বিশ্বকাপ ফুটবলে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ না থাকলেও টুর্নামেন্ট ঘিরে দেশের ফুটবলপ্রেমীদের উন্মাদনা যেন কোনো অংশে কম নয়। বিশেষ করে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলকে ঘিরে কোটি কোটি সমর্থকের আবেগ, বিশাল পতাকা, জার্সি এবং রাতভর খেলা দেখার আয়োজন বিশ্বকাপ এলেই ভিন্ন এক উৎসবের আবহ তৈরি করে।
বিশ্বকাপ শুরুর আগেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের বিশাল পতাকা টানাতে শুরু করেন সমর্থকেরা। রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে লিওনেল মেসির বিশাল প্রতিকৃতি দেখা গেছে। ক্রীড়াসামগ্রীর দোকানগুলোতেও বেড়েছে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের জার্সি এবং পতাকার চাহিদা।
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে আর্জেন্টিনা ফাইনালে ওঠার পর দেশের বিভিন্ন স্থানে আনন্দ মিছিল, আতশবাজি ও উল্লাসে মেতে ওঠেন সমর্থকেরা। মুন্সিগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় বড় পর্দায় খেলা দেখতে হাজারো ফুটবলপ্রেমীর সমাগম ঘটে।
এবারের বিশ্বকাপের ফাইনালে বাংলাদেশ সময় ১৯ জুলাই দিবাগত রাতে নিউইয়র্ক–নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। ম্যাচটি ঘিরেও দেশের বিভিন্ন স্থানে বড় পর্দায় খেলা দেখার আয়োজন করা হয়েছে।
বাংলাদেশে আর্জেন্টিনার জনপ্রিয়তার পেছনে অন্যতম বড় কারণ কিংবদন্তি ফুটবলার ডিয়েগো ম্যারাডোনা। পরে লিওনেল মেসির সাফল্য সেই সমর্থনকে আরও শক্তিশালী করেছে। ২০২২ সালের বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সমর্থকদের উচ্ছ্বাস ফিফা ও আর্জেন্টিনা দলের খেলোয়াড়দেরও দৃষ্টি কাড়ে।
ভৌগোলিক বা রাজনৈতিকভাবে আর্জেন্টিনার সঙ্গে বাংলাদেশের সরাসরি সম্পর্ক না থাকলেও প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে দেশটিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে এক অনন্য আবেগ। বিশ্বকাপ এলেই সেই আবেগ নতুন মাত্রা পায়।
তবে ফুটবল উন্মাদনার ইতিবাচক দিকের পাশাপাশি উদ্বেগজনক ঘটনাও ঘটছে। দলীয় সমর্থনকে কেন্দ্র করে তর্ক-বিতর্ক, সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনাও সামনে এসেছে। বিভিন্ন স্থানে সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফুটবল আনন্দ ও বিনোদনের খেলা। তাই দলীয় সমর্থন যেন কোনোভাবেই বিভেদ বা সহিংসতার কারণ না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সংযমী ও দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।



