Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

গাজীপুর এখন হত্যা, সন্ত্রাস আর চাঁদাবাজির শহর

ছিনতাইয়ে বাধা দিলে হত্যার শিকার হচ্ছেন এ এলাকায় চলাচলকারীরা

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০২৫, ০৩:৪৭ পিএম

গাজীপুর একটি ব্যস্ত নগরী। রাজধানীর পার্শ্ববর্তী এই জেলা বাণিজ্যিক অঞ্চল হওয়ায় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ এসে এ জেলায় বসবাস করেন।

বর্তমানে হত্যা ও ছিনতাইকারীর রাজ্যে পরিণত হয়েছে গাজীপুর। দিনেদুপুরে প্রকাশ্যে ছিনতাইয়ের পাশাপাশি সন্ধ্যায়, রাতে এবং ভোরেও ছিনতাই হচ্ছে। পথচারী, রিকশা আরোহী যাত্রীদের থামিয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। প্রকাশ্যে অটোরিকশা থামিয়ে ছিনতাই, অস্ত্র ঠেকিয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনাও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। ছিনতাইকারীরা দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করায় প্রাণঘাতী ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটছে। ছিনতাইকারীদের দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে আহত হচ্ছেন নগরবাসী।

প্রকাশ্যে সাংবাদিককে কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যার ঘটনায় গাজীপুর হয়ে উঠেছে এখন আতঙ্কের জনপদ। সর্বশেষ সোমবার (১১ আগস্ট) গাজীপুরের টঙ্গীতে ছিনতাইয়ের অভিযোগে গণপিটুনিতে অজ্ঞাত এক যুবক (২৪) নিহত হয়েছেন। বিভিন্ন সময়ে ঘটে যাওয়া ছিনতাই এবং হত্যার যথাযথ তদন্ত ও বিচার হলে প্রকাশ্যে সাংবাদিক খুনের মতো ঘটনা ঘটত না বলে মনে করছেন গাজীপুরের সচেতন মহল। একের পর এক হত্যা, ছিনতাই এবং ছিনতাইয়ে বাধা দেওয়ার পর হত্যার মতো ঘটনা ঘটলেও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় গাজীপুরে আজকের এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। পোশাক শিল্পসহ ব্যবসা-বাণিজ্যের শহর গাজীপুরে এখন হত্যা, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সাংবাদিককে হত্যার পর গ্রেপ্তার আসামিরা পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রকাশ্যে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। তাদেরকে আদালতে নেওয়ার পথে প্রিজন ভ্যানের ভেতর থেকে তারা তাদের সহযোগীদের নাম প্রকাশ করলেও তারা এখনও পুলিশের ধরা-ছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন। আসামিদের হুমকিতে জেলার অন্য সাংবাদিকরাও আতঙ্কিত।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপির) তথ্যমতে, ২০২৪ সালে নগরের আট থানায় হত্যা মামলা হয়েছিল ৪৮টি। চলতি বছরে গাজীপুর মহানগরের আটটি থানায় গেল সাত মাসে (জানুয়ারী-আগস্ট) ৪৩টি হত্যার ঘটনা ঘটেছে। ২০২৪ সালের ১২ মাসে সদর থানায় হত্যা মামলা হয়েছিল আটটি। চলতি বছরের জানুয়ারী থেকে আগস্ট পর্যন্ত (সাত মাসে) সদর মেট্রো থানায় ১১টি হত্যা মামলা হয়েছে, যা মহানগরের অন্যান্য থানার তুলনায় বেশি।

এছাড়া চলতি বছর কাশিমপুর থানায় সাতটি, কোনাবাড়ীতে সাতটি, টঙ্গী পশ্চিম থানায় ছয়টি, টঙ্গী পূর্ব থানায় আটটি, গাছা থানায় পাঁচটি, পুবাইলে চারটি ও বাসন থানায় পাঁচটি হত্যা মামলা হয়েছে। অন্যদিকে, ২০২৪ সালে কাশিমপুর থানায় পাঁচটি, কোনাবাড়ী থানায় আটটি, টঙ্গী পশ্চিম থানায় পাঁচটি, টঙ্গী পূর্ব থানায় ছয়টি, গাছা থানায় নয়টি, পুবাইলে তিনটি এবং বাসন থানায় চারটি হত্যা মামলা হয়। ২০২৪ সালের তুলনায় চলতি বছরের সাত মাসে চুরি, ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়েছে কয়েক গুণ।

