চাঁদের চাঁদের দক্ষিণ মেরুর খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে ভারতের পাঠানো “চন্দ্রযান-৩”।
বুধবার (২৩ আগস্ট) ভারতীয় সময় সন্ধ্যা ৬টার কিছু পরে চন্দ্রযানটির মাটি স্পর্শ করার কথা রয়েছে। এ অভিযান সফল হলে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে চন্দ্রযান পাঠানো প্রথম কোনো দেশ হিসেবে ইতিহাসে জায়গা করে নেবে ভারত। ভারতের মহাকাশ সংস্থা ইসরো সফলতার বিষয়ে আশা প্রকাশ করেছে।
এর আগে রাশিয়ার “লুনা ২৫” নভোযানেরও চাঁদের এই মেরুতে নামার কথা ছিল। কিন্তু গত রবিবার সেটি বিধ্বস্ত হয়ে যায়।
চাঁদের ২৫ কিলোমিটার দূর থেকে চন্দ্রযানটি নামার প্রক্রিয়া শুরু করবে। এরপর থেকে চাঁদে নামা পর্যন্ত সময় লাগবে ১৫ মিনিটের মতো। এর জন্য চন্দ্রযানটির গতি ক্রমশ কমিয়ে আনা হবে। প্রথমে তাকে নিয়ে আসা হবে চাঁদের থেকে ৭.৪ কিলোমিটার উচ্চতায়। এটা করতে ১১ মিনিট ৩০ সেকেন্ড লাগার কথা। তারপর গতি আরও কমিয়ে তাকে ৬.৮ কিলোমিটারে নামিয়ে আনা হবে।
যখন চাঁদের থেকে ৮০০ মিটার দূরে থাকবে চন্দ্রযানটি, তখন লেজার রশ্মি দিয়ে নামার উপযুক্ত জায়গা খুঁজবে। এরপর আরও গতি কমিয়ে তাকে ১৫০ মিটারে নামিয়ে আনা হবে। তারপর প্রতি সেকেন্ডে ১০ মিটার গতিতে নামবে। একেবারে শেষে তা সেকেন্ডে ১.৬৮ মিটার গতিতে নামবে। এটাকে বলা হচ্ছে সফট ল্যান্ডিং।
ইতোপূর্বে ভারতের চন্দ্রযান-২ চাঁদে নামার ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছিল। এবার চন্দ্রযানটিতে অনেকগুলো সেন্সর লাগানো হয়েছে। ভারতয়ি বিজ্ঞানীরা বলছেন, সেন্সর যদি কাজ নাও করে, তারপরেও ঠিকভাবে চাঁদে নামতে পারবে এটি।
পৃথিবীর হিসাবে চাঁদের মাস হয় ২৮ দিনে। সেখানে ১৪ দিন রাত, আবার ১৪ দিন সূর্যের আলো থাকে। বুধবার থেকে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে ১৪ দিন ধরে সূর্যের আলো থাকবে। তাই এই বুধবারকেই অবতরণের জন্য বেছে নিয়েছে ইসরো।
এদিকে ইসরোর ওয়েবসাইট, ফেসবুক, ইউটিউব পেজে পাঁচটা ২০ মিনিট থেকে চাঁদে নামার লাইভ সম্প্রচার শুরু হবে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এখন ব্রিকস সম্মেলনে দক্ষিণ আফ্রিকায় আছেন। সেখান থেকেই চন্দ্রযান-৩ এর চাঁদে নামার দৃশ্য দেখবেন তিনি।



চাঁদের দক্ষিণ মেরুর অজানা রহস্যের খোঁজে ভারত