দুবাইতে উদ্বোধনী ম্যাচে জয়লাভের পর আগামী কয়েক মাসের মধ্যে অবসরের ইঙ্গিত দিয়েছেন অ্যান্ডি মারে।
সোমবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) এমন ইঙ্গিত দেন তিনি। এদিন ডেনিস শাপোভালভকে ৪-৬, ৭-৬ (৭/৫), ৬-৩ এ হারিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে পৌঁছান সাবেক বিশ্ব সেরা।
চেক কিশোর জ্যাকব মেনসিকের বিপক্ষে খেলার আগে বিবিসিকে ৩৬ বছরের এই খেলোয়াড় বলেন, “২০২৪ সালে এটিপি ট্যুরে তার টেনিস সফর শেষ হতে পারে।”
সোমবার মারে বলেন, “আমার সম্ভবত খুব বেশি সময় বাকি নেই। তবে আমি এই গত কয়েক মাসে যতটা সম্ভব সেরাটা করব।”
তিনি বলেন, “আমি এখনও প্রতিযোগিতা করতে ভালবাসি ও এখনও খেলাটি ভালবাসি। স্পষ্টতই, আপনি যত বেশি বয়সী হবেন, তরুণদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা, আপনার শরীরকে ফিট ও সতেজ রাখা কঠিন থেকে কঠিন হবে।”
গত সপ্তাহে মেনসিকের কাছে পরাজয়ের সময় মারে বলেছিলেন, “এই খেলাটি আর আমার জন্য নয়। যদিও পরবর্তীতে এই মন্তব্য অস্বীকার করেন তিনি।”
মারে বলেন, “আমি যা বলি তা অনেক সময় পড়ে বিচার করে ফেলে। তবে এটি সবসময় যুক্তিযুক্ত হয় না। তবুও আমি সবার মতামতকে গুরুত্ব দেই।”
রজার ফেদেরার, নোভাক জোকোভিচ, আন্দ্রে আগাসি এবং রাফায়েল নাদালের মাইলফলক ছুঁতে হার্ড কোর্টে ৫০০ তম জয় অর্জন করেন মারে।
তিনি বলেন, “হ্যাঁ, এটা খারাপ নয়। হার্ড কোর্ট আমার জন্য অনেক বছর ধরে একটি দুর্দান্ত সারফেস। আমি এটা নিয়ে খুব গর্বিত।”
চোট সারিয়ে কোর্টে ফেরার পর থেকে অতীতের ছায়া হয়েই রয়েছেন মারে। টেনিস বিশ্বের ফ্যাব ফোরের অন্যতম স্কটিশ খেলোয়াড় কোনো প্রতিযোগিতাতেই সুবিধা করতে পারছেন না। তুলনায় আনাড়ি খেলোয়াড়দের কাছেও হেরে যাচ্ছেন। যেমন জানুয়ারিতে বছরের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যামের ৩০তম বাছাইয়ে আর্জেন্টিনার ইচভেরির কাছে হারেন সরাসরি সেটে। মেলবোর্ন পার্কে কোনো প্রতিরোধই গড়ে তুলতে পারেননি ৩৬ বছরের মারে। এর আগে ব্রিসবেন ইন্টারন্যাশনালের প্রথম রাউন্ডে হেরে গিয়েছিলেন মারে। তাকে হারিয়ে ছিলেন গ্রিগর দিমিত্রভ।
গত ২৬ ফেব্রুয়ারির আগে এটিপি র্যাঙ্কিংয়ে মারে ১৭ ধাপ নেমে ৬৭তম স্থানে নেমে এসেছেন।
পেশাদার টেনিসে সাফল্য ছাড়াও অলিম্পিকে স্বর্ণ পদক রয়েছে মারের। কয়েক বছর আগেও উইম্বলডন কর্তৃপক্ষ অনেক আশা নিয়ে তার দিকে তাকিয়ে থাকতেন। দুইবার বছরের তৃতীয় গ্র্যান্ড স্ল্যাম চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন তিনি। কিন্তু একের পর এক চোট মারেকে প্রত্যাশিত সাফল্য থেকে দূরে রেখেছে। তরুণ খেলোয়াড়দের সঙ্গে লড়াইয়ে নিজেকে মেলে ধরতে পারছেন না।



