খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আবারও শাহবাগ ‘‘ব্লকেড’’ (অবরোধ) ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনরত একদল শিক্ষার্থী।
বুধবার (২৩ এপ্রিল) বিকেলে রাজু ভাস্কর্যের সামনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মোসাদ্দিক আলী ইবনে মুহাম্মদ এ ঘোষণা দেন।
ঘোষণা অনুযায়ী, পদত্যাগের দাবিতে বুধবার রাত সাড়ে ৯টায় তারা পুনরায় শাহবাগ অবরোধ করবেন। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার রাতে তারা শাহবাগ অবরোধ করেছিলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, সরকারি সাত কলেজ ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এই আন্দোলনের রয়েছেন বলে জানিয়েছেন মোসাদ্দিক।
মোসাদ্দিক আলী বলেন, “কুয়েটের উপাচার্য শিক্ষার্থীদের পর্যায়ক্রমে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছেন। অনশনরত কয়েকজন শিক্ষার্থী ইতোমধ্যেই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আর কাউকে যেন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে না হয়।”
এছাড়াও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে উপাচার্যকে সসম্মানে পদত্যাগ করার আহ্বান জানান তিনি। না হলে কীভাবে পদত্যাগ করাতে হয়, তা ছাত্রসমাজ জানে বলে হুঁশিয়ারি দেন এই শিক্ষার্থী।
মোসাদ্দিক আরও বলেন, “কয়েক দিন ধরে বিক্ষোভ মিছিল করা হচ্ছে। গতকাল রাতে শাহবাগ অবরোধ করা হয়। কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এতে ভ্রুক্ষেপ না করে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য করছে। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে অফিস ছুটির সময় অবরোধ না করে বুধবার রাত সাড়ে ৯টায় শাহবাগ ব্লকেড করা হবে।”
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাসুদ রানা বলেন, “কুয়েট শিক্ষার্থীদের আমরণ অনশনের প্রতি সংহতি জানিয়ে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতীকী অনশন পালন করা হচ্ছে। এত কিছুর পরও ভিসিও এখনও তার পদে বহাল রয়েছেন। যদি ভিসি পদত্যাগ না করে, তাহলে আমরা দেশব্যাপী ‘লং মার্চ টু কুয়েট’ কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো।”
কুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী জিহাদুল তালুকদার বলেন, “দেশের প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয় এখন এক খণ্ড কুয়েটে পরিণত হয়েছে। সবার দাবি একই। সবাই ভিসি মাছুদের পদত্যাগ চান। আমি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি অনুরোধ জানাই, যত দ্রুত সম্ভব আপনারা কুয়েটের ভিসিকে অপসারণ করুন।”
উল্লেখ্য, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি কুয়েটে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় শতাধিক ব্যক্তি আহত হন। পরদিন প্রশাসনিক ভবনসহ সব একাডেমিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা। ওই দিন দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় কুয়েটে সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়াও ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে সব আবাসিক হল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
আবাসিক হলগুলো খুলে দেওয়ার দাবিতে কুয়েটের শিক্ষার্থীরা ১৩ এপ্রিল বিকেল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিলে আন্দোলন আবারও দানা বাঁধতে শুরু করে। ১৪ এপ্রিল রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় সংঘর্ষে জড়িত থাকার অভিযোগে ৩৭ শিক্ষার্থীকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার এবং আগামী ২ মে থেকে সব আবাসিক হল শিক্ষার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হবে বলে সিদ্ধান্তের কথা জানায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এর পরে ১৫ এপ্রিল শিক্ষার্থীরা উপাচার্য মুহাম্মদ মাছুদের পদত্যাগের এক দফা দাবির ঘোষণা দেন। ঘোষণার পর আন্দোলনকারীরা কুয়েটের ছেলেদের ছয়টি হলের তালা ভেঙে হলগুলোতে অবস্থান নেন। পরদিন দুপুরে উপাচার্য মুহাম্মদ মাছুদের পদত্যাগের দাবিতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা।
এদিকে বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় ৩৭ জন শিক্ষার্থীর সাময়িক বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার ও সব আবাসিক হল খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।



