Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

গোপালগঞ্জে ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ শিক্ষক বহিষ্কার

এর আগে অন্য আরেকটি শ্লীলতাহানির মামলায় অভিযুক্ত ওই শিক্ষক ২-৩ মাস জেল খেটেছেন

আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২৫, ০৫:৫২ পিএম

গোপালগঞ্জে এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে ক্ষোভের মুখে স্কুল শিক্ষককে সামরিক বহিষ্কার করা হয়েছে।

এ ঘটনা তদন্তে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ২০ আগস্টের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সাময়িক বহিষ্কৃত স্কুল শিক্ষকের নাম মোহাম্মদ মিরাজ হোসেন। তিনি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার করপাড়া ইউনিয়ন বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামাজিকবিজ্ঞান বিষয়ক শিক্ষক।

রবিবার (১০ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে স্কুলের প্রধান শিক্ষক কমলেশ বিশ্বাস এসব তথ্য জানিয়েছেন।

প্রধান শিক্ষক কমলেশ বিশ্বাস বলেন, “গত ৬ আগস্ট সপ্তম শ্রেণির ওই ছাত্রীর জন্মদিন ছিল। স্কুল ছুটির পর বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে পৌনে ৫টার দিকে বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত ভবনে জন্মদিনের অনুষ্ঠান করেন ওই শিক্ষকসহ শিক্ষার্থীরা। জন্মদিনের অনুষ্ঠান শেষে ওই শিক্ষার্থী ভুল করে সেখানে একটি ডায়েরি রেখে চলে আসে। পরে সে সেখানে ডায়েরি আনতে যায়। তখন শিক্ষক মোহাম্মদ মিরাজ হোসেন তাকে একা পেয়ে তার সঙ্গে অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ আচরণ করেন।”

তিনি আরও বলেন, “এরপর ওই শিক্ষার্থী কাঁদতে কাঁদতে পরিত্যক্ত ভবনের ওই রুম থেকে বেরিয়ে আসে। সহপাঠীসহ অন্যান্য শিক্ষার্থীদের বিষয়টি সে জানায়। এ ঘটনায় পরদিন ৭ আগস্ট শিক্ষার্থীরা অভিযুক্ত শিক্ষকের পদত্যাগের দাবিতে আমার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। এ ব্যাপারে পরে আমি ৫০ জন শিক্ষার্থীর সাক্ষ্য গ্রহণ করে ঘটনার সত্যতা পাই।”

প্রধান শিক্ষক বলেন, “ওই শিক্ষক আগেও স্কুলে একই ধরনের ঘটনা ঘটান। তখন ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। অভিযুক্ত শিক্ষক ওই ঘটনায় ২-৩ মাস জেল খেটেছেন। পরে আপস-মীমাংসা করে তিনি মামলা থেকে রক্ষা পান।”

এদিকে, রবিবার সকাল ১০টায় স্কুল খোলার পর শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে ওই শিক্ষকের পদত্যাগের দাবিতে স্কুল ক্যাম্পাসে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। এ সময় তারা শিক্ষকের পদত্যাগ দাবি সম্বলিত ব্যানার, ফেস্টুন ও প্লাকার্ড বহন করে। স্লোগানে স্লোগানে শিক্ষার্থীরা স্কুল প্রাঙ্গণ উত্তাল করে তোলে।

খবর পেয়ে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির (অ্যাডহক) সভাপতি প্রধান শিক্ষক, শিক্ষার্থীর অভিভাবকসহ অন্যান্যদের সঙ্গে কথা বলেন। শিক্ষার্থীর বাবাসহ উপস্থিত সবার কথা শুনে ঘটনার সত্যতা পান তিনি।এরপর তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করেন। শিক্ষকের সাময়িক বহিষ্কারের খবর স্কুলে এসে পৌঁছালে দুপুর আড়াইটার দিকে শিক্ষার্থীরা তাদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেয়।

এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানিয়ে স্কুল ম্যানেজিং অ্যাডহক কমিটির সভাপতি সেলিম তালুকদার বলেন, “অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রধান হয়েছেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার অরুণচন্দ্র মণ্ডল। কমিটির অন্য দু'জন সদস্য হলেন স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মফিজুর রহমান ও স্কুলের সহকারী শিক্ষক তাজভীন নাহার। আগামী ২০ আগস্টের মধ্যে তদন্ত কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযুক্ত শিক্ষক মিরাজ হোসেন দোষী সাব্যস্ত হলে তার বিরুদ্ধে  বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি তাকে স্থায়ী বহিষ্কারের সুপারিশ করা হবে।”

   

About

Popular Links

x