসি’ মিমটি রসিকতা হিসেবে শুরু হয়েছিল, ২০২৬ বিশ্বকাপে এসে তা মেসির অপরাজেয় ব্যক্তিত্বের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। স্যুট-বুট পরা মেসির এডিট করা ছবির মতোই, মাঠে তিনি এখন শান্ত মাথায় প্রতিপক্ষকে ধ্বংস করার এক অনন্য প্রতীক। মেসি এখন আর কেবল বল পায়ে জাদু দেখান না, তিনি এখন মাঠের শাসনকর্তা। তার এই আগ্রাসী রূপই আর্জেন্টানদের টানা সাফল্যের চূড়ায় ধরে রেখেছে। ফুটবলের রাজপুত্র থেকে ফুটবল সাম্রাজ্যের এই বিশেষ রূপ ধারণের গল্পই প্রমাণ করে, দলের প্রয়োজনে শান্ত মেসিও কতটা ভয়ানক এবং অপরাজেয় হয়ে উঠতে পারেন।

   

About

Popular Links

x