Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ওয়ানডে বিশ্বকাপের সেঞ্চুরিনামা

  • ১৯৭৫ সালে প্রথম ওয়ায়নডে বিশ্বকাপেই ৬টি সেঞ্চুরির সাক্ষী হয়েছিলেন ক্রিকেটপ্রেমীরা
  • সর্বশেষ ৯ আসরের আটটিতে ব্যাটারদের সেঞ্চুরির সংখ্যা দুই অঙ্কের ঘর পেরিয়েছে
আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২৩, ০৬:২৯ পিএম

ক্রিকেটের যেকোনো সংস্করণেই ব্যাটারদের কাছে অন্যতম প্রার্থিত বিষয় সেঞ্চুরি। ওয়ানডে বিশ্বকাপের মঞ্চে দেশের পক্ষে শতক হাঁকানো তো যেকোনো ব্যাটারের জন্যই স্বপ্ন। মারমুখী ব্যাটিংয়ের রমরমা যুগে ব্যাটারদের হাত থেকে সহসাই দৃষ্টিনন্দন শটে স্ট্রোকের ফুলঝুরি ফোটে। ৫০ ওভারের ক্রিকেটে সেঞ্চুরিও তাই ব্যাটারদের সেঞ্চুরি হাঁকানো অনেকটা সহজই হয়েছে বলা যায়।

১৯৭৫ সালে আয়োজিত প্রথম ওয়ায়নডে বিশ্বকাপেই ৬টি সেঞ্চুরির সাক্ষী হয়েছিলেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। সময়ের সঙ্গে বেড়েছে টুর্নামেন্টের প্রসার; ফরম্যাটের পরিবর্তনের কারণে কখনো অংশগ্রহণকারী দল আবার কখনো বেড়েছে আসরের ম্যাচের সংখ্যা। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বেড়েছে ব্যাটারদের সেঞ্চুরির সংখ্যাও। সর্বশেষ ৯ আসরের আটটিতেই ব্যাটারদের সেঞ্চুরির সংখ্যা দুই অঙ্কের ঘর পেরিয়েছে, টানা হিসাব করলে যেটি দাঁড়াবে সাত আসরে।

দুয়ারে কড়া নাড়ছে আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপের আরেকটি আসর। এবারও ২০১৯ সালের ফরম্যাটে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপ। তাই ব্যাটারদের কাছ থেকে অনেক সেঞ্চুরির আশা করাই যায়। ভারতে ওয়ানডে বিশ্বকাপের ত্রয়োদশ আসর শুরুর আগে চলুন সংখ্যাতত্ত্বে আগের আসরের সেঞ্চুরিগুলোর দিকে চোখ বুলিয়ে আসি-

মোট শতক

আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ১৯৬টি সেঞ্চুরি হয়েছে। ওয়ানডে বিশ্বকাপে দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করা অগণিত ক্রিকেটারদের মধ্যে মাত্র ১১৭ জন খেলোয়াড়ের ব্যাট থেকে শতক এসেছে। এখন পর্যন্ত ওয়ানডে বিশ্বকাপের সর্বশেষ শতকটি হাঁকিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার ডেভিড ওয়ার্নার। ২০১৯ সালে সর্বশেষ আসরের লিগ পর্বে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১৫ বাউন্ডারি ও দুই ছক্কায় ১১৭ বলে ১২২ রান করেছিলেন এ অজি ওপেনার।

প্রথম শতক

সাধারণত যেকোনো কিছুতে প্রথম হওয়ার কৃতিত্ব একজনেরই হয়ে থাকে। কিন্তু ওয়ানডে বিশ্বকাপের প্রথম শতকই সম্ভবত একমাত্র কীর্তি, যেখানে দুজন ক্রিকেটারের নাম একইসঙ্গে উচ্চারিত হয়। ১৯৭৫ সালে আয়োজিত প্রথম ওয়ানডে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী দিনেই ভারতের বিপক্ষে ১৩৭ রান করেন ইংল্যান্ডের ডেনিস অ্যামিস। একই দিনে উত্তর আফ্রিকার বিপক্ষে ১৭১ রানের ইনিংস খেলেন নিউজিল্যান্ডের গ্লেন টার্নার।