শনিবার (১৬ আগস্ট) রাত সোয়া ১১টায় মহানগরীর গাছা থানাধীন গাছা রোডের পূর্ব পাশে মহাসড়কের ওপর ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি আশিক চৌধুরীকে (৩২) কুপিয়ে দেড় লাখ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে মহানগরীর চান্দনা চৌরাস্তায় সাংবাদিক তুহিন হত্যাকাণ্ডের এক সপ্তাহ পর শরবত বিক্রেতা সাদ্দাম হোসেনকে ছুরিকাঘাতে আহত করেছে এক দুর্বৃত্ত।

শনিবার (৯ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে মহানগরীর চাপুলিয়া (ফাওকাল) রেল ব্রিজের নিচ থেকে পানিতে ভাসমান অবস্থায় অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

গাজীপুরের টঙ্গীতে ট্রাভেল ব্যাগ থেকে অজ্ঞাত যুবকের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার

শুক্রবার (৮ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে টঙ্গী স্টেশন রোড এলাকা থেকে ট্রাভেল ব্যাগে পলিথিনে মোড়ানো পরিবহন শ্রমিক অলি মিয়ার (৩৫) মাথাবিহীন আট টুকরো লাশ উদ্ধার করা হয়।

বুধবার (৬ আগস্ট) বিকালে মহানগরীর সাহাপাড়া এলাকায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে আনোয়ার হোসেন সৌরভ (৩৫) নামে এক সাংবাদিক পুলিশের সামনেই চাঁদাবাজদের বেধড়ক মারধরের শিকার হয়েছেন। একইদিন মহানগরীর কোনাবাড়ি এলাকা থেকে অটোরিকশা চালকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

বুধবার (৯ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে আব্দুল্লাহপুর ফ্লাইওভার থেকে নামার সময় ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে বরিশালের সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের অর্থনীতি বিভাগের সম্মান প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থী মাহফুজুর রহমানের (২১) মৃত্যু হয়। গত তিন মাসে জেলায় অন্তত ১৮টি লাশ উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে।

গত ২৭ জুন রাতে মহানগরীর কোনাবাড়ীতে গ্রিনল্যান্ড পোশাক কারখানার ভেতর চোর সন্দেহে মেকানিক হৃদয়কে (১৯) হাত-পা বেঁধে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

২৭ মে রাত সাড়ে ১১টায় কিশোর গ্যাং সদস্যদের দায়ের কোপে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ২ জুলাই নাসির পালোয়ান মারা যান।

১৭ মে টঙ্গী উড়াল সেতুতে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে পাবনার মজিদপুরের শামসুল হক খানের ছেলে রঞ্জু মিয়া (৩২) নিহত হন।

গাজীপুর শহর এখন আর আগের মতো নিরাপদ নয় এমন অভিযোগ উঠছে নগরবাসীর কাছ থেকে। বিশেষ করে সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও অলিগলিতে ছিনতাইয়ের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। একটি মোবাইল, কিছু টাকা তাতেই জীবন যায়। এমন ভীতিকর অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন সাধারণ পথচারী, শিক্ষার্থী, পোশাক শ্রমিক ও মধ্যরাতে চলাচলকারী শ্রমজীবী মানুষজন।

নগরবাসীর অভিযোগ, অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়া, অভিযোগ বা মামলা নিতে গড়িমসি করা, তদন্তে ধীরগতি; এসব কারণে পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা কমেছে। নগর পুলিশিং ব্যবস্থা বা সিসিটিভি মনিটরিং কার্যকর নয়। জনবহুল এলাকায় সিসিটিভি থাকলেও ফুটেজ ব্যবহার করে অপরাধী শনাক্তের নজির খুব কম। কেউ কেউ বলেন, পুলিশের অনেক সদস্যের ছিনতাইকারীদের সঙ্গে সখ্যতাও থাকতে পারে। তা না হলে সাংবাদিক হত্যার ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ কিভাবে আসামিদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করলো?

