মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় দাদা-দাদির কবরের পাশে দাফন করা হয়েছে রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার শিকার শিশু রামিসা আক্তারকে।
বুধবার (২০ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নের মধ্য শিয়ালদী গ্রামের মোল্লাবাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।
এর আগে, রাত আটটার দিকে তার মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে মুন্সীগঞ্জে নেওয়া হয়। পরে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
নিহত রামিসার মরদেহটি গ্রামের বাড়িতে পৌঁছানোর পর স্বজন ও এলাকাবাসীদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। দীর্ঘদিন ঢাকার পল্লবীতে ভাড়া বাসায় থাকা রামিসা ওই ইউনিয়নের মধ্য শিয়ালদী গ্রামের হান্নান মোল্লার মেয়ে। রাজধানীর একটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল সে।
শিশু রামিসাকে হত্যার বিষয়ে এ পর্যন্ত অভিযুক্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে প্রধান আসামি সোহেল রানা। একই ঘটনায় সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে পাঠানো হয়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার বিকেল সোয়া ৩টার দিকে হাজতখানা থেকে কড়া নিরাপত্তায় সোহেল রানাকে আদালতে তোলা হয়।
পুলিশের ওই আবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাসা থেকে বের হয় রামিসা। তারপর থেকেই শিশুটির সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিলো না। পরে আসামিদের ফ্ল্যাটের সামনে মেয়ের জুতা দেখতে পান রামিসার মা।
পরে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন স্বজন ও প্রতিবেশীরা। ফ্ল্যাটটিতে শিশুটির মরদেহ খণ্ডিত অবস্থায় পাওয়া যায়। ওই ফ্ল্যাট থেকে স্বপ্না আক্তারকে আটক করা হয়। একটি কক্ষের জানালার গ্রিল কেটে সেখান থেকে পালিয়ে যায় মূল আসামি সোহেল রানা। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।