গ্লেন-টার্নার-ডেনিস-অ্যামিস

সর্বোচ্চ শতক

আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির রেকর্ডটি  ভাগাভাগি করছেন শচীন টেন্ডুলকার ও রোহিত শর্মা। একদিনের ক্রিকেটের বিশ্বযজ্ঞে ছয়বার শতক হাঁকিয়ে ব্যাট উঁচিয়ে ধরেছেন দুই ভারতীয় ব্যাটার। তবে ওয়ানডে বিশ্বকাপে যেখানে টেন্ডুলকার ৪৪ ইনিংসে ব্যাট করেছেন, সেখানে রোহিত ব্যাট হাতে নেমেছেন ১৭ ইনিংসে।

শচীন-টেন্ডুলকার-sachin-century

১৯৯৬ সালে নিজের খেলা প্রথম বিশ্বকাপেই দুটি সেঞ্চুরি (কেনিয়ার বিপক্ষে অপরাজিত ১২৭ ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৩৭) করেছিলেন টেন্ডুলকার। এরপর ১৯৯৯ বিশ্বকাপে কেনিয়ার বিপক্ষে অপরাজিত ১৪০ আর ২০০৩ বিশ্বকাপে নামিবিয়ার বিরুদ্ধে ১৫২ রানের ইনিংস খেলেন শচীন। ২০০৭ বিশ্বকাপে অবশ্য এ ভারতীয়ের ব্যাট থেকে কোনো সেঞ্চুরি আসেনি। তবে নিজের অভিষেক বিশ্বকাপের মতো শেষ বিশ্বকাপেও দুটি সেঞ্চুরি (ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১২০ ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১১১) করেছিলেন শচীন।

রোহিত-শর্মা-ভারত

অন্যদিকে, ২০১৫ সালে নিজের খেলা প্রথম বিশ্বকাপে মাত্র একটি শতক হাঁকিয়েছিলেন রোহিত। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে সেই আসরের শেষ আটে বাংলাদেশের বিপক্ষে ১৪ বাউন্ডারি ও তিন ছক্কায় ১২৬ বলে ১৩৭ রান করেন এই ওপেনার। তবে ২০১৯ সালে বিশ্বকাপের সর্বশেষ আসরে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হওয়ার পথে লিগ পর্বে একে একে ক্ষিণ আফ্রিকা (অপরাজিত ১২২), পাকিস্তান (১৪০), ইংল্যান্ড (১০২), বাংলাদেশ (১০২) ও শ্রীলঙ্কার (১০৩) সেঞ্চুরি করেন এই ডানহাতি ব্যাটার।

সেঞ্চুরির ফুলঝুরির আসর

এখন পর্যন্ত ওয়ানডে বিশ্বকাপের প্রতিটি আসরেই নিদেনপক্ষে একটি করে সেঞ্চুরি হয়েছে। তবে ২০১৫ বিশ্বকাপ যেন অন্য সব আসরকেই ছাড়িয়ে গিয়েছিল। তাসমান সাগরের দুই পাড়ে আয়োজিত বিশ্বকাপের সেই আসরে জন ব্যাটারদের কাছ থেকে এসেছিল ৩৮ সেঞ্চুরি,যা যা ওয়ানডে বিশ্বকাপ ইতিহাসে এক আসরে সর্বোচ্চ শতকের রেকর্ড।

