একদল বিক্ষোভকারীর প্রতিবাদের মুখে শিল্পকলা একাডেমিতে নাট্যপ্রদর্শনী বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে নাট্যদল দেশ নাটকের "নিত্যপুরাণ" নাটকের প্রদর্শনীতে এ ঘটনা ঘটে। প্রায় ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিট দৈর্ঘ্যের নাটকটি শেষ হওয়ার ১৫ মিনিট আগে প্রদর্শনী থামিয়ে দিতে হয়।
নাটকটির রচয়িতা মাসুম রেজা জানান, সন্ধ্যা সাতটায় নাটকের প্রদর্শনী শুরু হয়। এর ঘণ্টাখানেক আগে দেশনাটকের মুখ্য পরিষদের সদস্যসচিব এহসানুল আজিজ বাবুর বিরুদ্ধে একদল মানুষ বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। তারা জাতীয় নাট্যশালার মূল ফটকের বাইরে একটি ব্যানার টাঙিয়ে স্লোগান দিতে থাকে।
মাসুম রেজা বলেন, "বিক্ষোভকারীরা কেউ নাটকের মানুষ নয়। সবাই অচেনা লোক।"
তিনি আরও জানান, শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক সৈয়দ জামিল আহমেদ কয়েক দফা বিক্ষোভকারীদের শান্ত করার চেষ্টা করেন।
সৈয়দ জামিল আহমেদ এ সময় নাটক প্রদর্শনী চালিয়ে যেতে বলেন তাদের। তার সঙ্গে শিল্পকলা একাডেমির কর্মকর্তারা এবং নাট্যঙ্গনের অনেকে ছিলেন। কিন্তু তাদের সর্বাত্মক চেষ্টার পরও বিক্ষোভকারীদের শান্ত করা যায়নি।
একপর্যায়ে দেশনাটক সিদ্ধান্ত নেয় নাটকের প্রদর্শনী বন্ধ করে দেওয়ার। এ সময় মঞ্চে উঠে মাসুম রেজা দর্শক-শিল্পী সবার কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন।
এ সময় মঞ্চে উঠে শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালকও দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, বিক্ষোভকারীদের শান্ত করতে অপারগ হয়ে তিনি মঞ্চে এসেছেন।
এদিকে বিক্ষোভকারীরা যে ব্যানার টানিয়ে বিক্ষোভ করছিলেন সেই ব্যানারে লেখা ছিল,"আওয়ামী লীগের দোসর মুক্ত বাংলা চাই। দেশনাটকের দলনেতা এহসান উল আজিজ বাবুকে আমাদের হাতে তুলে দিন।"
ব্যানারে আরও লেখা ছিল, ফেসবুকে বর্তমান সরকারকে নিয়ে "কটূক্তি" করায় এবং তাদেরকে রাজাকার বলে নাটক নির্মাণ করায় এহসানুল আজিজ বাবুর বিচার চান তারা।
ফেসবুক ঘেঁটে দেখা গেছে, গত ১৭ অক্টোবর নাট্যদল দেশ নাটকের এহসানুল আজিজ বাবু তার ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে লেখেন, “আসুন আমরা সবাই এই দেশকে বাঁচাই, জয় বাংলা বলে এই বাংলাদেশবিরোধী, স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকারদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াই।
পোস্টের সঙ্গে একটি ছবিও শেয়ার করেন বাবু, যেখানে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও অন্য উপদেষ্টাদের ছবি এডিট করে জিন্নাহ টুপি পরানো। ওই পোস্টকে কেন্দ্র করেই বিক্ষোভের সূত্রপাত বলে জানা গেছে।



‘তাওহিদি জনতা’র বাধায় শো-রুম উদ্বোধন করা হলো না মেহজাবীনের