নাটোরের গুরুদাসপুরে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) কর্মকর্তা পরিচয়ে পাঁচ লাখ টাকা ঘুষ নিতে গিয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন নাজমুল হোসেন (৩২) নামের এক যুবক। পরে তাকে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
রবিবার (৩ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে এনএসআই, সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে উপজেলা মডেল মসজিদের সামনে থেকে নাজমুল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
নাজমুল গুরুদাসপুর পৌরসভার খামারনাচকৈড় মহল্লার বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, নাজমুল হোসেন নিজেকে এনএসআইয়ের মাঠ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে সম্প্রতি গুরুদাসপুর উপজেলা খাদ্যগুদাম কর্মকর্তার কার্যালয়ে ফোন দেন।
এ বিষয়ে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের প্রধান সহকারী জুলহাস উদ্দিন বলেন, “নাজমুল নিজেকে এনএসআইয়ের মাঠ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ফোন দেন। এছাড়া, কার্যালয়টি খাওয়ার অনুপযোগী চাল কিনেছে এবং তদন্তে তা প্রমাণিত হয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এমন একটি ভুয়া চিঠিও কার্যালয়ে পাঠান। তিনি ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার কথা বলে পাঁচ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। এরপর গত তিনদিন ধরে গুরুদাসপুর খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিনুল ইসলামের কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে আসছিলেন।”
জুলহাস জানান, নাজমুলের কথাবার্তায় সন্দেহ হলে উপজেলা খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা বিষয়টি জেলা খাদ্য কর্মকর্তাকে জানান। জেলা খাদ্য কর্মকর্তা নাটোরের এনএসআই কার্যালয়ে জানালে তারা নিশ্চিত হন নাজমুল এনএসআই কর্মকর্তা নন।
জানা গেছে, এরপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় নাজমুলকে আটকের পরিকল্পনা করে এনএসআই। পরে রবিবার রাতে তাকে ঘুষের টাকা নেওয়ার জন্য মডেল মসজিদের সামনে আসতে বলা হয়। ভুয়া এনএসআই কর্মকর্তা নাজমুল টাকা নিতে এলে সেখানে থাকা সেনাবাহিনী, এনএসআই ও পুলিশ সদস্যরা তাকে হাতেনাতে আটক করেন।
জিজ্ঞাসাবাদে আটক নাজমুল নিজেকে প্রকৌশলী বলে দাবি করেন। তিনি জানান, এই প্রথম এমন কাজে জড়িয়েছিলেন তিনি। পরে নাজমুলকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয় বলে নিশ্চিত করেন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক রেজাউল হক খন্দকার।
গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসমাউল হক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “এ ঘটনায় জুলহাস উদ্দিন বাদি হয়ে থানায় মামলা করেছেন। নাজমুল হোসেনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। সোমবার তাকে আদালতে পাঠানো হবে।“



