দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্বকাপখ্যাত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে দীর্ঘদিন ধরে গ্রুপপর্বের গণ্ডি পেরোতে পারছিল না বাংলাদেশ। তবে ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টটির সর্বশেষ আসরে ২০০৯ সালের পর ফের সেমিফাইনালে পা রাখে লাল-সবুজের দল। যদিও কুয়েতের বিপক্ষে দুর্দান্ত লড়াইয়ের পর অতিরিক্ত সময়ে গোল হজম করে জামাল ভূঁইয়াদের দৌড় থেমে যায় শেষ চারেই।
দীর্ঘ ১৪ বছর পর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে নাম লেখানোয় রবিবার (৯ জুলাই) দুপুরে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনের উপস্থিতিতে বাংলাদেশ দলকে ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার দিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। সেই অনুষ্ঠানে শীর্ষ পর্যায়ের ফুটবলের জন্য মানসম্মত মাঠ না থাকার বিষয়টি সামনে আসে।
বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড় ও অন্যান্য সদস্যদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানে সহকারী কোচ হাসান আল মামুন তার বক্তৃতায় প্রথমবারের মতো দেশে উপযুক্ত ভেন্যু না থাকার কথা জানিয়ে বলেন, খেলোয়াড়রা যেভাবে আত্মত্যাগ করেছে, এখান থেকে আমরা ফুটবলকে অন্য স্তরে নিয়ে যেতে চাই। এর জন্য আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার দরকার।
বাংলাদেশ জাতীয় দলের এ সাবেক অধিনায়ক বলেন, আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সময় আমরা একটা জিনিসের অভাব অনুভব করি। সেটা হলো আমাদের মাঠগুলো একই স্তরের না। বসুন্ধরা কিংসের স্টেডিয়ামটি ছাড়া দেশের কোনো মাঠই আন্তর্জাতিক মানের না। বাংলাদেশের ফুটবলের উন্নয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ মাঠগুলোকে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী প্রস্তুতের জন্য আমি অনুরোধ করছি।”
বাফুফে সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিনও তার বক্তৃতায় একই কথা বলেন। বাংলাদেশ দলের সহকারী কোচের বক্তব্যে সহমত পোষণ করে তিনি জানান, বাফুফে এ বিষয়ে একদমই অসহায়। কারণ ফুটবল মাঠগুলোর ওপর তাদের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেই।
কাজী সালাউদ্দিন বলেন, “এটাই আমার সবচেয়ে বড় সমস্যা কারণ আমি মাঠের জন্য পাগল হয়ে গিয়েছিলাম যেহেতু আমি সেগুলো সংস্কার করতে পারি না। কোন মাঠে আমরা খেলতে পারব, তা আমাদের জানা নেই। এ ধরনের মাঠে ভালো ফুটবল খেলা যায় না।”
বাফুফে সভাপতি আরও বলেন, “আমি দুঃখিত যে মাঠের বিষয়টি আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। আমরা মাঠগুলোকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছি যেন সেগুলোকে ফুটবল খেলার জন্য সঠিকভাবে উপযোগী করা যায়। এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের হয়ে খেলা বাংলাদেশ জাতীয় দলের অধিনায়ক ও মিডফিল্ডার জামাল ভূঁইয়া ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “অবশ্যই আমরা আন্তর্জাতিক মানের মাঠ চাই। কিন্তু এখন বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে সংস্কারকাজ চলছে। তাই এটা আমাদের হাতে নেই। আমরা সর্বোত্তম সুযোগ-সুবিধা চাই।”
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে অসাধারণ খেলা বসুন্ধরা কিংস ফরোয়ার্ড ও রাইট উইঙ্গার রাকিব হোসেন বলেন, “ঢাকার বাইরে আমাদের যে মাঠগুলো আছে, সেগুলোর কোনোটাই পেশাদার ফুটবল খেলার উপযোগী না। আমরা সেই মাঠে খেলতে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হই। মানের দিক থেকে আমাদের দেশের মাঠ এবং বিদেশের মাঠের মধ্যে বিশাল পার্থক্য রয়েছে।”
সাফের ফাইনালে উঠতে পারলে নিজের তহবিল থেকে দলকে ৫ লাখ টাকা উপহার দেবেন বলেছিলেন বিশ্বনাথ ঘোষ। সাফের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য এ ডিফেন্ডার পেয়েছেন ৫ লাখ টাকা। বসুন্ধরা কিংসের এ রাইটব্যাক বলেন, “ঢাকার বাইরে যে মাঠে আমাদের খেলতে হয়, তা আমরা ভাবতেও পারি না। সঠিক মানের মাঠ থাকাটা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।”
সংস্কারকাজের কারণে চলমান মৌসুমের শীর্ষ পর্যায়ের ম্যাচগুলো ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে পারেনি। এর পরিবর্তে কুমিল্লা, গোপালগঞ্জ, ময়মনসিংহ, রাজশাহী ও সিলেটে অধিকাংশ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। চারবারের প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংসের হোমগ্রাউন্ড বসুন্ধরা স্পোর্টস কমপ্লেক্সকে নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই। তবে অন্যান্য ভেন্যুগুলো ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিল।
ওই মাঠগুলো জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অধীনে রয়েছে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সচিব পরিমল সিং ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, মাঠের মানোন্নয়নের দাবি জানানো হলে তারা অবশ্যই পরিস্থিতির দিকে দেখবেন। পরিমল সিং বলেন, “তারা যদি মাঠগুলোকে আন্তর্জাতিক মানে নেওয়ার দাবি জানায়, তাহলে আমরা অবশ্যই সেটি দেখব। যদি তারা (বাফুফে) আমাদের জানায়, তাহলে আমরা সংস্কারেকাজের কথা বিবেচনা করব।”



