বৃহস্পতির চাঁদে পানি আছে কি-না তা খতিয়ে দেখতে মহাকাশযান পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। বিজ্ঞানীদের ধারণা, সেখানে গুপ্ত সমুদ্র থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
সোমবার (১৪ অক্টোবর) ফ্লোরিডা থেকে নাসার এই মহাকাশযানের উৎক্ষেপণ হয়। স্পেসএক্সের ফ্যালকন রকেট বৃহস্পতির চাঁদ ইউরোপার দিকে পাড়ি দিয়েছে। সাড়ে পাঁচ বছর পর মহাকাশযান সেখানে পৌঁছাতে পারবে। এই অভিযানের নাম ইউরোপা ক্লিপার।
নাসা জানিয়েছে, এই অভিযান সফল হলে ইউরোপা সম্পর্কে নতুন তথ্য পাওয়া যাবে। বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হতে পারবেন, সেখানে কোনো গুপ্ত সমুদ্র আছে কি-না।
তবে অভিযান সম্পর্কে নাসার কর্মকর্তা জিনা ডিব্র্যাসিও বলেন, “ইউরোপাতে প্রাণ আছে কি-না, সেটা দেখার জন্য অভিযান নয়, আমরা দেখতে চাইছি, ইউরোপা বাসযোগ্য হতে পারে কি-না। আমরা শক্তির উৎস দেখতে চাইছি, আমরা সেখানকার পরিবেশ বুঝতে চাইছি। আমরা দেখতে চাইছি, আমাদের বিশ্বের মতো ইউরোপা বাসযোগ্য কি-না।”
এই মিশনের খরচ ৫২০ কোটি মার্কিন ডলার। এই মিশন একসময় ভেস্তে যেতে বসেছিল। কারণ, বিজ্ঞানীদের মনে হয়, ক্লিপারের ট্রানজিস্টারগুলো বৃহস্পতির তীব্র বিকিরণ সহ্য করতে পারবে না।
গত কয়েক মাস ধরে নাসার বিজ্ঞানীরা সবকিছু খতিয়ে দেখেছেন, প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করেছেন, তারপর তারা সিদ্ধান্তে এসেছেন, মিশন পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে যেতে পারবে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রে হ্যারিকেন মিল্টন আছড়ে পড়ায় মহাকাশযানের উৎক্ষেপণ বেশ কিছুদিন পিছিয়ে যায়। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় সোমবার মহাকাশযানকে নিয়ে রকেট ইউরোপার দিকে পাড়ি দেয়।
জেট প্রোপালশন ল্যাবরেটরির ডিরেক্টর লরি লেশিন বলেন, “আমাদের কাছে একটা মহান দিন। আমরা খুবই উত্তজিত বোধ করছি।”
২০৩০ সাল নাগাদ এই মহাকাশযান বৃহস্পতির কাছে পৌঁছাবে। ২১ দিনে একবার তা বৃহস্পতিকে প্রদক্ষিণ করবে।
ইউরোপা ক্লিপার প্রোগ্রামের বিজ্ঞানী কার্ট নিইবুর বলেন, “যদি বৃহস্পতির চাঁদে কোনো ধরনের জীবনের সন্ধান পাওয়া যায়, তাহলে ভাবুন তার অর্থ কী হবে। ইউরোপাতে যদি জীবন না থাকে, সেটা যদি বাসযোগ্য হয় তাহলেও নতুন দিগন্ত খুলে যাবে।”