কুমার-সাঙ্গাকারা-Kumar-Sangakkara-2015-WC

সেঞ্চুরির খরা নেমেছিল যে আসরে

এখন পর্যন্ত ওয়ানডে বিশ্বকাপের যতগুলো আসর অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেগুলোর কোনোটিই সেঞ্চুরিবিহীন যায়নি। তবে ১৯৭৯ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় আসরে সেঞ্চুরি যেন ডুমুরের ফুল হয়ে উঠেছিল। ইংল্যান্ডে আয়োজিত ওই আসরে সেঞ্চুরি হয়েছিল মাত্র ২টি, যা ওয়ানডে বিশ্বকাপ ইতিহাসে এক আসরে সর্বনিম্ন শতকের রেকর্ড। ওই আসরের দুটি সেঞ্চুরিই এসেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটারদের কাছ থেকে। গ্রুপপর্বে ভারতের বিপক্ষে ১০৬ রান করেছিলেন গর্ডন গ্রিনিজ। পরে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ভিভ রিচার্ডস অপরাজিত থাকেন ১৩৮ রানে।

ভিভ-রিচার্ডস-viv-richards-1979-wc

এক আসরে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরি

ওয়ানডে বিশ্বকাপের মঞ্চে দেশের হয়ে একটি সেঞ্চুরি করাই অনেকের জন্য বড় স্বপ্ন। সেখানে একই আসরে একাধিক সেঞ্চুরি করা নিঃসন্দেহেই কঠিন কাজ। খেলোয়াড় একদিনের বিশ্বকাপের মঞ্চে অনেকেই একই আসরে একাধিক সেঞ্চুরি পেয়েছেন। রোহিত শর্মা তাদের মধ্যে অন্যতম হলেও তিনি অবশ্যই সবার চেয়ে আলাদা। কারণ বিশ্বকাপের একই আসরে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির রেকর্ডটি এ ভারতীয় ব্যাটারেরই। ২০১৯ সালে বিশ্বকাপে এই ডানহাতি ওপেনারের ব্যাট থেকে এসেছিল ৫টি শতক। যুক্তরাজ্যে আয়োজিত সেই আসরের লিগ পর্বে দক্ষিণ আফ্রিকা (অপরাজিত ১২২), পাকিস্তান (১৪০), ইংল্যান্ড (১০২), বাংলাদেশ (১০২) ও শ্রীলঙ্কার (১০৩) সেঞ্চুরি করেন রোহিত।

রোহিত-শর্মা-ভারত

দ্রুততর শতক

আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপের মঞ্চে দ্রুততম শতক হাঁকানোর রেকর্ডটি আয়ারল্যান্ডের কেভিন ও’ব্রায়েনের দখলে। ২০১১ বিশ্বকাপে গ্রুপপর্বে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে মাত্র ৫০ বলেই সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন এই ডানহাতি মিডল অর্ডার ব্যাটার। শেষ পর্যন্ত রানআউট হওয়ার আগে তার ইনিংসটি থামে ১১৩ রানে। মাত্র ৬৩ বলে ১৭৯.৩৭ স্ট্রাইক রেটে খেলা এই আইরিশ অলরাউন্ডারের ইনিংসে ছিল ১৩টি বাউন্ডারি ও ৬টি ছক্কা; অর্থাৎ জায়গায় দাঁড়িয়েই তিনি করেছিলেন ৮৮ রান।

কেভিন-ও-ব্রায়ান

শততম সেঞ্চুরিয়ান

আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপের শততম সেঞ্চুরিটি এসেছিল ম্যাথু হেইডেনের ব্যাট থেকে। ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠেয় ২০০৭ বিশ্বকাপের সুপার এইটে ট্রান্স তাসমান সাগরের লড়াইয়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১০০ বল খেলে ১০৩ রাঙ করেন এই অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার। ১০৩ স্ট্রাইক রেটে খেলা ইনিংসটি ১০টি বাউন্ডারি ও দুই ছক্কায় সাজিয়েছিলেন এই বাঁহাতি ব্যাটার।

