সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রেন্ড পরিবর্তন হয় ঝড়ের গতিতে। জিবলি স্টাইল বা ক্যারিকেচারের পর ফেসবুকে এখন নতুন উন্মাদনা তৈরি করেছে ‘ক্রেয়ন ড্রয়িং স্টাইল’। নিজের ছবিকে ১০ বছরের শিশুর আঁকা কোনো সুন্দর স্কেচ বা রঙিন ক্রেয়ন আর্টে রূপান্তর করা হয় নতুন এই ট্রেন্ডের মাধ্যমে।
টাইমলাইনজুড়ে এখন নস্টালজিক আমেজ
প্যাস্টেল টেক্সচার, হাতে আঁকা শিশুসুলভ দৃশ্য আর সাদা কাগজের ব্যাকগ্রাউন্ড - সবকিছু মিলিয়ে এক ধরনের নস্টালজিক অনুভূতি দিচ্ছে এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) জেনারেটেড ছবিগুলো। ব্যবহারকারীরা তাদের প্রোফাইল পিকচার বা স্ক্রিনশটকে রূপ দিচ্ছেন রঙিন ও আদুরে এক কাল্পনিক জগতে। যেখানে পেন্সিল শেডিং আর ক্রেয়নের উজ্জ্বল স্ট্রোকের মাধ্যমে ফুটে উঠছে ব্যক্তিত্বের এক মজার বহিঃপ্রকাশ।
আলাদা কোনো দক্ষতার প্রয়োজন নেই
এই ট্রেন্ডের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো - এটি তৈরি করতে আপনার পেশাদার কোনো ডিজাইন করার কৌশল জানতে হবে না। বর্তমানে জনপ্রিয় এআই টুল যেমন: চ্যাটজিপিটি, জেমিনি বা টুন অ্যাপ ব্যবহার করে খুব সহজেই এই ছবিগুলো তৈরি করা যাবে।
কীভাবে তৈরি করবেন নিজের প্রোফাইল?
সহজ চারটি ধাপ অনুসরণ করে আপনিও এই ট্রেন্ডে যুক্ত হতে পারেন:
স্পষ্ট ছবি নির্বাচন: প্রথমে নিজের একটি পরিষ্কার এবং ভালো আলোর ছবি (সেলফি বা পোর্ট্রেট) বেছে নিন।
এআই টুল ওপেন করুন: আপনার স্মার্টফোনে বা কম্পিউটারে জেমিনি বা পছন্দের কোনো এআই ইমেজ জেনারেটর ওপেন করুন।
সঠিক প্রম্পট বা নির্দেশনা দিন: ছবি আপলোড করে এআই’কে লিখুন: “এই ছবিটি ক্রেয়ন ড্রয়িং স্টাইলে রিক্রিয়েট করো। দেখে যেন মনে হয় ১০ বছরের কোনো শিশু এটি এঁকেছে। এতে ফুল, মেঘ ও সূর্যের মতো কিছু কিউট উপাদান যোগ করো।”
সংরক্ষণ (সেভ)ও শেয়ার: ছবি তৈরি হয়ে গেলে পছন্দমতো কাস্টমাইজ করে ডাউনলোড করে নিন এবং ফেসবুক প্রোফাইল হিসেবে ব্যবহার করুন।
কেন এটি ভাইরাল?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই প্রযুক্তি এখন সৃজনশীলতাকে সাধারণ মানুষের হাতের মুঠোয় এনে দিয়েছে। মানুষ এখন নিজের ভার্চুয়াল পরিচয়কে আরও ভিন্নভাবে ও নান্দনিকভাবে উপস্থাপন করতে পছন্দ করে। আর এই ‘ক্রেয়ন ড্রয়িং’ ট্রেন্ডটি কেবল ছবি এডিটিং নয়, বরং শৈশবের স্মৃতিকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ফিরিয়ে আনার একটি নতুন মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে।



