Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে শিক্ষক গ্রেপ্তার, আদালতে তোলার সময় পিটুনি

পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্তকে পুনরায় হাজতে পাঠানো হয়

আপডেট : ০৯ মার্চ ২০২৫, ০৭:২৬ পিএম

ঠাকুরগাঁওয়ে পঞ্চম শ্রেণির স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে আটক শিক্ষক মোজাম্মেল হক মানিককে আদালতে তোলার সময় পুলিশের উপস্থিতিতেই পিটুনি দিয়েছে আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতা।

রবিবার (৯ মার্চ) দুপুরে অভিযুক্ত ওই শিক্ষককে ঠাকুরগাঁও অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শরিফুল ইসলামের আদালতে তোলার সময় এ ঘটনা ঘটে।

পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্ত মানিককে পুনরায় কোর্ট হাজতে পাঠানো হয়। অন্যদিকে, অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের বিচারের দাবিতে ছাত্র-জনতার ব্যানারে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে আন্দোলনকারীরা। পরে সেখান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা জর্জ কোর্ট চত্বরে গিয়ে অবস্থান নেয়।

এ সময় তারা দাবি তোলেন অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে আরও কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। পরে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বরে বিক্ষোভ করে। তাদের শান্ত করতে জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেন, কোনোভাবেই যেন অপরাধী আইনের ফাঁক দিয়ে বের না হতে পারে তা নিশ্চিত করা হবে। প্রমাণিত হলে অবশ্যই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে অপরাধীর।

এর আগে শনিবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের কচুবাড়ি মাদারগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণিরর ওই শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ে প্রাইভেট পড়ানোর সময় ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে শিক্ষক মানিকের বিরুদ্ধে।

ছাত্রীর পরিবারের অভিযোগ, সদর উপজেলার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে কর্মরত আছে মোজাম্মেল হক মানিক। স্কুল বন্ধ থাকলেও শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়ায় সে। প্রতিদিনের মতো শনিবার প্রাইভেটে যায় ছাত্রী। এ সুযোগে ধর্ষণ করে। 

স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্তকে রক্ষা করতে নানা রকম পাঁয়তারা চলছে। গ্রামের প্রভাবশালী রাজনীতিকরা ঘটনাটিকে ধামাচাপা দিতে ওই শিশুকে সরকারি হাসপাতালে না পাঠিয়ে একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে যায়। গোপনে এখানে আলামত ধ্বংসের উদ্দেশ্য নিয়ে আসা হলে পরিবারটিকে এখান থেকে উদ্ধার করে সরকারি হাসপাতালে নেয় স্থানীয়রা।

ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জয়ন্ত কুমার সাহা বলেন, “ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে আসা শিশুটিকে হাসপাতালে গাইনি বিভাগে ভর্তি করা হয়। তার চিকিৎসা দিয়ে শারীরিক পরীক্ষা করা হয়েছে। রিপোর্টগুলোর আসার পর আমরা নিশ্চিত হতে পারবো যে এটি আসলে ধর্ষণ কিনা।”

   

About

Popular Links

x