Tuesday, August 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বিশ্বকাপে বেসরকারি বিনিয়োগের পরিকল্পনা বাতিল করলো ফিফা

উয়েফাসহ বিভিন্ন ফুটবল সংস্থার তীব্র বিরোধিতার মুখে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফিফা

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২৬, ১১:৩৪ এএম

বিশ্বজুড়ে ফুটবল কর্মকর্তাদের তীব্র বিরোধিতার মুখে বিশ্বকাপে বেসরকারি বিনিয়োগের পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।

শনিবার (১ আগস্ট) এ সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেন, “ফুটবলকে ঐক্যবদ্ধ ও উন্নত করাই তাদের লক্ষ্য। তাই বিতর্কিত এ প্রস্তাব আর এগিয়ে নেওয়া হবে না।”

বিবৃতিতে ইনফান্তিনো আরও বলেন, “ফুটবলকে ঐক্যবদ্ধ ও উন্নত করার লক্ষ্য আমাদের সব সময়ই ছিল এবং থাকবে। তাই এ প্রস্তাব আর সামনে এগোবে না।”

গত মঙ্গলবার ফিফা ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) নামে একটি বাণিজ্যিক অঙ্গপ্রতিষ্ঠান গঠনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিল। এ প্রতিষ্ঠানে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের যুক্ত করে প্রায় ৪২০ কোটি ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য ছিল। সম্ভাব্য এ প্রতিষ্ঠানের মূল্য ধরা হয়েছিল প্রায় ২ হাজার কোটি (২০ বিলিয়ন) ডলার। বিশ্বকাপ ও ক্লাব বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্ট পরিচালনার দায়িত্বে থাকতো এ সংস্থাটি। 

ফিফা জানিয়েছিল, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে ২০২৭ সালের শুরুতে তাদের ২১১টি সদস্যদেশ এককালীন ২ কোটি ডলার করে পেতো। পাশাপাশি ২০২৭-২০৩০ মেয়াদের উন্নয়ন তহবিলের বরাদ্দ ৮০ লাখ ডলার থেকে বাড়িয়ে ২ কোটি ডলারে উন্নীত করা সম্ভব হতো।

তবে এফএফইতে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার দেওয়ার প্রস্তাব ঘোষণার পর থেকেই ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে।

ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, ‘এ প্রস্তাব বহাল থাকা পর্যন্ত’ তাদের কোনো সদস্যদেশ ফিফার কোনো টুর্নামেন্টে অংশ নেবে না। পরে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) এবং উত্তর ও মধ্য আমেরিকার কনফেডারেশনও (কনক্যাকাফ) এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়।

উয়েফা এক বিবৃতিতে বলে, “বিশ্বকাপকে কেবল একটি বাণিজ্যিক বিনিয়োগ পণ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এর কোনো অংশই কখনো বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের হাতে তুলে দেওয়া উচিত নয়। বিশ্বকাপ বিক্রির জন্য নয়।”

গত শুক্রবার ইনফান্তিনোর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা কার্লোস কর্ডেইরো পদত্যাগ করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। তিনি এ পরিকল্পনাকে ‘ফিফা, ফুটবল এবং দীর্ঘমেয়াদে ফুটবল খেলার ভবিষ্যতের জন্য খারাপ প্রস্তাব’ বলে মন্তব্য করেন।

দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনমেবলের সভাপতি আলেহান্দ্রো ডমিঙ্গেস, যিনি ইনফান্তিনোর ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত, তিনিও প্রকল্পটির পরিধি, কাঠামো, ব্যবস্থাপনা ও সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য চান।

পরিকল্পনা বাতিলের ঘোষণা দিয়ে গভীর রাতে দেওয়া বিবৃতিতে ইনফান্তিনো বলেন, “সদস্যদেশগুলোকে অর্থনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন মিললেই কেবল এটি বাস্তবায়ন করা হতো।”

তিনি আরও বলেন, “সবার মতামত গুরুত্বের সঙ্গে শোনার পর নিশ্চিত হওয়া গেছে, এ প্রস্তাব এমন বিভাজন তৈরি করেছে, যা শেষ পর্যন্ত আমাদের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।”

এএফসিও তাদের ৪৭টি সদস্যদেশের পক্ষ থেকে উয়েফা ও কনক্যাকাফের প্রতি সংহতি জানায়। সংস্থাটি এক বিবৃতিতে বলে, ‘পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে ফিফা বিশ্বকাপ বয়কটের মতো বিষয়ও প্রকাশ্যে আলোচনায় এসেছে। ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে যারা ভাবেন, তাদের সবারই এতে উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত।’

এর আগে শুক্রবার সকালে ফিফা দাবি করেছিল, সদস্যদেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত থাকবে এবং ‘কেউ ফুটবল বিক্রি করছে না’। কিন্তু এরপরও চাপ কমেনি। উয়েফার অবস্থানের প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমর্থনের এক দিন পর যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম বলেন, ইনফান্তিনো ফিফা পরিচালনার জন্য ‘ভুল ব্যক্তি’।

চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনা বাতিল করে ইনফান্তিনো জানান, এখন তার প্রধান লক্ষ্য হবে ফুটবল-সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আবার এক টেবিলে আনা এবং সদস্যদেশগুলোর উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করা।

তিনি বলেন, “সামনের দিনগুলোতে ফুটবল-সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আবার এক টেবিলে আনাই আমার মূল লক্ষ্য। সবার যৌথ স্বার্থ রক্ষা করে এবং বিশেষ করে যেসব দেশের সবচেয়ে বেশি সহায়তা প্রয়োজন, সেখানে ফুটবলের উন্নয়ন ঘটিয়েই আমরা এগিয়ে যাব।”

   

About

Popular Links

x