নরওয়ের আর্লিং হাল্যান্ডকে সময়ের অন্যতম সেরা ফুটবলার এবং ভবিষ্যতের ব্যালন ডি অর জয়ী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অন্যদিকে, জার্মানির সুন্দরী দৌড়বিদ অ্যালিসা স্মিডটকে বলা হয় বিশ্বের সবচেয়ে আবেদনময়ী অ্যাথলেট।
কেমন হয়, যদি হাল্যান্ড এবং স্মিডট প্রতিযোগিতায় নামেন! অনেকেই হয়ত ভাবছেন, এ আবার কী পাগলের প্রলাপ! একই খেলার নারী ও পুরুষ বিভাগের হলেও না হয় কথা ছিল। হাল্যান্ড ও স্মিডটের খেলার ক্ষেত্রই তো ভিন্ন।
কিন্তু হাল্যান্ড চাইলে জিনিসটা বাস্তবে আলোর মুখও দেখতে পারে। অ্যালিসা স্মিডট যে হাল্যান্ডের সামনে তার সঙ্গে ট্র্যাকে দৌড়ানোর চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন। নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে সাড়া দিলে ক্রীড়াপ্রেমীরা ব্যতিক্রমী কিছু উপভোগের সুযোগ পাবেন।
২০২২-২৩ মৌসুমে ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে প্রিমিয়ার লিগ, এফএ কাপ ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগের “ট্রেবল” জিতেছেন হাল্যান্ড। পুরো মৌসুমে ইংলিশ ক্লাবটির জার্সিতে ৫২টি গোল করেছেন এ ফরোয়ার্ড, হয়েছেন প্রিমিয়ার লিগ ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতাও।
গত মৌসুমটা স্বপ্নের মতো কাটানোর পথে মাঠে গড়ে হাল্যান্ডের গতি ছিল ঘণ্টায় ২২.৫ মাইল। উচ্চতা আর শারীরিক গঠনের জন্য স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি একটা সুবিধা পান ২৩ বছর বয়সী এই ফুটবলার। এর সঙ্গে দুরন্ত গতি যোগ হলে তা প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে চুরমারে যথেষ্ট।

বর্তমানে মাঠে হাল্যান্ডের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দৌড়ানো ফুটবলারের সংখ্যাটা খুব কমই। কিন্তু অসম্ভব এই কাজটি করার ব্যাপারে আত্নবিশ্বাসী স্মিডট। তাই তো হাল্যান্ডের দিকে দৌড়ের চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন তিনি। ৪০০ মিটারে পাল্লা দিতে পারলেও ২০০ মিটার স্প্রিন্টে হাল্যান্ডের সঙ্গে পাল্লা দেওয়া কঠিন হবে বলে মানেন এই জার্মান নারী দৌড়বিদ।
নরওয়ের সংবাদমাধ্যম ডগব্লাডেটে হাল্যান্ডের সঙ্গে একই ট্র্যাকে দৌড়ানো প্রসঙ্গে স্মিডট বলেন, “আমি সঠিক জানি না, তবে ৪০০ মিটার স্প্রিন্টে হয়ত তার (হাল্যান্ড) সঙ্গে পারব। কিন্তু ২০০ মিটারে সেটা বেশ কঠিন হবে।”
এই নারী অ্যাথলেট আরও বলেন, “তবে স্প্রিন্টটা বাস্তবে হলে আমি খুবই আনন্দিত হব। এ ব্যাপারে তাকে জিজ্ঞেস করতে হবে। তবে আমি সবসময়ই প্রস্তুত। তো হাল্যান্ড, তুমি যদি লড়তে প্রস্তুত থাকো, তাহলে আমি আনন্দিত হবো। দেখা যাক কে কার চেয়ে বেশি দ্রুত।”

২০২১ সালে জার্মানির বিশ্বকাপজয়ী সেন্টারব্যাক ম্যাটস হামেলসকেও একই রকম চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছিলেন অ্যালিসা স্মিডট। স্বদেশি ফুটবল তারকাকে অনায়াসেই হারান এই দৌড়বিদ। যদিও যখন হামেলসের বয়স ছিল ৩২ বছর, যেখানে হাল্যান্ডের বয়স মাত্র ২৩ বছর।
নারী অ্যাথলেট হলেও অ্যালিসা স্মিডটকে আন্ডারডগ ভাবার কারণ নেই। এ বছর হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে অনুষ্ঠিত অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেন ২৪ বছর বয়সী এ জার্মান। প্রতিযোগিতায় ঘণ্টায় ১৭ কিলোমিটার বেগে দৌড়ে ৪০০ মিটার অতিক্রম করেন তিনি।
মূলত দৌড়বিদ হলেও অ্যালিসা স্মিডট একাধারে একজন মডেল ও ট্রেইনারও বটে। ২০১৭ সালে অস্ট্রেলিয়ান ম্যাগাজিন বাস্টেড কভারেজ এই জার্মান সুন্দরীকে বিশ্বের সবচেয়ে আবেদনময়ী অ্যাথলেট হিসেবে অ্যাখ্যা দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামেও ৪০ লাখ অনুসারী আছে স্মিডটের।



