Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

গ্রুপপর্বেই শেষ বেলজিয়ামের সোনালি প্রজন্মের দৌড়, ক্রোয়েশিয়ার উত্তরণ

বেলজিয়ামের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেও গ্রুপ রানারআপ হিসেবে শেষ ষোলোয় পা রেখেছে ক্রোয়েশিয়া

আপডেট : ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ১১:৫০ পিএম

মরক্কোর কাছে হারের পরেই গ্রুপপর্ব থেকে বেলজিয়ামের উত্তরণ সংশয়ের মাঝে পড়ে গিয়েছিল। শেষ ষোলোর আশা টিকিয়ে রাখতে ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে জয়ের বিকল্প ছিল না রেড ডেভিলদের সামনে। কিন্তু গতবারের রানারআপদের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেছে বেলজিয়াম। ফলে গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায় নিতে হচ্ছে তাদের। অন্যদিকে, এই ড্রয়ের পরেও গ্রুপ রানারআপ হিসেবে শেষ ষোলোয় পা রেখেছে ক্রোয়েশিয়ানরা।

বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) কাতারের আল রাইয়ানের আহমেদ বিন আলী স্টেডিয়ামে ম্যাচের ১০ সেকেন্ডের মাঝেই এগিয়ে যেতে পারতো ক্রোয়েশিয়া। ইভান পেরিসিচের উদ্দেশে হাওয়ায় ভাসানো বল বাড়ান ক্রোয়শিয়া অধিনায়ক লুকা মডরিচ। পেরিসিচ বলটি দারুণভাবে নিয়ন্ত্রণে নিলেও তার ডান পায়ের নেওয়া হাফ ভলি চলে যায় পোস্ট ঘেঁষে।

ম্যাচের ১০ মিনিটে গোলের সুযোগ পেয়েছিল বেলজিয়ামও। বাঁ প্রান্ত থেকে ভেতরে এসে ইয়ানিক কারাস্কো গোলা ছুঁড়লেও ক্রোয়েশিয়ান মিডফিল্ডার মার্সেলো ব্রজোভিচ তা ঠিকভাবে গোলের উদ্দেশে যায়নি। মিনিট তিনেক পর প্রতি আক্রমণে আবার গোলের সুযোগ পেলেও কেভিন ডি ব্রুইনের কাছ থেকে সুবিধাজনক জায়গায় বল পেলেও তা ক্রসবারের ওপর উঁচিয়ে মারেন ড্রায়েস মার্টেনস।

১৫ মিনিটে বেলজিয়ামের কারাস্কো নিজেদের ডি-বক্সে ক্রোয়েশিয়ান ফরোয়ার্ড আন্দ্রেই ক্রামারিচকে অবৈধভাবে ট্যাকেল করলে পেনাল্টি পায় ক্রয়েশিয়া। কিন্তু ভিএআরে সেমি অটোমেটেড অফসাইড প্রযুক্তির মাধ্যমে দেখা যায়, আক্রমণের সময়ে ক্রোয়েশিয়ান সেন্টারব্যাক দেজান লভরেন অফসাইডে ছিলেন। ফলে ক্রোয়েশিয়ার পাওয়া পেনাল্টি বাতিল হয়ে যায়।

প্রথমার্ধের বাকি সময়টায় বেলজিয়াম এবং ক্রোয়েশিয়া দুই দলই আক্রমণ চালিয়ে যায়। মুহুর্মুহু আক্রমণে ম্যাচের প্রথমার্ধ ছিল দারুণ উপভোগ্য। কিন্তু বেলজিয়াম--ক্রোয়েশিয়ার কেউই কোনো শট লক্ষ্যে রাখতে না পারায় গোল ছাড়াই মধ্যবিরতিতে যায় দুই দল।