ম্যাথু-হেইডেন-অস্ট্রেলিয়া

উইকেটের পেছনেও দাঁড়াই, শতকও হাঁকাই

আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপের মঞ্চে এখন পর্যন্ত উইকেটরক্ষক হিসেবে ১৭ জন শতক হাঁকিয়েছেন। তবে এদের মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন কুমার সাঙ্গাকারা। ওয়ানডে বিশ্বকাপে এই লঙ্কান উইকেটরক্ষক পাঁচটি সেঞ্চুরি করেছেন, যার মধ্যে চারটিই এসেছিল ২০১৫ সালের আসরে। ২০১১ সালে গ্রুপপর্বের ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১১১ রানের ইনিংস খেলে বিশ্বকাপে নিজের প্রথম শতক হাকান সাঙ্গাকারা। ২০১৫ সালে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডে আয়োজিত পরবর্তী আসরের গ্রুপপর্বে একে একে বাংলাদেশ (অপরাজিত ১০৫), ইংল্যান্ড (অপরাজিত ১১৭), অস্ট্রেলিয়া (১০৪) ও স্কটল্যান্ডের (১২৪) বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেন এই বাঁহাতি ব্যাটার।

কুমার-সাঙ্গাকারা-২০১৫-বিশ্বকাপ-sangakkara-2015-odi-wc

সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ান

সবচেয়ে কম বয়সে আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপের মঞ্চে শতক হাঁকানোর কীর্তি আয়ারল্যান্ডের পল স্টার্লিংয়ের। ২০১১ বিশ্বকাপে কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে গ্রুপপর্বের ম্যাচে মাত্র ৭২ বল খেলেই তিনি ১৪০.২৭ স্ট্রাইকরেটে ১০১ রান করেন। ডানহাতি এই আইরিশ ওপেনারের ইনিংসে ছিল ১৪টি চার ও দুটি ছক্কা। ২০১১ সালের ১৮ মার্চে ডাচদের বিপক্ষে ওই শতকের সময়ে স্টার্লিংয়ের বয়স ছিল মাত্র ২০ বছর ১৯৬ দিন। স্টার্লিং ব্যতিত অনুর্ধ্ব-২১ বয়সী আর কোনো খেলোয়াড়ই এখন পর্যন্ত ওয়ানডে বিশ্বকাপে সেঞ্চুরি করতে পারেননি।

পল-স্টার্লিং-আয়ারল্যান্ড

বয়োজ্যেষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ান

আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে সেঞ্চুরি করার রেকর্ড শ্রীলঙ্কার তিলকরত্নে দিলশানের। তবে তিনিই একমাত্র ক্রিকেটার যিনি এই রেকর্ডটির মালিক হওয়ার পর করে আবার নিজেই নিজের রেকর্ডটি ভাঙেন। ২০১৫ বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বে বাংলাদেশের বিপক্ষে ১৪৬ বলে ২২ বাউন্ডারিতে অপরাজিত ১৬১ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেন। ২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারিতে এই সেঞ্চুরি করার সময়ে তার বয়স ছিল ৩৮ বছর ১৩৫ দিন। তবে ১৩ দিন না যেতেই রেকর্ডটিকে আরও ওপরে নিয়ে যান এই লঙ্কান ব্যাটার। ১১ই মার্চ স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৯৯ বলে ১০ চার ও এক ছক্কায় ১০৪ রান করেন দিলশান। এই সেঞ্চুরি করার সময় দিলশানের বয়স ছিল ৩৮ বছর ১৪৮ দিন।

তিলকরত্নে-দিলশান

যেখানে এগিয়ে ভারতীয়রা

আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি শতক হাঁকিয়েছেন ভারতের ব্যাটাররা। একদিনের ক্রিকেটের বিশ্বমঞ্চে এখন পর্যন্ত ৩২টি সেঞ্চুরি এসেছে ভারতীয় ব্যাটারদের কাছ থেকে। তবে ৫০ ওভারের বিশ্বকাপে সেঞ্চুরি করার দিকে ভারতের সঙ্গে ইদুর-বিড়াল দৌড়ের লড়াই চলছে অস্ট্রেলিয়ার। বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটাররা করেছেন ৩১টি সেঞ্চুরি।