সচেতন নাগরিকরা মনে করেন, নাইট পুলিশিং বাড়াতে হবে, সিসিটিভি মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে, পথচারী নিরাপত্তা মোবাইল ইউনিট চালু করা, ভুক্তভোগীদের নিরাপদে মামলা করার সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

সিটি কর্পোরেশনের আলো ঝলমলে শহরেও যেখানে মানুষ ঘরে ফিরতে ভয় পাচ্ছে, সেখানে প্রশ্ন উঠেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কতটা কার্যকরভাবে কাজ করছে? টঙ্গী পূর্ব এবং পশ্চিম থানা এলাকার স্টেশন রোড, আব্দুল্লাহপুর, চেরাগআলী, মিলগেইট, কলেজগেইট, এরশাদ নগর, মুন্নু নগর, দত্তপাড়া, মাজার বস্তি, টঙ্গী বাজার, গাজীপুরা, আউচপাড়া, দিঘীরচালা, বাঁশপট্টি, কাদেরিয়া টেক্সটাইল, কোনাবাড়ী বাইমাইল (ময়লার ভাগাড়), কাশিমপুর এলাকার স্থানীয়দের ভাষ্য এসব স্থান ডেঞ্জার জোন যেখানে প্রতিনিয়তই হচ্ছে ছিনতাই। ছিনতাইকারীরা এসব স্থানে সন্ধ্যার পরপরই সক্রিয় হয়ে ওঠে। পথচারীদের অস্ত্র ঠেকিয়ে ছিনিয়ে নেয় মোবাইল, মানিব্যাগ ও স্বর্ণালঙ্কার। অনেক সময় ভুক্তভোগীরা মুখ খোলেন না। আইনের আশ্রয়ে গেলে সময়, টাকা-পয়সা খরচ হয় আর হয়রানি বাড়ে এমন ভীতি তাদের মনে গেঁথে গেছে। নিরাপত্তাহীনতার এই বাস্তবতা এখন শহরে ওপেন সিক্রেট।

নগরীর সচেতন নাগরিকরা মনে করেন, গাজীপুর শহর বর্তমান সময়ে এক অনিরাপদ বাস্তবতার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। সন্ধ্যা নামলেই শহরের চান্দনা চৌরাস্তা, শিববাড়ী, রেলগেইট, শাহপাড়া, কলাপট্টি, ভুরুলিয়া, শ্মশান এলাকা, টাঙ্কিরপাড়, হ্রদখলা, লক্ষ্মিপুরা, ছোট দেওড়া (কাজী বাড়ী), উত্তর বিলাশপুর, ওয়্যারলেস, ঝিগাতলী এলাকাগুলোতে যেন ভয় ছড়িয়ে পড়ে। একটি আধুনিক শহরের এমন নিরাপত্তাহীনতা শুধু পুলিশ নয়, প্রশাসনের ব্যর্থতাও তুলে ধরে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি নাগরিক সমাজকেও এ সমস্যা সমাধানে এগিয়ে না আসলে সমাধান সম্ভব নয়।

সরকার পরিবর্তনের পর ভয়ংকর হয়ে উঠেছে রাতের সংযোগ সড়কসহ অলিগলিগুলো। আগের মতো পুলিশি টহল না থাকার সুযোগ নিচ্ছে ছিনতাইকারীরা। বেড়েই চলেছে অপ্রত্যাশিত ঘটনাসহ হতাহতের ঘটনাও। চলমান এ ভীতিকর পরিস্থিতিতে এসব দুর্বৃত্তের লাগাম টানতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয়তা দরকার বলে মনে করছেন নগরবাসী। প্রশাসনের সক্রিয়তা বাড়লেই এসব সমস্যা সমাধান হবে বলে ধারণা সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গণের ব্যক্তিদের।

চান্দনা চৌরাস্তা দিয়ে নিয়মিত অফিসে যাওয়া-আসা করেন পোশাকশ্রমিক জয়নুল মিয়া। তিনি বলেন, “মাস খানেক আগে রাত ১০টায় অফিস ছুটির পর বাসায় ফিরছিলাম। চৌরাস্তা উড়াল সেতুর নিচ দিয়ে হেঁটে আসার সময় আমার মোবাইল ফোন ও নগদ ১,৫০০ টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে তিনজন। থানায় গিয়েছিলাম, অভিযোগ নিতেই চায়নি।”

