মাঠের ক্রিকেটে বেশ একটা ভালো সময় যাচ্ছে না ভারতের। ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের কাছে ৩-০ তে হারার পর অস্ট্রেলিয়ার কাছেও ৩-১ এ সিরিজ হারে রোহিত শর্মার দল। তাই দলের মধ্যে ‘‘শৃঙ্খলা, একতা ও ইতিবাচক পরিবেশ’’ নিশ্চিত করতে ভারতীয় ক্রিকেটারদের জন্য ১০টি নির্দেশনা দিয়েছে বিসিসিআই।
কিছু নির্দেশনা আগে থেকে চলমান থাকলেও এবার ১০টি সুনির্দিষ্ট বিষয়ে কঠোরভাবে মেনে চলার কথা বলেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। নির্দেশনা অমান্য করলে আইপিএল ও ঘরোয়া ক্রিকেট খেলতে না দেওয়া, বেতন-ভাতা থেকে টাকা কেটে নেওয়ার শাস্তিও হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে ক্রিকেটারদের। এ সব নির্দেশনা বিসিসিআইয়ের চুক্তিতে থাকা খেলোয়াড়দের বৃহস্পতিবারই পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বিসিসিআই এমন কঠোর অবস্থান নিয়েছে রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলিদের সাম্প্রতিক বাজে ফলের পরিপ্রেক্ষিতেই।
টানা ২টি সিরিজের পারফরম্যান্স নিয়ে সম্প্রতি পর্যালোচনা বৈঠকে বসে বিসিসিআই। এতে বোর্ড সচিব দেবজিত সাইকিয়া, প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর, টেস্ট ও ওয়ানডে অধিনায়ক রোহিত শর্মা, প্রধান নির্বাচক অজিত আগারকার উপস্থিত ছিলেন।
স্পোর্টসভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইএসপিএনক্রিকইনফোর তালিকা অনুযায়ী ১০টি নির্দেশনা হলো-
বিসিসিআইয়ের মতে, জাতীয় দলের জন্য বিবেচিত হতে এবং কেন্দ্রীয় চুক্তিতে জায়গা পেতে ঘরোয়া ক্রিকেটে ম্যাচ খেলা বাধ্যতামূলক। শুধু বিশেষ পরিস্থিতিতে ঘরোয়া ক্রিকেটে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকা যাবে। তবে সেটি হবে নির্বাচক কমিটির চেয়ারম্যানের অনুমোদনসাপেক্ষে, যা স্বচ্ছতার সঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে খেলোয়াড়দের।
এছাড়াও টিম হোটেল থেকে অনুশীলন বা ম্যাচ ভেন্যুতে যাতায়াত করতে হবে টিম বাসে। হোটেল থেকে মাঠে বা মাঠ থেকে হোটেলে পরিবার নিয়ে আলাদাভাবে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় যাওয়ার কোনো সুযোগ থাকবে না। বিশেষ ক্ষেত্রে প্রয়োজন হলে নির্বাচক কমিটির চেয়ারম্যান ও প্রধান কোচের পূর্ব-অনুমোদন নিতে হবে।
দলের সঙ্গে সফরের সময় অতিরিক্ত কোনো কিছু যাবে না। ব্যাগ ও ওজন নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে বেশি হলে সেটি সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়কে নিজের খরচে বহন করতে হবে।
৩০ দিনের অধিক সফরের ক্ষেত্রে একজন খেলোয়াড় ৩টি স্যুটকেস ও ২টি কিট ব্যাগ অথবা সর্বোচ্চ ১৫০ কেজি ওজনের ব্যাগেজ নিতে পারবেন। আর সফর ৩০ দিনের কম হলে ব্যাগেজ নেওয়া যাবে ৪টি, ওজন ১২০ কেজির মধ্যে।
বিসিসিআইয়ের সুস্পষ্ট অনুমোদন থাকা সাপেক্ষে ব্যক্তিগত স্টাফ, যেমন ব্যবস্থাপক, রাঁধুনি, সহকারী, নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে নেওয়া যাবে।
বেঙ্গালুরুতে অবস্থিত সেন্টার অব এক্সলেন্সে ক্রীড়াসামগ্রী ও ব্যক্তিগত জিনিসপত্র পাঠাতে হবে টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে সমন্বয় করে। আলাদাভাবে পাঠাতে চাইলে খরচ সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়কে বহন করতে হবে।
প্রত্যেক খেলোয়াড়কে অবশ্যই অনুশীলন সেশনের পুরোটা সময় দলের সঙ্গে থাকতে হবে। নিজের অনুশীলন শেষ হয়ে গেলে কোচের সঙ্গে সমন্বয় ব্যতিত চলে যাওয়া যাবে না।
এছাড়াও সিরিজ বা ট্যুর চলাকালে কোনো খেলোয়াড় ব্যক্তিগত কোনো বিজ্ঞাপন বা বাণিজ্যিক কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন না।
বিদেশে ৪৫ দিনের বেশি ভ্রমণের ক্ষেত্রে সফরে সঙ্গী ও সন্তানদের নেওয়া যাবে। তবে প্রতি সিরিজে একবারই নেওয়া যাবে এবং অবস্থান করতে পারবে সর্বোচ্চ ২ সপ্তাহ। এ ক্ষেত্রে খেলোয়াড় ও তার পরিবারের আবাসনের খরচ বিসিসিআই বহন করবে।
বিসিসিআইয়ের অফিশিয়াল শুটিং, প্রচারণামূলক কার্যক্রম ও অন্যান্য আয়োজনে প্রত্যেক খেলোয়াড়কে অবশ্যই অংশ নিতে হবে।
কোনো ম্যাচ যদি নির্ধারিত সময়ের আগেও শেষ হয়েও যায়, সিরিজ বা ট্যুর শেষ হওয়া পর্যন্ত খেলোয়াড়দের দলের সঙ্গে অবস্থান করতে হবে।