ফাইনালে শতক

আইসিসি বিশ্বকাপের মঞ্চে সেঞ্চুরির সংখ্যা দুইশর কাছাকাছি টুর্নামেন্টের ফাইনালে শতক হাঁকানোর ঘটনা মাত্র ৬টি। তবে এই কীর্তিটি সমান দুবার করে এসেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কার ব্যাটারদের কাছ থেকে। প্রথম বিশ্বকাপের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৮৫ বলে ১০২ রানের ইনিংস খেলেন ক্লাইভ লয়েড। পরের আসরের ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অপরাজিত ১৩৮ রানের ইনিংস খেলে তার পদাঙ্ক অনুসরণ করেন ভিভ রিচার্ডস।

রিকি-পন্টিং-Ricky-Ponting-2003-WC-Reuters

ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালে পরবর্তী সেঞ্চুরির সাক্ষী হতে ক্রিকেটপ্রেমীদের অপেক্ষা করতে হয় ১৭ বছর। ১৯৯৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে অপরাজিত ১০৭ রানের ইনিংস খেলে শ্রীলঙ্কাকে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জেতান অরবিন্দ ডি সিলভা। এরপর ২০০৩ বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে চার বাউন্ডারি ও ৮ ছক্কায় ১২১ বলে অপরাজিত ১৪০ রানের অসাধারণ এক ইনিংস খেলেন অস্ট্রেলিয়ার রিকি পন্টিং। পরের আসরের বৃষ্টিবিঘ্নিত ফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১০৪ বলে ১৩টি বাউন্ডারি ও ৮ ছক্কায় ১৪৯ রান করেন অস্ট্রেলিয়ান উইকেটরক্ষক অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, যা এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টের ফাইনালে কোনো ব্যাটারের পক্ষে সর্বোচ্চ ইনিংস। ২০১১ বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে ৮৮ বলে ১৩টি চারে অপরাজিত ১০৩ রানের ইনিংস খেলেন শ্রীলঙ্কার মাহেলা জয়াবর্ধনে।

অ্যাডাম-গিলক্রিস্ট-অস্ট্রেলিয়া

ফাইনালে সেঞ্চুরি করেও যেখানে আলাদা মাহেলা

আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালে মাত্র ৬ জন ব্যাটার শতক হাঁকিয়েছেন। তারা হলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্লাইভ লয়েড, ভিভ রিচার্ডস, অস্ট্রেলিয়ার রিকি পন্টিং, অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, শ্রীলঙ্কার অরবিন্দ ডি সিলভা ও মাহেলা জয়াবর্ধনে। তবে এদের মধ্যে জয়াবর্ধনে একদিক দিয়েই একইসঙ্গে আলাদা এবং দুর্ভাগা। জয়াবর্ধনে ছাড়া বিশ্বকাপ ফাইনালে সেঞ্চুরি অন্য পাঁচজন দলের হয়ে শিরোপা জিতেছিলেন এবং নিজেরাও হয়েছিলেন ম্যাচসেরা। কিন্তু উপমহাদেশের মাটিতে আয়োজিত ২০১১ বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে দারুণ এক সেঞ্চুরি করে ম্যাচসেরা হওয়া তো দূর, দিনশেষে জয়াবর্ধনেকে থাকতে হয়েছিল পরাজিত দলে।

মাহেলা-জয়াবর্ধনে-শ্রীলঙ্কা

যেখানে গেলেই দেখা মিলবে শতকের

ইংল্যান্ডকে বলা হয় ক্রিকেটের আদিভূমি। আর সেই ইংল্যান্ডেরই বিভিন্ন ভেন্যুতে যেন বিশ্বকাপের মঞ্চে সেঞ্চুরির জন্য সবচেয়ে পয়মন্ত। ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ড ক্রিকেট গ্রাউন্ড ও নটিংহামের ট্রেন্টব্রিজ ওয়ানডে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ৮টি সেঞ্চুরির সাক্ষী হয়েছে। এছাড়া, ক্রিকেটের তীর্থখ্যাত লর্ডস, যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের দ্য ওভাল, বার্মিংহামের এজবাস্টন ও অস্ট্রেলিয়ার সর্ববৃহৎ মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ৭টি করে শতক হয়েছে।

   

About

Popular Links

x