শুধু জয়নুল মিয়া নন, গেল দুই মাসে অন্তত ৫০-১০০ জন এমন ঘটনার শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে। এর মধ্যে কয়েকজন শিক্ষার্থী ও নারী পোশাক শ্রমিকও আছেন, যারা ছিনতাইয়ের শিকার হলেও ভয়ে চুপ থাকেন।

পোশাক শ্রমিক আলেকজান (ছদ্মনাম) বলেন, “রাতে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার সময় মোবাইল কেড়ে নেয়। আমি ভয় পেয়েছি, তাই কিছু বলিনি।”

নগরীর শিববাড়ী এলাকায় বসবাস করেন ইকবাল হোসেন। তিনি জানান, আমি একটি ডায়গনেস্টিক সেন্টারের মেডিসিন সেক্টরে কাজ করি। প্রতিদিন রোগীদের চাপ থাকায় রাতে দেরি করে বাড়িতে ফিরতে হয়। রাতে বাসায় যাওয়ার সময় শিববাড়ী মোড়ে কিছু পোলাপান দাঁড়িয়ে থাকে। ওদের কাছে ছুরি চাকু থাকে। প্রায় সময় পথচারীদেরকে আটক করে ভয় দেখিয়ে টাকা পয়সা, মোবাইল-মানিব্যাগ হাতিয়ে নেয়। ৫ আগস্টের পর থেকে এটা বেড়ে গেছে। তার আগে পুলিশ আসতো। এখন তো পুলিশ আসেই না। তাই ছিনতাইকারীরাও সুযোগ পেয়ে মানুষকে হয়রানি করছে।

ভুরুলিয়া এলাকার বাসিন্দা ও একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মরত হাবিবুর রহমান বলেন, “পেশাগত কারণে আমি প্রায় সময় রাতে দেরিতে বাড়ি যাই। একদিন রাতে বাসায় ফিরছিলাম। তখন নতুন বিআরটি স্ট্যান্ডের সামনে কিছু বখাটে পোলাপান আমার রিকশা থামায়। আমার কোমরে ছুরি ঠেকিয়ে টাকা ও ফোন নিয়ে যায়। রিকশা ভাড়াটা পর্যন্ত দিতে পারি নাই। কোনোরকমে প্রাণে বেঁচে ফিরেছি। আমার ফোনের কাগজ হারিয়ে যাওয়ায় থানায় অভিযোগ করতে পারিনি। তিনি আরও জানান, শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে আগে রাত ৮টার পর থেকেই নিয়মিত পুলিশের টহল থাকতো। গত ৫ আগস্টের পর পুলিশ একেবারেই চোখে পড়ে না।

বিটিভির অভিনয় শিল্পী ও সাংবাদিক সৈয়দ শামসুল হুদা লিটন বলেন, “গাজীপুর শহরের জনসংখ্যা ও আর্থিক গতিশীলতা বাড়লেও আইনশৃঙ্খলার অনুপাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়েনি। ফলে অপরাধীরা সহজেই সুযোগ নিচ্ছে। প্রতিটি সড়কের মুখে সিসিটিভি যদি থেকেও থাকে সেগুলোর কার্যকর ব্যবহার নেই। ছিনতাই যদি চিহ্নিত অপরাধ হয়, তবে প্রতিটি ঘটনায় মামলা নিতে পুলিশ বাধ্য, এই আইনি মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।”

গাজীপুরে সাংবাদিককে মারধর

গাজীপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সাংবাদিক অধ্যাপক আমজাদ হোসেন বলেন, “আইনের শাসন না থাকলে, গণতন্ত্র না থাকলে এগুলো বেড়ে যায়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক না হওয়া পর্যন্ত সমাজে এই ধরনের ঘটনা ঘটতেই থাকবে। আমরা চাই পুলিশ আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনুক। প্রশাসন তাদের সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থান নিশ্চিত করুক। যতদিন তাদের সর্বশক্তি দিয়ে সক্রিয় না হচ্ছে ততদিন আমাদের এগুলো মোকাবিলা করতে হবে।”

