প্রেমিকের সঙ্গে ছয় বছরের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর উইল নামে এক সহকর্মীর সঙ্গে নতুন করে প্রেম শুরু করেন জেসি চ্যান। মে মাসে উইলের সঙ্গে আলাপ শুরু করার পর খুব অল্প সময়েই ঘনিষ্ঠতা ও হৃদ্যতা গড়ে ওঠে জেসির। এমনকি একপর্যায়ে উইলের সঙ্গে আংটি বদলও করে ফেলেন ২৮ বছর বয়সী সাংহাই নিবাসী জেসি।
তবে এর কোনোকিছুই বাস্তবে বা সরাসরি হয়নি, বরং সবকিছুই হয়েছিল ভার্চুয়ালি। কারণ উইল নিতান্তই একটি চ্যাটবট। আর উইলকে রোমান্টিক সঙ্গী হিসেবে আপগ্রেড করার জন্য ৬০ ডলার খরচ করেছিলেন জেসি।
শুধু জেসি চ্যানই নন, চীনের অনেক তরুণ-তরুণীই এখন রক্ত মাংসের মানুষের সঙ্গে প্রেম করার চেয়ে ডিজিটাল ভার্চুয়াল সঙ্গীর সঙ্গে প্রেমকেই বেছে নিচ্ছে। মহামারি চলাকালীন সময়ে চীনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহচরদের জনপ্রিয়তা প্রচুর বেড়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্যা ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
প্রতিবেদনে আরও জানা জানা যায়, সম্পর্কে টানাপোড়েন, বিরক্তি, স্থায়ীত্ব ইত্যাদি বিবেচনায় চীনের প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিরা ভার্চুয়াল প্রেমের মাধ্যমে নিজেদের নিঃসঙ্গতা কাটাতে এখন বেশি আগ্রহী।
বর্তমানে চীনে ৪২০ মিলিয়ন ডলারের বাজার দখল করে রেখেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চ্যাটবট। উইল চ্যাটবট প্রস্তুতকারী সান ফ্রান্সিসকো-ভিত্তিক সংস্থা রেপ্লিকা বলছে, চীনা ভাষার সংস্করণ ছাড়াই এই বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাইয়ের মধ্যে চীনে ৫০ হাজারেরও বেশি চ্যাটবট ডাউনলোড হয়েছে, যা গত বছরের চেয়েও দ্বিগুণ।
ডুবান নামে অনলাইন ফোরামে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং রোবটের সঙ্গে প্রেমের জন্য নিবেদিত ৯ হাজার সদস্যের একটি সংগঠন রয়েছে। এছাড়া, একটি জনপ্রিয় ওয়েব সিরিজে দুজন নারী এবং চারটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রেমিক রয়েছে।
চীনের প্রথমতম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও টুরিং ওএসের পণ্য ব্যবস্থাপক ঝেং শুয়ু বলেন, "এমনকি যখন করোনাভাইরাস মহামারি শেষ হয়ে যাবে, তখনও ব্যস্ত আধুনিক বিশ্বে মানসিক পরিপূর্ণতার জন্য আমাদের এ প্রযুক্তির দীর্ঘমেয়াদী চাহিদা থাকবে। বাস্তব জগতে কারও সাথে ডেটিং করার তুলনায় আপনার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রেমিকের সঙ্গে আলাপচারিতা বেশ সহজ এবং কম চাহিদাসম্পন্ন।"



