বরিশালে স্বাস্থ্য খাত সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম নেতা মো. সুহানকে (২৩) আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে নগরের ফজলুল হক অ্যাভিনিউ এলাকায় নগর ভবনের সামনে থেকে তাকে আটক করা হয়।
এদিকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক-কর্মচারীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ডাকা ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেল তিনটায় তারা কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকদের প্রতিনিধি মো. নাজমুল হুদা। পাশাপাশি মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরাও আগামীকাল বুধবার থেকে ক্লাসে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন।
সুহানকে আটকের বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, “সুহান ফেসবুকে হাতে দাসহ ছবি পোস্ট করেছেন। এ জন্যই তাকে আটক করা হয়েছে।”
শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসককে মারধরের ঘটনায় সুহান জড়িত কি-না, সেটি তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এর আগে, গত রবিবার দুপুরে হাসপাতালের ফটকে বিক্ষোভকালে মেডিসিন বিভাগের এক চিকিৎসা কর্মকর্তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। স্বাস্থ্য সংস্কার আন্দোলন করা ব্যক্তিরা হামলায় জড়িত—এমন অভিযোগ তুলে তাদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সোমবার সকাল থেকে ধর্মঘটে যান ইন্টার্ন চিকিসৎসকেরা।
ছাত্র-জনতার ব্যানারে ২২ দিন ধরে বরিশালে আন্দোলন চলছে। আন্দোলনের অংশ হিসেবে ৮ আগস্ট থেকে গত বুধবার পর্যন্ত ছয় দিনে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়ক সাড়ে ২৯ ঘণ্টা অবরোধ করা হয়। একইসঙ্গে হাসপাতালের ফটকের সামনে কয়েকজন শিক্ষার্থী অনশন করছিলেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু জাফর বরিশালে এসে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, চিকিৎসক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে আলোচনা করে শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু তারা স্বাস্থ্য উপদেষ্টা বরিশালে না আসা পর্যন্ত আন্দোলন প্রত্যাহার করবেন না বলে জানান।
বৃহস্পতিবার দুপুরে হাসপাতালে অনশনকারী শিক্ষার্থীরা কয়েকজন কর্মচারীকে লাঞ্ছিত করেছেন, এমন অভিযোগে কর্মচারীরা একত্র হয়ে আন্দোলনকারীর ধাওয়া দেন। পরে তাদের অনশন কর্মসূচি পণ্ড হয়ে যায়। এরপর গত রবিবার আন্দোলনকারীরা বিক্ষোভ করে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে যান এবং সেখানে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। তারা হাসপাতালের ভেতরে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন এবং একজন চিকিৎসক ও দুজন কর্মচারীকে মারধর করেন বলে অভিযোগ। এর প্রতিবাদে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা সোমবার সকাল থেকে কর্মবিরতি শুরু করেন এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের সময়সীমা বেঁধে দেন।



