চাঁদপুরের হাইমচরে এমভি আল-বাখেরা জাহাজে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার জাহাজের ৭ কর্মচারীর একজন সজীবুল ইসলাম। তিনি জাহাজটিতে গ্রিজার হিসেবে কাজ করতেন। ছেলের নির্মম মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে বৃহস্পতিবার রাতে মারা গেছেন তার বাবা দাউদ মোল্যা।
মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে সজীবুলের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়। ছেলেকে হারানোর শোক সইতে পারেননি বাবা দাউদ মোল্যা। ছেলের নির্মম হত্যাকাণ্ডের সংবাদ শোনার পর থেকেই অনবরত কাঁদতে থাকেন তিনি। তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন স্বজনরা। একপর্যায়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন দাউদ মোল্যা। পরে বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১২টার দিকে নিজ বাড়িতেই তার মৃত্যু হয়। বাবা-ছেলের এমন মৃত্যুর সংবাদে এলাকাজুড়ে নেমেছে শোকের ছায়া।
শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) সজীবের মামা আহাদ সরদার সকালে দাউদ মোল্যার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৫ মাস আগে বিয়ে করেছিলেন সজীবুল। ৫ বছর ধরে জাহাজের বিভিন্ন পদে চাকরি করেছিলেন তিনি। সম্প্রতি জাহাজের চাকরিতে পদোন্নতি পেতে পরীক্ষা দিয়েছিলেন। সেই ফলাফলের অপেক্ষায় ছিলেন। মাঝের এই সময়টায় বসে না থেকে সপ্তাহ দুয়েক আগে এমভি আল-বাখেরা জাহাজে চাকরি নেন সজীব।
এ বিষয়ে মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহমান জানান, জাহাজে হত্যার শিকার সজীবুলের বাবা দাউদ মোল্যার মৃত্যুর সংবাদ রাতেই জানতে পেরেছেন। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।
উল্লেখ্য, চাঁদপুরের মেঘনা নদীতে ‘‘এমভি আল-বাখেরা’’ নামের সার বহনকারী একটি জাহাজ থেকে সোমবার বিকেলে ৫ জনের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় আরও ৩ জনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজন মারা যান। বেঁচে থাকা জুয়েল নামে একজন ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার আকাশ মণ্ডলের ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।