গাজীপুর জেলা আইনজীবি সমিতির সদস্য এমদাদুল হক মাসুম বলেন, “মোড়ে মোড়ে ছিনতাই হচ্ছে। নানা কারণে পুলিশের উপর থেকে সাধারণ মানুষের আস্থা উঠে যাচ্ছে। এতে করে জনগণের সঙ্গে পুলিশের একটা দূরত্ব সৃষ্টি হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তৎপর হতে হবে। গাজীপুরে যারা দীর্ঘদিন যাবত কর্মরত ছিলেন তাদের বিভিন্ন ইউনিটে বদলি করা হয়েছে। যারা বদলি হয়ে গাজীপুরে এসেছেন তারা গাজীপুরের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে বুঝে উঠতে সময় নিচ্ছেন। এতে ছিনতাইকারীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।”

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) উপ-কমিশনার (ডিসি, ক্রাইম-উত্তর) রবিউল ইসলাম খুন, ছিনতাই এবং ছিনতাইয়ে বাধা দেওয়ার পর হত্যার মত ঘটনার বিষয়ে বলেন, “রাতে শহরের স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ছিনতাইকারীদের ধরতে অভিযান চলছে।”

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) কমিশনার ড. মো. নাজমুল করিম খান বলেন, “৫ আগস্টের পর অনেকগুলো শিল্প কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এক শ্রেণির লোক রাস্তায় ছিনতাই কাজে জড়িয়ে পড়ছে। যেকোনো জায়গায় কর্ম বন্ধ হয়ে গেলে তখন সেখানে ক্রাইম বেড়ে যায়, এটাই স্বাভাবিক। আমরা শিল্প কারখানা বন্ধ হওয়ায় আইনশৃংখলা পরস্থিতির জন্য হুমকি মনে করছি। পাশাপাশি যারা দীর্ঘদিন এখানে (চান্দনা চৌরাস্তা তথা গাজীপুর) যারা শাসন করেছে তাদের খুব জোরালো অবস্থান ছিল। ২০০১ সালে যে দলটি সারাদেশে ৫৮টি সিট পেয়েছে। ওই দলটি যখন গাজীপুরে ৫টি সিট পায়, তার মানে এই দলটি এখানে খুব শক্তিশালী একটি দল। সেই দল যখন রাজনীতি থেকে দূরে, তখন দলের সমর্থকরা চেষ্টা করছে পরিস্থিতি আনস্টেবল করতে। পুলিশ প্রতিনিয়তই তাদের নজরদারি করছে, আমাদের জন্য একটি বাড়তি বিষয় হয়েছে। ক্রাইমের প্রতি যতটুকু আমাদের মনোযোগ দেওয়ার কথা, এদিকে নজর দিতে গিয়ে সেদিকে আমরা নজর দিতে পারি না। সেই কারণে চান্দনা চৌরাস্তায় ক্রাইম বেড়েছে কি-না আমি জানিনা। আগের পরিসংখ্যান যদি দেখেন, ক্রাইম কিন্তু আগের মতোই আছে। আগের মতো থাকা আমার জন্য স্বস্তির বিষয় না। নগরবাসী সকলের সহযোগিতায় মানুষের স্বস্তি ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ করতে চাই।”

তিনি আরও বলেন, “বিশাল আয়তনের এই সিটি কর্পোরেশনের নিরাপত্তায় পুলিশের জনবল সংকট আছে। তবে শহরে যথেষ্ট টহল আছে। মাত্র ১,১০০ পুলিশ সদস্য দিয়ে কাজ চলছে পুরো মহানগর এলাকায়। তারপরও নগরবাসীর নিরাপত্তায় কাজ করছে তারা। সিটি কর্পোরেশনের তথ্যমতে, এ নগরীতে জনসংখ্যা প্রায় ৬৫ লাখ। সেই হিসাব মতে প্রতি ৫,৯০৯ জনের নিরাপত্তায় কাজ করছেন একজন পুলিশ সদস্য।”

   

About

Popular Links

x