গত জুলাই মাসে সারাদেশে ৫০৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫২০ জন নিহত এবং ১,৩৫৬ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৬২টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৬৯ জন এবং আহত হয়েছেন ১৪৪ জন। যা মোট দুর্ঘটনার ৩২.০১%, নিহতের ৩২.৫০% এবং আহতের ১০.৬১%।
মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানিয়েছেন।
সংগঠনটি জানিয়েছে, জুলাই মাসে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে ১২২টি দুর্ঘটনায় ১৩০ জন নিহত ও ২৯৫ জন আহত হয়েছেন। সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে বরিশাল বিভাগে, ২৩টি দুর্ঘটনায় ২৩ জন নিহত ও ৯৫ জন আহত হয়েছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, এ সময় সড়ক দুর্ঘটনায় পড়া ৭৪৮টি যানবাহনের মধ্যে ২৬.০৬% মোটরসাইকেল, ২৪.১৯% ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান ও লরি, ১৬.৮৪% বাস, ১৪.৮৩% ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক, ৬.২৮% সিএনজি অটোরিকশা, ৬.৮১% নছিমন-করিমন-মাহিন্দ্রা-ট্রাক্টর ও লেগুনা এবং ৪.৯৪% কার-জিপ-মাইক্রোবাস।
দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণ করে সংগঠনটি জানিয়েছে, ৪৮.২২% গাড়ি চাপা, ২৬.০৮% মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১৯.৯৬% নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়া, ৪.৩৪% বিবিধ কারণ, ০.৫৯% চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে এবং ০.৭৯% ট্রেন-যানবাহনের সংঘর্ষের ঘটনা।
এছাড়া আরও জানানো হয়েছে, ৪০.৩১% দুর্ঘটনা ঘটেছে জাতীয় মহাসড়কে, ২৯.২৪% আঞ্চলিক মহাসড়কে, ২৪.১১% ফিডার রোডে, ৪.৭৪% ঢাকা মহানগরীতে, ০.৭৯% চট্টগ্রাম মহানগরীতে এবং ০.৭৯% রেলক্রসিংয়ে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বর্ষায় সড়ক-মহাসড়কে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি, অবাধে ব্যাটারিচালিত যান চলাচল, রোড সাইন ও আলোকসজ্জার অভাব, ফিটনেসবিহীন ও পুরোনো যানবাহন, অদক্ষ চালক, উল্টোপথে চলাচল এবং চাঁদাবাজির মতো কারণগুলো দুর্ঘটনা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।
এ অবস্থায় যাত্রী কল্যাণ সমিতি জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক-মহাসড়ক মেরামত, বৃষ্টি সহনশীল সড়ক নির্মাণ প্রযুক্তি উদ্ভাবন, দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ, সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ এবং দীর্ঘমেয়াদি সড়ক নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।



