২০২১ সালে রিয়াল মাদ্রিদ দায়িত্ব ছাড়ার পর জিনেদিন জিদান কোচিং থেকে দূরে আছেন। অনেক ক্লাবই তাকে ডাগআউটে চেয়েছিল। কিন্তু জিদানের চোখে ফরাসি জাতীয় দলের কোচ হওয়ার স্বপ্ন। বিভিন্ন সময় সংবাদমাধ্যমেও তিনি জাতীয় সেই আগ্রহের কথা জানিয়েছেন।
কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে ফ্রান্সের পরাজয়ের পর অনেকেই দিদিয়ের দেশমের শেষ দেখে ফেলেছিলেন। তবে ২০১৮ বিশ্বকাপ জেতানো দেশমের ওপর ভরসা রেখে তার সঙ্গে ২০২৬ বিশ্বকাপ পর্যন্ত চুক্তি বাড়িয়েছে ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন (এফএফএফ)।
দেশমের সঙ্গে চুক্তি বাড়ানোর কারণে তার সাবেক সতীর্থ জিদানের ফ্রান্সের ডাগআউটে আসার অপেক্ষা আরও বাড়লো। তবে এখনও লা ব্লুজদের কোচ হওয়ার আশা ছাড়েননি জিজু। তার বিশ্বাস, দীর্ঘদিন জাতীয় দলে খেলার পর ফ্রান্সের কোচ হওয়ার ভাবনাটা যুক্তিযুক্ত।”
জিকিউ ম্যাগাজিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জিদান বলেন, “আমি অনেকবারই বলেছি, সাবেক খেলোয়াড় হিসেবে ফ্রান্সের কোচ হওয়ার চিন্তা করাটা যৌক্তিক। তবে এখন সেই সময় না। যখন আমি কানে ছিলাম, তখন আমি বোর্দোতে যেতে চেয়েছিলাম। এরপর আমি জুভেন্টাস এবং তারপর রিয়াল মাদ্রিদে খেলতে চেয়েছি। কারণ প্রতিবারই আমার ভিন্ন অভিজ্ঞতা অর্জনের ইচ্ছা ছিল। আমরা এটাকে উচ্চাকাঙ্ক্ষা বলি। আমি সবসময় উচ্চাভিলাষী ছিলাম এবং নিজের ওপর ভরসা রেখেছি।
রিয়াল মাদ্রিদ ছাড়া জিদান অন্য কোনো দলকে কোচিং করাননি। ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে প্রথমবারের মতো রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেন জিজু। ২০১৮ সালের মে মাসে কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ান। পরের বছর মার্চে তিনি ফের লস ব্লাঙ্কোসদের ডেরায় ফিরে আসেন।
পরবর্তীতে ২০২০-২১ মৌসুমের পর রিয়াল মাদ্রিদে জিদানের দ্বিতীয় অধ্যায় শেষ হয়। দুই মেয়াদে স্প্যানিশ ক্লাবটিকে টানা তিনটি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ আর দুটি লা লিগাসহ ১১টি শিরোপা এনে দেন এ ফরাসি কিংবদন্তি। রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হিসেবে জিদানের চেয়ে বেশি শিরোপা জিতেছেন শুধু প্রয়াত মিগুয়েল মুনোজ।
কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার ক্ষেত্রে ঝুঁকির চেয়ে নিজের ইচ্ছাকেই প্রাধান্য দেন জানিয়ে ৫০ বছর বয়সী এ ফরাসি বলেন, “আমি সাধারণভাবে প্রস্তুতি নিয়ে না, যা অনুভব করি তাই করি। মাদ্রিদে প্রথম মেয়াদে আমি আড়াই বছর ছিলাম। অনেক কিছু জেতার পর আমার বিরতি দরকার ছিল। আট মাস বিরতির পর প্রেসিডেন্টের ডাকে (ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ) আমি ফিরে এসেছিলাম। নিজেকে বলতে পারতাম- আমি যা করেছি তাই যথেষ্ট। কেন আমাকে সেখানে ফিরিয়ে নেবেন? কেন ব্যর্থতার ঝুঁকি নেবেন? কিন্তু আমি এসব বিবেচনায় না নিয়ে সহজাতভাবেই করি।”
পিএসজির কোচ হওয়া নিয়েও জিনেদিন জিদানকে ঘিরে একাধিকবার গুঞ্জন উঠেছিল। কিন্তু ফরাসি ক্লাবটিকে তিনি প্রতিবারই হতাশ করেছেন। এদিকে, মাসিমিলিয়ানো আলেগ্রিকে বাদ দিয়ে দলের সাবেক খেলোয়াড় জিদানকে ডাগআউটে নিয়ে এসে জুভেন্টাস নতুন প্রকল্প হাতে নিতে চায় বলেও শোনা যাচ্ছে। মাঝে সৌদি ক্লাব আল-নাসরও তাকে নিয়ে আগ্রহী ছিল। সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় জিদানকে আগামী মৌসুমে ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের যেকোনো বড় ক্লাবের ডাগআউটে দেখা যেতেই পারে।



