সুপার এইট নিয়ে অনিশ্চয়তায় থাকা ইংল্যান্ড কাল রাতে একগাদা রেকর্ড গড়ে ওমানকে হারিয়েছে। টস হেরে আগে ব্যাট করতে নামা ওমানকে মাত্র ৪৭ রানে গুটিয়ে দেন জফ্রা আর্চার, মার্ক উডরা। যে রান তাড়া করতে নেমে জস বাটলার, ফিল সল্টরা সময় নিয়েছেন মাত্র ১৯ বল।
বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) ওমানকে মাত্র ৪৭ রানে গুঁড়িয়ে দিয়ে ৩.১ ওভারেই ম্যাচ জিতে নেয় জস বাটলারের দল। ২৪০ বলের ম্যাচ শেষ হয়ে যায় মাত্র ৯৯ বলে।
মাত্র ৯৯ বলের মধ্যে খেলা শেষ করে ইংল্যান্ড শুধু ৮ উইকেটের জয়ই তুলে নেয়নি, সুপার এইটে ওঠার জন্য রান রেটও বেশ বড় অঙ্কে বাড়িয়ে নিয়েছে। ৫.২ ওভারের আগে লক্ষ্য তাড়া করতে পারলে স্কটল্যান্ডকে রানরেটে টপকে যাওয়া সম্ভব ছিল। জস বাটলারের ৮ বলে ২৪ রানের সুবাদে তার আগেই সেটা করল ইংলিশরা। স্কটল্যান্ডের +২.১৬৩ কে টপকে ইংল্যান্ডের রানরেট এখন +৩.০৮১।
৮ উইকেটের জয়ে সুপার এইটের আশা বাঁচিয়ে রাখার পাশাপাশি রেকর্ড বইয়েও ঝড় তোলে ইংল্যান্ড। একনজরে দেখে নেওয়া যাক সব রেকর্ড-
- ওমানের দেয়া ৪৮ রানের টার্গেট ইংল্যান্ড টপকে যায় ১০১ বল হাতে রেখে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে একশর বেশি বল বাকি রেখে জয়ের প্রথম ঘটনা এটি। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কা নেদারল্যান্ডসের টার্গেট টপকে যায় ৯০ বল বাকি রেখে। এছাড়া আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতেও পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বল বাকি রেখে জয়ের রেকর্ড এটি। সব মিলিয়ে যৌথভাবে নবম।
- ওমানের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে সর্বনিম্ন স্কোর হলো আজ। এর আগে নেপালের বিপক্ষে ৭৮ রানে অলআউট হওয়া ছিল তাদের সর্বনিম্ন দলীয় স্কোর। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এর চেয়ে কম রানে অলআউট হয়েছে শুধু ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ২০১৯ সালে ৪৫ রানে।
- টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এর চেয়ে কম রানে অল আউট হওয়ার ঘটনা আছে আর ৩টি। চলতি আসরেই পাপুয়া নিউ গিনিকে ৩৯ রানে গুটিয়ে দিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ২০১৪ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নেদারল্যান্ডসও থামে ৩৯ রানে। এছাড়া ২০২১ সালে একই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ৪৪ রানে অলআউট হয় ডাচরা।
- টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পূর্ণাঙ্গ ম্যাচে এর চেয়ে কম বল খেলা হয়েছে আর একবার। ২০১৪ সালে নেদারল্যান্ডস ও শ্রীলঙ্কার ম্যাচ শেষ হয়ে গিয়েছিল ৯৩ বলে।
- ওমানের ৪৭ রানে অলআউট হওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চতুর্থ সর্বনিম্ন দলীয় স্কোর। সর্বনিম্ন ৩৯ রান করেছে নেদারল্যান্ডস (২০১৪ বিশ্বকাপ) এবং উগান্ডা (২০২৪ বিশ্বকাপ)। এরপরেই আছে নেদারল্যান্ডসের ৪৪ রানের আরেকটি দলীয় সংগ্রহ।
- ওমানকে গুঁড়িয়ে আদিল রাশিদ নেন ১১ রানে ৪ উইকেট। এছাড়া জফ্রা আর্চার ও মার্ক উড নেন ৩টি করে উইকেট। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে একই দলের তিন বোলারের অন্তত ৩ বার তার বেশি উইকেট নেওয়ার ঘটনা এটি প্রথম। সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ১৯তম। তিন বোলার মিলে প্রতিপক্ষের সবকটি উইকেট নেওয়ার পঞ্চম ঘটনা এটি। বিশ্বকাপে প্রথম।
- রান তাড়ায় প্রথম ওভারে বিলাল খানের প্রথম দুই বলে ছক্কা মারেন ফিল সল্ট। “বল বাই বল” তথ্য থাকা আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচগুলোর মধ্যে ইনিংসের প্রথম দুই বলে ছক্কা মারার প্রথম ঘটনা এটি।



সুপার এইটে আফগানিস্তান, গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিউজিল্যান্ডের
নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে সুপার এইটের পথে বাংলাদেশ