গোলের জন্য মরিয়া হওয়ায় মধ্যবিরতির পরই রোমেলু লুকাকুকে মাঠে নামান বেলজিয়াম কোচ রবার্তো মার্টিনেজ। কিন্তু বেলজিয়ান স্ট্রাইকার দ্বিতীয়ার্ধে একের পর এক অবিশ্বাস্য সুযোগ নষ্ট করবেন জানলে তিনি নিশ্চিতভাবেই তাকে মাঠে নামাতেন না।

মাঠে নামার মিনিট তিনেকের মাঝেই বেলজিয়ামকে এগিয়ে দেওয়ার সুযোগ পান লুকাকু। কিন্তু ডি ব্রুইনের ক্রসে তার হেড তালুবন্দি করেন ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক লিভাকোভিচ। ক্রোয়েশিয়াও পরের মিনিটেই দেয় পাল্টা জবাব। বাঁ দিক থেকে ভারদিওলের বাড়ানো বল ফাঁকায় থাকা মাতেও কোভাচিচকে খুঁজে নেয়। কিন্তু ক্রোট মিডফিল্ডারের প্রচেষ্টা নস্যাৎ করে দেন গতবারের গোল্ডেন গ্লাভসজয়ী থিবো কর্তোয়া।

কিছুক্ষণ আবারও গোলের সুযোগ আসে বেলজিয়ামের সামনে। কিন্তু ডি-বক্সের বাঁ দিক থেকে ডি ব্রুইনের শট চলে যায় গোলবারের ওপর দিয়ে। ৫৪ মিনিটে ক্রোয়েশিয়ার ব্রজোভিচ শট নিলেও তা রুখে দিয়ে বেলজিয়ামকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন কর্তোয়া। মিনিট ছয়েক পর লুকাকু প্রায় গোলের দেখা পেয়েই গেছিলেন। কিন্তু বেলজিয়ান স্ট্রাইকারের ডান পায়ে নেওয়া শট লিভাকোভিচকে ফাঁকি দিতে পারলেও পোস্টে লেগে বাইরে চলে যায়।

দুই মিনিট পর আবারও সুপার সাব হিসেবে নিজেকে প্রমাণের সুযোগ পান লুকাকু। তবে ফাঁকা জায়গায় হেড নিয়েও বল পোস্টে রাখতে ব্যর্থ হন আন্তর্জাতিক ফুটবলে বেলজিয়ামের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। ম্যাচের শেষ দিকেও বেলজিয়াম একের পর এক আক্রমণ চালিয়েছিল। কিন্তু খলনায়কের ভূমিকায় আবির্ভূত হওয়া লুকাকুর অসফলতায় কোনোটাই গোলে পরিণত হয়নি।

বিশেষ করে ৯০ মিনিটের মিসটি অমার্জনীয় ভুলই বটে। থরগান হ্যাজার্ডের ক্রস থেকে সরাসরি হেডে বল জালে জড়ানোর সুযোগ ছিল লুকাকুর। কিন্তু বুক দিয়ে বল নিয়ন্ত্রণ করতে চাওয়ায় ফাঁকা জায়গায় থেকেও কাজের কাজটি করতে পারেননি তিনি। যোগ করা সময়ে লুকাকুর সামনে ভুলের প্রায়শ্চিত্তের সুযোগ আসে আরেকটি। ছয় গজ বক্সে লুকাকুর সামনে বল এলেও তা দ্রুত বিপদমুক্ত করে দেন ইয়োস্কো গাভারদিওল। শেষ পর্যন্ত সেটাই বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের যাত্রার যবনিকা টেনে দেয়।

এই ড্রয়ের ফলে ১৯৯৮ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের গ্রুপপর্ব পেরোতে ব্যর্থ হয়েছে বেলজিয়ানরা। কাতার বিশ্বকাপটা বেলজিয়ামের সোনালি প্রজন্মের জন্য শেষবারের মতো কিছু জিতে নেওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু সেই পরীক্ষায় বাজেভাবে অকৃতকার্য হয়েছে তারা। তাই কাতার বিশ্বকাপই হয়ত বেলজিয়ামের সোনালি প্রজন্মের এপিটাফ হয়ে থাকলো।

   

About

Popular Links

x