Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ফুটবলে প্রথম হ্যাটট্রিক করা নারী খেলোয়াড়ের রাগবিতে বাজিমাত

ফুটবলে পারদর্শী অংম্রাচিং মারমা তার ব্যতিক্রমী নৈপূণ্য দিয়ে দেশের রাগবিতেও আধিপত্য বিস্তার করছেন

আপডেট : ২৯ মে ২০২৩, ০৪:৪৫ পিএম

২০১০ সালে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের হয়ে প্রথম আন্তর্জাতিক হ্যাটট্রিক করেছিলেন অংম্রাচিং মারমা। তিনিই এখন বাংলাদেশের নারী রাগবি চ্যাম্পিয়ন। তার নেতৃত্বে “ওয়ালটন ৬ষ্ঠ জাতীয় নারী রাগবি চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২১” জিতেছে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি রাগবি দল।

রবিবার (২৮ মে) রাজধানীর পল্টন আউটার স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে বাংলাদেশ আনসার ৬০-০০ পয়েন্টে ঢাকা জেলাকে উড়িয়ে দিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়।

খাগড়াছড়ির মাইসছড়িতে বেড়ে ওঠা অংম্রাচিং ছোটবেলা থেকে ফুটবল খেলতেন।

২০০৪ সালে তিনি খাগড়াছড়িতে নারী ফুটবলের একটি প্রশিক্ষণ শিবিরে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান, এর পরের বছর এএফসি অনূর্ধ্ব-১৭ চ্যাম্পিয়নশিপ বাছাইপর্বের আগে জাতীয় যুব দলে ডাক পান তিনি।

চার ভাই এবং তিন বোনের পরিবারে ২০০৬ সালে বাবার মৃত্যু অংম্রাচিংয়ের জন্য বড় আঘাত হয়ে আসে। তবে সেটি তার ফুটবলের স্বপ্নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। 

২০০৯ সালে প্রথম সিনিয়র জাতীয় নারী ফুটবল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়, সেখানে সেন্টার-ফরোয়ার্ড হিসেবে নিজের পজিশন পছন্দ করে নেন অংম্রাচিং।

২০১০ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত দক্ষিণ এশিয়ান গেমসের জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্ত হন অংম্রাচিং এবং শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ২-০ গোলের ব্যবধানে ম্যাচ জয়ের দিনে একটি গোল করেন।

একই বছর কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত হয় সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম আসর। ওই টুর্নামেন্টে ভুটানকে ৯-০ গোলে হারায় বাংলাদেশ। ২০১০ সালের ১৫ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে প্রথম বাংলাদেশি নারী ফুটবলার হিসেবে হ্যাটট্রিক করেন অংম্রাচিং।

রবিবারের রাগবি ফাইনালের পর ঢাকা ট্রিবিউনের সঙ্গে সেই সময়ের স্মৃতি রোমন্থন করে অংম্রাচিং মারমা বলেন, “আমি প্রথম বাংলাদেশি নারী ফুটবলার হিসেবে হ্যাটট্রিক করি। এটা এক দারুণ অনুভূতি।” 

২০১৬ সালে জাতীয় দল থেকে বাদ পড়েন অংম্রাচিং মারমা। সেই সময়ে সাবিনা খাতুন ছাড়া বেশিরভাগ সিনিয়র ফুটবলারকে নারী দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।

তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিলেও আমি খেলাটা পুরোপুরি ছাড়িনি।আমি আনসার নারী ফুটবল দলের হয়ে খেলি, এছাড়া নারী ফুটবল লীগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া এফসি, নাসরিন এফএ এবং উত্তরা এফসির হয়েও খেলেছি।”

ফাইনালে বাংলাদেশ আনসার ৬০-০০ পয়েন্টে ঢাকা জেলাকে উড়িয়ে দিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়

রাগবিতে নতুন স্বপ্ন

২০০৮ সালে বাংলাদেশ আনসারে চাকরিতে যোগ দেন অংম্রাচিং মারমা। ২০১৯ সালে সেখান থেকেই রাগবি খেলা শুরু করেন তিনি। 

কোভিড মহামারির কারণে ২০২১ সালের নবম বাংলাদেশের আগে কোনো প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারেনি তারা। বাংলাদেশ গেমসের ওই আসরে অংম্রাচিং মারমার নেতৃত্বে রাগবিতে স্বর্ণ জেতে আনসার।

৬ষ্ঠ জাতীয় নারী রাগবি চ্যাম্পিয়নশিপ জেতার আগে পরপর দুবার ফেডারেশন কাপও জিতে নিয়েছে আনসার।

এ বিষয়ে অংম্রাচিং বলেন, “আমাদের দল খুবই শক্তিশালী। এই দলের অর্ধেক খেলোয়াড় বিদেশে জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করেছে।”

৩৩ বছর বয়সী এই খেলোয়াড় বলেন, “আমি মধ্যমাঠে স্ক্রাম হাফ হিসেবে খেলি। রাগবি একটি কঠিন এবং জটিল খেলা, এর জন্য প্রচুর স্ট্যামিনা, শক্তি এবং গতির প্রয়োজন। আমি এখনও শিখছি।”

অংম্রাচিং মারমা রাগবি খেলা শুরু করার পর থেকে বাংলাদেশ নারী রাগবি দল এখন পর্যন্ত কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেনি।

আনসার নারী রাগবি দলের প্রধান কোচ এসএইচ আদ্রা আত্মবিশ্বাসী যে, জাতীয় দলের আন্তর্জাতিক কার্যক্রম শুরু হলে অংম্রাচিং মারমা অনায়াসে ডাক পাবেন।

আদ্রা বলেন, “আনসার দলের বেশিরভাগ নারী খেলোয়াড় নিম্নআয়ের পরিবার থেকে আসা।রাগবি খেলা থেকে যে সামান্য অর্থ তারা পায়, তা দিয়েই পরিবারকে সাহায্য করে।”

তিনি আরও বলেন,  “অংম্রাচিং যখন রাগবিতে আসে, তখনই তার মধ্যে বিশেষ কিছু ছিল যা তাকে শীর্ষ অবস্থানে নিয়ে গেছে। তার পারফরম্যান্স দুর্দান্ত এবং অধিনায়ক হিসেবে দল পরিচালনায় সে খুবই দক্ষ।”

অংম্রাচিং ভলিবল এবং ক্রিকেটও খেলেন। তবে তার ক্যারিয়ারে সর্বশেষ যুক্ত হওয়া রাগবিকে তিনি কতটা ভালোবাসেন তা এই খেলায় তার সাফল্যই বলে দেয়।

   

About

Popular Links

x