Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

কারাগারে ইডেনের সেই ছাত্রীকে বিয়ে করেছেন নোবেল

ওই নারীকে আটকে রেখে ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয় নোবেলের বিরুদ্ধে

আপডেট : ২০ জুন ২০২৫, ১০:০৫ এএম

ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করা ইডেন মহিলা কলেজের সেই ছাত্রীকে বিয়ে করেছেন গায়ক মাইনুল আহসান নোবেল। নোবেল ও পাত্রী ইসরাত জাহান প্রিয়ার উপস্থিতিতে তাদের বিয়ে হয়।

বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে কারা কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে তাদের বিয়ে হয়েছে। ঢাকা বিভাগের কারা উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন্স) মো. জাহাঙ্গীর কবির এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গত ১৮ জুন ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে গায়ক মাঈনুল আহসান নোবেলের কাবিনমূলে বিয়ের ব্যবস্থা করার জন্য কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন আদালত। নোবেলের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তার বুধবার এই আদেশ দেন। এ সময় ধর্ষণ মামলার বাদী আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া আসামি নোবেলের পক্ষ থেকে আদালতে লিখিতভাবে বিয়ে করার জন্য অনুমতি চাওয়া হয়। বাদী ও আসামি উভয় পক্ষের সম্মতি সাপেক্ষে বিয়ের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন আদালত।

গত ১৯ মে নোবেলের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, নির্যাতন ও পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা করেন ইডেন মহিলা কলেজের সাবেক ওই শিক্ষার্থী। মামলা দায়েরের পরই নোবেলকে ডেমরা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সেদিন নোবেলের আইনজীবী আদালতের কাছে দাবি করেছিলেন, যে নারী ধর্ষণের অভিযোগ এনেছেন, তিনি তার স্ত্রী। তিনি ধর্ষণ করেননি।

ওই নারীকে স্ত্রী হিসেবে দাবি করলেও আদালতে কাবিননামা জমা দিতে পারেননি নোবেলের আইনজীবী জসীম উদ্দিন। ওই নারীকে সাত মাস ধরে একটি বাসায় আটকে রেখে ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয় নোবেলের বিরুদ্ধে।

এদিকে মামলার অভিযোগে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুক্তভোগী ইডেন কলেজের ছাত্রীর সঙ্গে নোবেলের পরিচয় হয়। এরপর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত বছরের ১২ নভেম্বর নোবেল তার স্টুডিও দেখানোর কথা বলে ওই ছাত্রীকে ডেমরা থানাধীন তার বাসায় নিয়ে যায়। এরপর কয়েকজন আসামির সহায়তায় আটকে রাখে। সেদিন রাত অনুমান ৮টার সময় ওই ছাত্রীর মোবাইল নিয়ে নেয়। সে তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলার জন্য নোবেলকে মোবাইল ফেরত দিতে বললে নোবেল ২৬ হাজার টাকার রেডমি-১০ প্রো মোবাইলটি ভেঙে ফেলে।

এরপর নোবেল তার বসতঘরে আটক রেখে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ এবং এর ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করে। নোবেলের কথামতো বাসায় না থাকলে তার মোবাইল ফোনে ধারণ করা ধর্ষণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেবে মর্মে বলে জানায়। তাই বাদী আসামির ভয়ে কাউকে কোনো কিছু বলার সাহস পাননি।

এরপর আসামি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় বিভিন্ন তারিখ ও সময় বাদীকে মারধর করতো। আসামি তার সহযোগী অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ জনের সহায়তায় বাদীকে চুলের মুটি ধরে টানাহেচড়া করে অপর একটি কক্ষে আটক করে রাখে। ওই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর বাদীর বাবা-মা বাদীকে চিনতে পারে। এরপর বাদীর বাবা-মা তাকে খোঁজাখুজি করা অবস্থায় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এ কল দিলে গত ১৯ মে রাত সাড়ে ৯টায় নোবেলকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ডেমরা থানায় অপহরণের পর ধর্ষণের অভিযোগে নোবেলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।

   

About

Popular Links

x